আবার মুখোমুখি শাহরিয়ার-এডওয়ার্ডস!

বাউন্সারের জবাব হুক করে মারা ছক্কা। ইটের জবাবে পাটকেল বলতে যা বোঝায় আর কি! ধ্রুপদী ক্রিকেট দ্বৈরথের এই দৃশ্যটি আজ মঞ্চস্থ হবে কি না, কে জানে! তবে মাঠের বাইরে কিন্তু ভদ্রতার পরাকাষ্ঠা হয়ে রইলেন নাটকের দুই কুশীলব। শাহরিয়ার নাফীস ও ফিদেল এডওয়ার্ডস। রাতের বৃষ্টিতে চষা ক্ষেত বনে যাওয়া আউটফিল্ডে কাল গড়ায়নি টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা। মাঠে অবশ্য এসেছিল দুই দলই। ড্রেসিংরুমের সামনে ক্রিকেটাররা বসে রইলেন অনেকক্ষণ। মুশফিকুর রহিম, ইমরুল কায়েস, নাজমুল হোসেনরা এক ফাঁকে গিয়ে দেখে এসেছেন উইকেট। বৃষ্টিস্নাত দিনে অপেক্ষার এই চিরন্তন চিত্র এগোচ্ছিল চিত্রনাট্য মেনে।


সেখানে হঠাৎই পাদপ্রদীপের আলো কেড়ে নিলেন ওই দুজন। আগের দিন মাঠের ক্রিকেটের পরশ শত্রু। কাল আবার ক্রিকেট-ভদ্রতার প্রতীক।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় দেখা হয়ে যায় শাহরিয়ার-এডওয়ার্ডসের। ক্যারিবিয়ানদের বিনয়ের প্রতিনিধি হয়ে এই ফাস্ট বোলারই শুরুতে জিজ্ঞেস করলেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের অবস্থা। পরশু তাঁর বাউন্সারেই তো নাক ফেটে গিয়েছিল শাহরিয়ারের। 'ওর সঙ্গে হাই-হ্যালো হলো। শুভ কামনা জানাল, যেন মাঠে নামতে পারি'_ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলারের সঙ্গে কথোপকথনের সারমর্ম জানালেন ১৮ বলে ২১ রান করে আহত অবসরে চলে যাওয়া এ বাঁহাতি। নিজে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়েও শাহরিয়ারের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে ভুললেন না এডওয়ার্ডস, 'আমি দুঃখিত যে এমনটা হয়ে গেল। এটি আসলে ক্রিকেটেরই অংশ। আমি ওকে শুভ কামনা জানিয়েছি। আশা করি, ও ফিরে এসে ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারবে।'
একটা সময় ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলারদের জন্য ব্যাটসম্যানদের নাক ফাটানো ছিল প্রায় ডাল-ভাত। সেই ওয়েস হল, রয় গিলক্রিস্ট, চার্লি গ্রিফিথ থেকে অ্যান্ডি রবার্টস, মাইকেল হোল্ডিং, জোয়েল গার্নার, ম্যালকম মার্শাল হয়ে কোর্টনি ওয়ালস, কার্টলি অ্যামব্রোস_ব্যাটসম্যানদের কত রক্তপাতই না ঘটিয়েছেন তাঁরা! সেই রামও নেই অযোধ্যাও নেই। হাল আমলের ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলারদের মধ্যে এডওয়ার্ডসের মধ্যেই মাঝেমধ্যে দেখা যায় কেবল ফাস্ট বোলারসুলভ সেই আগুন। অথচ ক্যারিয়ারে এটিই নাকি তাঁর প্রথম রক্ত ঝরানো, 'হয়তো আমার বলে কয়েকজনের আঙুল-টাঙুল ভেঙেছে। কিন্তু কারো রক্ত ঝরাইনি।' তা হোক। কুশল বিনিময়ের সময় শাহরিয়ারের হাত যেমন বন্ধুর আস্থায় ধরে রাখলেন, কালকের মেঘলা দিনে সেটি হয়ে রইল ক্রিকেট-ভদ্রতার পোস্টার!
তা না হয় হলো। কিন্তু খেলাটিই যে হলো না। আজও হবে কি না, তার সামনে হাঁ করে আছে বিশাল এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন। পরশু রাতের বৃষ্টির প্রভাবে পণ্ড হয়েছে কাল দিনের খেলা। যদিও সকাল থেকে সেখানে আর কোনো বৃষ্টি হয়নি। দুপুরের দিকে ঘণ্টা দুয়েকের তীব্র রোদ আশাবাদী করে তুলেছিল সবাইকে। কিন্তু সন্ধ্যার পর আধ ঘণ্টার ঝুম বৃষ্টিতে আবারও অনিশ্চিত টেস্টের ভবিষ্যৎ। অন্তত আজ দিনের তো বটেই।
কাল খেলা হয়নি বলে হতাশা সবারই আছে। সেটি আয়োজক বলুন কিংবা প্রতিপক্ষ। কিন্তু বাংলাদেশ দলের হতাশাটা ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বড্ড তীব্র। প্রথম দিনে তুলে নেওয়া গেছে ৪ উইকেটে ২৫৫ রান, এর ভিত্তির ওপর আজ রানের প্রসাদ গড়ে তোলার কথা ছিল। এরপর স্পিনার দিয়ে প্রতিপক্ষবধের কৌশল। কিন্তু বৃষ্টি একটি পুরো দিন খেয়ে নেওয়ায় এলোমেলো হয়ে গেল সব। হতাশার সেই অনুরণন ছিল কাল শাহরিয়ারের কণ্ঠে, 'খেলতে পারলে তো ভালো হতোই। আমরা খুব ভালো অবস্থায় আছি, তাই না? এমন সময় একটা দিন নষ্ট হওয়া আমাদের জন্য ভালো হলো না। তবে ব্যাপারটা আমাদের হাতে নেই। কাল (আজ) তাই আবার আমাদের সমান মনোযোগ দিয়ে শুরু করতে হবে।' হতাশার প্রতিধ্বনি এডওয়ার্ডসের কণ্ঠেও, 'ম্যাচের যে অবস্থায় আমরা আছি, সেখান থেকে খেলা না হওয়াটা আমাদের জন্য খুব হতাশার।'
অর্থাৎ ব্যাট-বলের লড়াই আবার শুরু হলে আবার জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিশ্রুতি। অবশ্য এর আগে আকাশের অনুমোদন মিলতে হবে যে!

No comments

Powered by Blogger.