আগের অবস্থানে অনড় আ.লীগ

বিরোধী দল এক দফার আন্দোলনে গেলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার বাইরে যাবে না সরকার। বরং রায়ের আলোকে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলকে সংসদে এসে প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলছে আওয়ামী লীগ। সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে এ অবস্থানের কথা জানা গেছে।


কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আদালতে ফয়সালা হয়ে গেছে। বিরোধীদলীয় নেত্রীকে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে সংসদে এসে কথা বলতে হবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির গতকালের বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগামী ১০ জুনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। নইলে এক দফার আন্দোলনে যেতে হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালে অনির্বাচিত ও অরাজনৈতিক সরকার চায় না। তাদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আদালতের রায়ের মূল চেতনা হচ্ছে, অনির্বাচিত কাউকে নিয়ে সরকার গঠন করা যাবে না। তবে রায়ের আলোকে অন্তর্বর্তী সরকার কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হবে না। বিরোধী দলকে সংসদে এসে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে।
সরকারের মধ্যে আবার কেউ কেউ মনে করেন, সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই অন্তর্বর্তী সরকার হতে হবে। কারণ, বর্তমান সরকারের সময়ে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ সব উপনির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিরোধী দল এমনকি গণমাধ্যমও এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। তা ছাড়া, উপনির্বাচনে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা মওদুদ আহমদ ও জমির উদ্দিন সরকার নিজ এলাকার বাইরে থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। সুতরাং নির্বাচনকালে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে।
তাই বিরোধী দলের এক দফার আন্দোলনের হুমকিকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা। তাঁরা মনে করেন, এক দফার আন্দোলন হবে অসাংবিধানিক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনবর্হালের দাবি আইনের শাসনের পরিপন্থী। কেননা, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এই ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এই আন্দোলনে জনসমর্থন পাওয়া যাবে না।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, বেগম জিয়া কয় দফার আন্দোলন করবেন, এটা তাঁর ব্যাপার। আন্দোলন করার গণতান্ত্রিক অধিকার বিরোধী দলের আছে। তবে আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে। অসাংবিধানিক ও অবৈধ কিছু আওয়ামী লীগ কখনো মানবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ আলোচনায় প্রস্তুত। তবে সংসদে গিয়ে প্রস্তাব দিতে হবে এবং তা রায়ের আলোকে হতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল সংঘাতের আশঙ্কা করলেও আওয়ামী লীগ সে রকম কিছু দেখছে না। দলটির মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের সময় যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল, এখন তা নেই। বিরোধী দল এই সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনেও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলতে পারেনি। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি তোলা হয়েছিল মাগুরা উপনির্বাচন ও ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।

No comments

Powered by Blogger.