উদ্ধারকৃত চার শিশু-কোথায় মিলবে ঠাঁই?

চারটি শিশুর ছবি ছাপা হয়েছে শনিবারের সমকালে। অভিভাবকরা কি ছবি দেখে তাদের চিনতে পেরে কেঁদে বুক ভাসিয়ে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট কেন্দ্রে ছুটে গেছেন? এরা কি পথশিশু হিসেবেই বেড়ে উঠতে উঠতে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল? সাধারণত হারিয়ে যাওয়া শিশুদের কারও ঠাঁই হয় সরকারি-বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে, কেউ ফিরে যায় পিতা-মাতার কাছে, আবার কেউ কেউ পথশিশু হিসেবে অনাদরে বেড়ে ওঠে। কোনো কোনো কন্যাশিশু নিষিদ্ধ পল্লীতেও আশাহীন ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে বাধ্য হয়। আবার পাচারকারীদের হাতে পড়ে কত শিশু যে কোথায় হারিয়ে যায়, কেউ জানে না।


রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত চার শিশুর কথা জানা গেল সমকালের প্রতিবেদনে। তাদের রাখা হয়েছে তেজগাঁও থানা সংলগ্ন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। এদের মধ্যে একটি শিশু পিতা-মাতার নাম আংশিক বলতে পেরেছে। তবে কে কোন এলাকায় থাকে এ তথ্য কেউই দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত যদি দেখা যায়, এদের নিতে কোনো পিতা-মাতা বা অভিভাবক এগিয়ে আসেননি তাহলে তাদের ঠাঁই কোথায় হবে?
সাধারণত গরিব পিতা-মাতার সন্তানদেরই এমন পরিণতি ঘটে। তাদের অনেকের অক্ষরজ্ঞানও থাকে না। আর্থিক সঙ্গতিও থাকে না। তাই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সন্তানের সচিত্র নিখোঁজ সংবাদ প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রদান তো আরও দুঃসাধ্য। পুলিশেরও কোনো দায় পড়েনি যে পরিবারের হয়ে বিজ্ঞপ্তি-বিজ্ঞাপন প্রচার করবে। এ কারণে হারিয়ে যাওয়া অনেক শিশুর সন্ধান আর মেলে না। তবে এ চারটি শিশুকে ভাগ্যবানই বলতে হবে_ তারা প্রাণে বেঁচে আছে এবং দেশেই নিরাপদ হেফাজতে রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের অনেকে পাচারকারীদের হাতে চলে যায়। কেউ কেউ বেওয়ারিশ লাশ হয়ে যায়। পুলিশের উদ্ধারকৃত চারটি শিশু যেন তাদের পিতা-মাতার সানি্নধ্যে ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো উদ্যোগী ভূমিকা নিতে পারে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোও এগিয়ে আসতে পারে। কিন্তু সমস্যার তো এখানেই শেষ নয়। এমন আরও কত শিশু হারিয়ে গেছে কে জানে। আগামীতেও হারানোর শঙ্কা রয়েছে। তাই প্রত্যাশা বাড়তি সচেতনতার_ পরিবার, সমাজ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সবার তরফে

No comments

Powered by Blogger.