চরাচর-মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি by আলম শাইন

রাজধানী ঢাকার কাছেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা। এখানে মুড়াপাড়া নামক স্থানে রয়েছে ঐতিহাসিক এক জমিদারবাড়ি। বাড়িটি বানিয়েছিলেন জমিদার রামরতন ব্যানার্জি। মুড়াপাড়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর এই জমিদারবাড়ির অবস্থান। ১৮৮৯ সালে জমিদার রামরতন ব্যানার্জির উত্তরসূরি প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জির


ছেলে বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জি একতলা বাড়িটি নির্মাণ করেন। ১৯০৯ সালে জমিদার রামরতন ব্যানার্জির উত্তরসূরি জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জি ও আশুতোষ চন্দ্র ব্যানার্জি বাড়িটি দোতলা করেন। সুবিশাল বাড়িটি এখনো বেশ দৃষ্টিনন্দন। এতে কক্ষ রয়েছে ৯৫টি। এর মধ্যে রয়েছে জলসাঘর, কাছারিঘর, উপাসনালয়সহ প্রয়োজনীয় সব কিছু। বাড়ির ভেতর ঢুকতে হয় বিশাল ফটক পেরিয়ে। অন্দরমহলে ঢুকতে আরো দুটি ফটক পেরোতে হয়। সেখানে আছে নারীদের জন্য আলাদা স্নানপুকুর। জমিদারবাড়ির সামনে রয়েছে আরেকটি পুকুর। শানবাঁধানো পুকুরঘাটটি বেশ সুন্দর। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য পুকুরের চারপাশ লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা। এখানে এলে মানুষ মুগ্ধ হয়ে যে জিনিসটি দেখে তা হচ্ছে পুকুরের স্বচ্ছ জলে পুরো জমিদারবাড়ির টলমলে দৃশ্য, যা দেখলে সত্যিই মন ভরে যায়। পুকুরের পাশে রয়েছে একটি মন্দির। মন্দিরটিতে রয়েছে ২৫-৩০ ফুট উঁচু দুটি চূড়া। সেগুলো এখনো অটুট। জানা যায়, ১৯৪৭ সালে রামরতন ব্যানার্জির বংশধর জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জি জমিদারির মোহ ত্যাগ করে সপরিবারে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। এরপর ১৯৪৮ সালে বাড়িটি তৎকালীন সরকার দখলে নেয়। ১৯৬৬ সালে এই জমিদারবাড়িতে স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হয়। ফলে বাড়িটির বেশ কিছুটা অংশ সংস্কার করতে হয় নিজেদের খেয়ালখুশিমতো। এতে মূল জমিদারবাড়ির যৎসামান্য পরিবর্তন হয় বলে এলাকাবাসীর অভিমত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, জমিদার রামরতন ব্যানার্জির নাতি প্রতাপ ব্যানার্জি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। এ ছাড়া জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জি ছিলেন দিলি্লর কাউন্সিল অব স্টেটের পূর্ববঙ্গের নির্বাচিত সদস্য। এ অঞ্চলে তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেছেন প্রজাদের কল্যাণে, যা দৃষ্টান্ত হয়ে আছে আজও। আমাদের দাবি, এমন বিখ্যাত ব্যক্তির প্রাসাদোপম বাড়িটি সংরক্ষণ করা হোক। অবশ্যই যাতে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য আগে আলাদা ভবন স্থাপন করা উচিত। তাতে যেমন সমাগম হবে পর্যটকদের, তেমনি আমাদের ইতিহাসও কথা বলার সুযোগ পাবে। আমরা ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব বিশ্বের দরবারে।
আলম শাইন

No comments

Powered by Blogger.