বিনা অপরাধে সাজাভোগ-দায় তো পুলিশের

বিনা অপরাধে বা একজনের অপরাধে অন্যের সাজা খাটার ঘটনা নতুন নয়। মাঝে মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা মিডিয়ার কল্যাণে নাগরিক সমাজের দৃষ্টিগোচর হলে এ নিয়ে কিছুদিন হৈচৈ চলে। আবার সময় গড়িয়ে চলার সঙ্গে এক সময় সবাই এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনতুল্য ঘটনা বিস্তৃত হয়।


বুধবার সমকালের অপরাধ পাতায় 'বিনা অপরাধে রুদ্রের ১০ মাস সাজাভোগ' শিরোনামের সংবাদটির হতভাগ্য রুদ্রের যন্ত্রণাকাতর সময়ের কথাও এক সময় তেমনিভাবে হয়তো ঢাকা পড়ে যাবে। কিন্তু এই সংবাদটির মাধ্যমে আমাদের পুলিশি ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির পাপ বাসা বেঁধে আছে তার ছোবলে ব্যক্তি-সমাজের নীল হওয়ার কাহিনীর শেষ হবে না। অপু কুমার সরকার নামে একজন চোরাকারবারি বিজয় কুমার রুদ্রের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরি করে ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য আনতে গিয়ে ধরা পড়ে এবং কারাবাসের এক পর্যায়ে ওই অপরাধী জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। পাসপোর্টে প্রকৃত অপরাধীর ছবিটিই কেবল সঠিক ছিল আর সবই ছিল ভুয়া। আসামি বাইরে থাকা অবস্থায় তার শাস্তি হয়ে গেলে তখন তাকে গ্রেফতারের তাগিদ পড়ে। স্বভাবতই পুলিশ প্রকৃত অপরাধীর ব্যবহৃত ভুয়া ঠিকানায় হানা দেয়। সেখানে নিরপরাধ বিজয় কুমার রুদ্রকে তারা গ্রেফতার করে নিয়ে এসে জেলে ঢুকিয়ে দেয়। পুলিশ প্রকৃত সত্যটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বা জনপ্রতিনিধিদের কাছে জানতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। এখানেই প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার দায় তদন্তকারী ও গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তার ঘাড়ে এসে পড়ে। তাছাড়া অর্থের বিনিময়ে পাসপোর্টে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ চেপে যায় বা মাঠে গিয়ে সত্যাসত্য যাচাই করার প্রয়োজনবোধ করেনি। এখানেও কর্তব্যে অবহেলা ও দুর্নীতির দায় চাপে পুলিশের ওপরই। প্রশ্ন হলো, যাদের ওপর সমাজে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের গুরুদায়িত্ব তারাই যদি দায়িত্বে অবহেলা এবং দুর্নীতির দোষে দুষ্ট হয়, তাহলে সমাজে শান্তি-স্থিতি আসবে কী করে এবং নিরপরাধ রুদ্ররাই-বা জেলের হাত থেকে রেহাই পাবে কী করে? যেসব পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে বিনা অপরাধে রুদ্রকে ১০ মাস কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে সময় অতিবাহিত করতে হলো, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পুলিশি অপরাধের প্রকোপ কমে আসবে।
 

No comments

Powered by Blogger.