ম্যালেরিয়ার ওষুধ-চাই আরও গবেষণা ও সতর্কতা

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের আসল ওষুধ আরটেমেসিনিনের কার্যকারিতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। ফলে বিশ্বের কোটি কোটি ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছে। বাংলাদেশের ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকাগুলোর আক্রান্ত রোগীদেরও একই ধরনের বিয়োগান্ত পরিণতি হতে পারে।


রোববার সমকালে 'ম্যালেরিয়ার আসল ওষুধই অকার্যকর' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ম্যালেরিয়া মোকাবেলায় বিশ্ব যে মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়েছে সেটা বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। তবে আশার কথা যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ আরটেমেসিনিনের কার্যকারিতা কীভাবে হ্রাস পায় এবং কীভাবে নতুন করে ম্যালেরিয়া মোকাবেলায় ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে গবেষণা কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকাগুলোতে গবেষণা পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক ও অন্যান্য ধরনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য আমাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না, প্রয়োজনে নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ করে এই ঘাতক ব্যাধির মোকাবেলা করতে হবে। গত কয়েক বছরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ার প্রবণতাকে আমাদের অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। তবে এ রোগ এখনও বড় ধরনের বিপদ হয়ে রয়েছে। ম্যালেরিয়া ছড়াতে পারে এমন উপাদান বা উৎসগুলোর বিনাশের জন্য আমাদের নিজস্ব সম্পদ নিয়েই প্রয়োজনে লড়তে হবে। চারদিক পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আন্দোলন ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকাগুলোতে জোরদার করতে পারলে এবং এ ব্যাপারে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারলে এই রোগ প্রতিরোধে ইতিবাচক ফল মিলতে পারে। তবে মূল জোর দিতে হবে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করার ওপর। আরটেমেসিনিনকে কী করে আবার এই ঘাতক ব্যাধির বিরুদ্ধে কাজে লাগানো যায় বা এর পরিবর্তে নতুন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে এর প্রতিরোধ নিশ্চিত করা যায়, সেটা গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত সন্ধান করতে হবে। তবে অধিকাংশ রোগীই যেহেতু আক্রান্ত হন মশাবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে, তাই মশার উৎসগুলো বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে এই রোগের হাত থেকে অনেকাংশেই রক্ষা করা যায়। একই সঙ্গে রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত ওষুধের কোর্স পুরোপুরি সম্পন্ন করার বিষয়টিও জরুরি।

No comments

Powered by Blogger.