তিস্তা চুক্তি নিয়ে কিছু মানুষ জটিলতা তৈরি করছে : মমতা by সুব্রত আচার্য্য,

কিছু মানুষ তিস্তা চুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক আছে এবং থাকবে।গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘনিষ্ঠ মহলে ঢাকা সফর বাতিল করার কথা জানান মমতা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এ নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে শুরু হয় টানাপড়েন। গোটা ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এত দিন তিনি এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্যই করেননি।


গতকাল শনিবার দিলি্লতে তিস্তা ইস্যুতে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া 'ইতিবাচক' ধরে নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার করতে চাইছে দিলি্লর কূটনৈতিক মহল। তবে কিছু মানুষ তিস্তা নিয়ে জটিলতা তৈরি করতে চাইছে বলে মমতা আসলে কার দিকে আঙুল তুলেছেন, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে কূটনৈতিক মহলে।
শনিবার দুপুরে রাজধানী দিলি্লতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, 'তিনবিঘার অনুষ্ঠান নিয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তা ছাড়া এটা দিলি্ল-ঢাকার ব্যাপার। এখানে রাজ্য সরকারের করার কী আছে।'
১৯ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের ভূখণ্ডের ভেতর বাংলাদেশি ছিটমহল আঙ্গরপোতা ও দহগ্রাম পরিদর্শনে যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা প্রত্যাশা করেছিল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু সেটা না হওয়ায় নতুন করে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
গতকাল সকাল থেকে দিলি্লতে ভারতের জাতীয় উন্নয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়। রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রীরা তাতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুরে বৈঠক শেষে মমতা অর্থমন্ত্রী প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসেন। এর ফাঁকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা তাঁকে নানা প্রশ্ন করেন।
মাওবাদীদের নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, 'আমি আলটিমেটাম দিলেও আলোচনার রাস্তা খোলা আছে। কেউ যদি আত্মসমর্পণ করে, তবে সরকার তার যাবতীয় সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে। মাওবাদীদের হত্যার রাজনীতি দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করছে বলেও মনে করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যও দাবি করেন মমতা। তিনি বলেন, 'অন্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দিলে চলবে না। রাজ্যের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ প্যাকেজ দিক পশ্চিমবঙ্গকে।'

বালা উদ্ধার নিয়ে বিভ্রান্তি
মমতা ব্যানার্জির ছিনতাই হওয়া হাতের বালা নিয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সঠিক কোনো তথ্য ছিল না পুলিশ প্রশাসনের কাছে। যদিও শুক্রবার গভীর রাতে ছিনতাই হওয়া বালাটি উদ্ধার করার খবর দিয়েছে স্থানীয় পত্রিকাগুলো। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উদ্ধার করা বালা নিয়ে পুলিশও বিভ্রান্ত।
উত্তর চবি্বশ পরগনার জেলা পুলিশ সুপার চম্পক ভট্টাচার্য শনিবার সন্ধ্যায় বলেছেন, বালাটি আদৌ মুখ্যমন্ত্রীর কি না সেটা একমাত্র তিনিই বলতে পারবেন।
ফলে উদ্ধার হওয়া বালা নিয়ে এখনো চলছে রীতিমতো হৈচৈ। কলকাতার কোনো কোনো মিডিয়া দাবি করেছে, বালাটি সোনার ছিল। অথচ মুখ্যমন্ত্রী কোনো দিন সোনার বালা পরেননি। কিংবা যেটি ছিনতাই হয়েছিল, সেটিও ছিল লোহামিশ্রিত অন্য ধাতু দিয়ে তৈরি। এখানেও বিভ্রান্তি রয়েছে।
পুলিশ মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিলি্ল থেকে ফিরে এসে নিজের চোখে দেখলেই উদ্ধার হওয়া বালা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর হবে।
 

No comments

Powered by Blogger.