পবিত্র কোরআনের আলো-নবী লুত (আ.) ও তাঁর সীমা লঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়ের কাহিনী

৮. ফাআখাযাতহুমুর্ রাজফাতু ফাআসবাহূ ফী রাবি্বহিম জা-ছিমীন।৭৯. ফাতাওয়াল্লা- আ'নহুম ওয়া ক্বা-লা ইয়া-ক্বাওমি লাক্বাদ আবলাগতুকুম রিছালাতা রাব্বী ওয়া নাসাহ্তু লাকুম ওয়ালা-কিল্লা তুহিব্বূনা ন্না-সিহীন।
৮০. ওয়া লূত্বান ইয্ ক্বা-লা লিক্বাওমিহী আতা'তূনাল ফাহিশাতা মা- ছাবাক্বাকুম বিহা- মিন আহাদিম্ মিনাল আ'-লামীন।৮১. ইন্নাকুম লাতা'তূনার্ রিজালা শাহ্ওয়াতাম্ মিন দূনিনি্নছায়ি; বাল আনতুম ক্বাওমুম্ মুছরিফূন।


[সুরা : আল-আ'রাফ, আয়াত : ৭৮-৮১]

অনুবাদ
৭৮. পরিণামে এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করে ফেলল। ফলে তারা নিজেদের ঘরেই মুখ থুবড়ে পড়ে রইল।
৭৯. অতঃপর নবী সালেহ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্যত্র চলে গেলেন। তিনি আফসোস করে বলেন, হে আমার সম্প্রদায়, আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বার্তা পেঁৗছে দিয়েছিলাম এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছিলাম, কিন্তু তোমরা তো কল্যাণকামীদের পছন্দ করলে না।
৮০. আর আমি নবী লুতকে পাঠিয়েছিলাম। যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ না, যা তোমাদের আগে সারা দুনিয়ায় আর কেউ করেনি?
৮১. তোমরা কামেচ্ছা পূরণের জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষদের কাছে যাও। বরং তোমরা তো এমন এক সম্প্রদায়, যারা সভ্যতার সীমালঙ্ঘন করে ফেলেছ।

ব্যাখ্যা
৭৮ ও ৭৯ নম্বর আয়াত দুটিতে আগের আয়াতের ধারাবাহিকতায় হজরত সালেহ (আ.)-এর সামুদ জাতির ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। ঔদ্ধত্যের ফসল হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে নেমে আসা প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে সেই জাতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, নবী সালেহ (আ.)ও তাদের পরিত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।
৮০ ও ৮১ নম্বর আয়াতে এসেছে একই ধারার নতুন প্রসঙ্গ। নবী লুত (আ.) ও তাঁর অর্ধ-অসভ্য জাতির কাহিনী। লুত (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশের লোক। তিনিও বর্তমান ইরাকের বেবিলন থেকে ফিলিস্তিন অঞ্চলে গিয়েছিলেন। জর্দানের সাদুম এলাকায় একটি অর্ধ-অসভ্য জাতিকে আল্লাহর পথে আনার দায়িত্ব দিয়ে নবী করে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। এই জাতির সর্বাধিক নিকৃষ্ট ধরনের বৈশিষ্ট্য হলো_তারা ছিল সমকামী। লুত (আ.) তাদের কাছে আল্লাহর বিধান পেঁৗছালেন এবং পাপাচারের শাস্তি সম্পর্কে সচেতন করলেন। কিন্তু তারা কিছুতেই নিজেদের অশ্লীলতা ত্যাগ করে সুস্থ সভ্যতা গড়ে তোলার পথে এল না। তারা লুত (আ.)-কে সেই জনপদ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল। পরিণামে সেই জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তি নেমে এল। তাদের ওপর পাথরের বৃষ্টিবর্ষণ করা হলো এবং পুরো জনপদ ধ্বংস করে দেওয়া হলো। ওই সম্প্রদায়ের সঙ্গে লুত (আ.)-এর কোনো রক্তসম্পর্ক ছিল না। অর্থাৎ তিনি সেখানে জন্মাননি। তবুও এ আয়াতে এদের তার কওম বলা হয়েছে। কারণ লুত (আ.)-কে এ জাতির নবী করে পাঠানো হয়েছিল। লুত (আ.)-এর কওমের ঘটনার সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় সুরা হুদে (১১ : ৬৯-৮৩)।

গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments

Powered by Blogger.