Wednesday, May 23, 2012
প্রশাসন যেখানে ধ্বংসের সহযোগী-দখলে বিপন্ন ভাওয়াল শালবন
প্রশাসন যেখানে ধ্বংসের সহযোগী-দখলে বিপন্ন ভাওয়াল শালবন
বিলুপ্তির প্রায় শেষ সীমানায় পৌঁছেছে ভাওয়াল গড়ের শালবন। জমিদারিস্বত্ব থেকে সরকারের হাতে আসার গত ৬০ বছরে বনের আয়তন ও প্রাণবৈচিত্র্য কেবলই ধ্বংস হয়েছে। প্রভাবশালীদের দখল, কাঠচোর-চক্রের বৃক্ষ নিধন, অবৈধ কলকারখানা স্থাপন, উন্নয়ন প্রকল্প, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বানানো এবং সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গাজীপুরের এই প্রাচীন অরণ্য এখন বিপন্ন।
তার পরও কাগজে-কলমে মাত্র ৬৫ হাজার একর বলা হলেও বাস্তবে বনের আয়তন অনেক কম। সবই হয়েছে জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ তথা সরকারি নজরের সামনে। সরকার এখানে রক্ষক নয় ভক্ষকের সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ। ভাওয়ালের শালবনের ধ্বংসগাথা এক কথায় মর্মান্তিক ও অসহনীয়।
১৯৫০ সালে প্রজাস্বত্ব আইনে বনটি সরকারের হাতে নেওয়া হয়। তারপর এটি বন বিভাগকে বুঝিয়ে দিতে বলা হলেও স্থানীয় জেলা প্রশাসন আজও তা করেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে বনভূমি ব্যক্তিমালিকানায় বন্দোবস্ত দিয়েছে আর ভূমি দপ্তরের মাধ্যমে বনের জমি দখলদারদের নামে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আইন, সরকারি সংস্থা, বন রক্ষার জন্য দেওয়া তহবিল কতটা বন বাঁচিয়েছে, আর কতটা ধ্বংস করেছে, সেই খতিয়ান আজ হওয়া প্রয়োজন।
১৯৮২ সালে ভাওয়াল অরণ্যকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকেই বন ও বনের প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। বনের ভেতর সড়ক বানাতে গিয়ে কাটা হয় বিপুলসংখ্যক বৃক্ষ। সম্প্রতি স্থানীয় সাংসদের উত্সাহে নতুন দুটি সড়ক বানাতে আবারও অজস্র বৃক্ষ কাটা হয়েছে। বিদেশি সহায়তাপুষ্ট সামাজিক বনায়ন প্রকল্পও গাজীপুরের শালবন বিপন্ন করার জন্য দায়ী। অর্থকরী বৃক্ষ লাগানোর নামে ইউক্যালিপটাস ও রাবারগাছে ভরিয়ে ফেলা হয় অনেক এলাকা। অনেক এলাকা চলে যায় কলা, আনারস চাষে। এসব কাজে তহবিল জুগিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক প্রভৃতি। সরকারিভাবে ১৮ শতাংশ বনভূমির কথা বলা হলেও এখন দেশে বনভূমির পরিমাণ মাত্র ৬ শতাংশ। এর বড় অংশটাই আবার কৃত্রিম বাগান ও সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য। ভাওয়ালের শালবন সারা দেশের বন বিপন্ন পরিস্থিতিরই চরম উদাহরণ।
এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই ভাওয়ালের শালবনের অস্তিত্ব থাকবে না। তাই অবিলম্বে সরকারকে বন রক্ষার জন্য তত্পর হতে হবে। যে ভুল উন্নয়ন ও বাণিজ্যচিন্তা বনের সর্বনাশ করেছে, সেই সব নীতি ও পন্থা বাতিল করতে হবে। ভাওয়ালের শালবন বিলুপ্তির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।
১৯৫০ সালে প্রজাস্বত্ব আইনে বনটি সরকারের হাতে নেওয়া হয়। তারপর এটি বন বিভাগকে বুঝিয়ে দিতে বলা হলেও স্থানীয় জেলা প্রশাসন আজও তা করেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে বনভূমি ব্যক্তিমালিকানায় বন্দোবস্ত দিয়েছে আর ভূমি দপ্তরের মাধ্যমে বনের জমি দখলদারদের নামে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আইন, সরকারি সংস্থা, বন রক্ষার জন্য দেওয়া তহবিল কতটা বন বাঁচিয়েছে, আর কতটা ধ্বংস করেছে, সেই খতিয়ান আজ হওয়া প্রয়োজন।
১৯৮২ সালে ভাওয়াল অরণ্যকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকেই বন ও বনের প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। বনের ভেতর সড়ক বানাতে গিয়ে কাটা হয় বিপুলসংখ্যক বৃক্ষ। সম্প্রতি স্থানীয় সাংসদের উত্সাহে নতুন দুটি সড়ক বানাতে আবারও অজস্র বৃক্ষ কাটা হয়েছে। বিদেশি সহায়তাপুষ্ট সামাজিক বনায়ন প্রকল্পও গাজীপুরের শালবন বিপন্ন করার জন্য দায়ী। অর্থকরী বৃক্ষ লাগানোর নামে ইউক্যালিপটাস ও রাবারগাছে ভরিয়ে ফেলা হয় অনেক এলাকা। অনেক এলাকা চলে যায় কলা, আনারস চাষে। এসব কাজে তহবিল জুগিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক প্রভৃতি। সরকারিভাবে ১৮ শতাংশ বনভূমির কথা বলা হলেও এখন দেশে বনভূমির পরিমাণ মাত্র ৬ শতাংশ। এর বড় অংশটাই আবার কৃত্রিম বাগান ও সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য। ভাওয়ালের শালবন সারা দেশের বন বিপন্ন পরিস্থিতিরই চরম উদাহরণ।
এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই ভাওয়ালের শালবনের অস্তিত্ব থাকবে না। তাই অবিলম্বে সরকারকে বন রক্ষার জন্য তত্পর হতে হবে। যে ভুল উন্নয়ন ও বাণিজ্যচিন্তা বনের সর্বনাশ করেছে, সেই সব নীতি ও পন্থা বাতিল করতে হবে। ভাওয়ালের শালবন বিলুপ্তির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
Recent Post of WikiBangla.Net
ডিডাব্লিউ
3/ডিডাব্লিউ/post-grid
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment