পয়লা বৈশাখ স্পেশাল কম্পিটিশন

বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কম্পিটিশনের আয়োজন করা নতুন কিছু নয়। অতএব পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে স্পেশাল কিছু কম্পিটিশনের আয়োজন করা যেতেই পারে। সেই কম্পিটিশনগুলোর ধরন কেমন হতে পারে, তা-ই জানাচ্ছেন ইকবাল খন্দকার আঁকা: শিখা


লুঙ্গি পরার কম্পিটিশন
প্রতিযোগিতা নম্বর ১
‘বাঙালিশিপ’ বজায় রাখতে পয়লা বৈশাখে লুঙ্গি পরা নিয়েই আয়োজিত হতে পারে একটা প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় সবার হাতে একটা করে লুঙ্গি দেওয়া হবে। লুঙ্গিগুলোতে কড়া মাড় দেওয়া থাকবে, যাতে মচমচ আওয়াজ হয় এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা দুষ্কর হয়। ঘড়ি ধরে সবাইকে বলা হবে লুঙ্গি পরতে। সময় থাকবে এক মিনিট। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাড় দেওয়া এই লুঙ্গি কুঁচি নিয়ে এবং নিচের প্রান্ত সমান রেখে পরতে পারবে, তারাই হবে বিজয়ী। নিচের প্রান্ত ওপর-নিচ তথা অসমান হলেই ডিসকোয়ালিফাইড।

প্রতিযোগিতা নম্বর ২
বেল্ট দিয়ে প্যান্ট পরা সোজা হলেও গিঁট দিয়ে লুঙ্গি পরাটা অনেকের কাছেই কঠিন। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ঝাকানাকা কনসার্টের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগীরা লুঙ্গি পরে এই কনসার্টে নাচতে যাবে। নাচ শুরু করার আগেই বলে দেওয়া হবে, এখনই লুঙ্গি যতটা শক্ত করে পরার পরে নিতে। কারণ, কম্পিটিশন চলাকালে গিঁট ঢিলে হয়ে গেলে পরার চেষ্টা করা মানে ডিসকোয়ালিফাইড হওয়া। থ্রি টু ওয়ান জিরো অ্যাকশন বলার সঙ্গে সঙ্গে এই লুঙ্গিওয়ালারা নাচ শুরু করবে। কনসার্টের পুরো সময় যে লুঙ্গিতে হাত দেওয়া ছাড়াই নাচতে পারবে, সে-ই হবে বিজয়ী।

কাঁচা মরিচ কম্পিটিশন
প্রতিযোগিতা নম্বর ৩
কাঁটা চামচ দিয়ে যারা চায়নিজ খেয়ে অভ্যস্ত, তারা যে পান্তা ইলিশও কাঁটা চামচ দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করবে না, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। প্রতিযোগিতা হবে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার পর সানকির তলায় যে পানিটা জমবে, সেই পানিটুকু খাওয়া নিয়ে। বলা হবে কাঁটা চামচ দিয়ে এই পানি খেতে। যে কাঁটা চামচ দিয়ে সানকির তলায় জমে থাকা পানিটুকু সবার আগে খেতে পারবে, তাকেই বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। পাইপ দিয়ে খেলেই ডিসকোয়ালিফাইড।

নৃত্য কম্পিটিশন
প্রতিযোগিতা নম্বর ৪
নববর্ষের দিন প্রতিযোগীরা হাঁটা শুরু করবে রাজধানীর মৎস্য ভবন এলাকা থেকে। এখান থেকে হাঁটা শুরু করে রমনা পার্কের ভেতর দিয়ে আসতে হবে শিশুপার্কের সামনে। শিশুপার্কের সামনে থেকে শাহবাগ মোড়ে। শাহবাগ মোড় থেকে টিএসসি হয়ে চলে যেতে হবে দোয়েল চত্বর এলাকায়। ও হ্যাঁ, হাঁটা শুরু করার সময় কিন্তু অবশ্যই প্যান্টের পেছনের পকেটে মানিব্যাগ নিয়ে নিতে হবে। তো, এই লোকারণ্য এলাকা দিয়ে বেখেয়ালে হেঁটেও যদি আপনি মানিব্যাগ না হারিয়ে দোয়েল চত্বর তথা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে আপনিই বিজয়ী।

প্রতিযোগিতা নম্বর ৫
বৈশাখী মেলায় নানা আকারের মুখোশ পাওয়া যায়। এসব মুখোশের মধ্যে বাঘের মুখোশ অন্যতম। বাঘের মুখোশ তো আর বাঘেরা পরে না, তাই না? তার মানে মানুষই পরে। এই বাঘের মুখোশকেন্দ্রিক একটা কম্পিটিশনের আয়োজন করা যেতেই পারে। কম্পিটিশনটা হবে এই টাইপের—সবাই একটা করে মুখোশ কিনবে। তারপর রাত ১০টা-১১টার দিকে বাসায় ফিরে মুখোশটা মুখে লাগিয়ে বাসার জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরের দিকে উঁকি দেবে। ‘হালুম’ করে হালকা একটা সাউন্ডও দেওয়া যেতে পারে। তো হঠাৎ করে আবছা অন্ধকারে বাঘের মুখ দেখেও যারা ‘ও মাগো’ বলে চিৎকার দেবে না, তারাই হবে এই কম্পিটিশনের বিজয়ী।

No comments

Powered by Blogger.