নবগঠিত ইসির প্রথম পরীক্ষা-দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সামনে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উৎসবের পরিবেশে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলে ইসি ও সরকারের পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল ও গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


বিচার বিভাগেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার সুযোগ অনস্বীকার্য। কালোটাকা ও পেশিশক্তির বাড়বাড়ন্ত ছাড়াও সরকারি প্রশাসন যন্ত্রের পক্ষপাত থেকে এ নির্বাচন যাতে মুক্ত থাকে; সংশ্লিষ্ট সব মহল যেন মেয়র ও কাউন্সিলর হিসেবে উত্তম প্রার্থী দিতে বিশেষভাবে মনোযোগী ও যত্নশীল হয়।
নির্দলীয় নির্বাচন হলেও মুখ্য প্রার্থীরা বাস্তবে মূল রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত বা আশীর্বাদপুষ্ট হবেন। একই পদে এক বা একাধিক দলীয় বা দল-সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়নে দলগুলো স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুশীলন করতে পারে। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে নির্বাচনী সংস্কৃতির মান নিচে নেমে গেছে। এই অবস্থার উত্তরণে শীর্ষ দলীয় নেতৃত্বকে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নাগরিক সমাজকে এ জন্য তাঁদের উৎসাহিত বা চাপ সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। দলে ভালো-মন্দের সহাবস্থান হয়তো অপ্রিয় বাস্তবতা। কিন্তু তুলনামূলকভাবে সৎ, যোগ্য, পরোপকারী ব্যক্তি সব দলেই থাকেন। তাঁদের বাদ দিয়ে যখন দুর্নীতিগ্রস্ত, মোসাহেব ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরাজয় ঘটে। ভোটের অনুষ্ঠান পর্যবসিত হয় একধরনের প্রহসনে।
নির্বাচনী আইন বলছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না। অথচ অনেক আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অমান্য করার প্রবণতা দেখিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারেনি। নির্বাচনী আচরণবিধি যাতে সুষ্ঠুভাবে অনুসরণ করা হয়, সে জন্য বড় দলগুলোর উচ্চপর্যায় থেকে পরিষ্কার ভাষায় প্রকাশ্যে নির্দেশ আসা উচিত। প্রার্থীদের নিজেদেরও নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলায় সচেষ্ট হওয়া উচিত।
আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির যাতে উদ্ভব না ঘটে, সে জন্য ইসি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে এখন থেকেই সক্রিয় হতে হবে। সেনা মোতায়েন নিয়ে যেন কোনো অবাঞ্ছিত ইস্যু সৃষ্টি না হয়। সিইসি সোমবার যথার্থই বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী বিহিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জানা যায়, ইসির বৈঠকে আলোচনায় এসেছে যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আইনে সেনা মোতায়েনের বিধান নেই। ফৌজদারি কার্যবিধিমতে এ ক্ষমতা জেলা প্রশাসকদের। তবে এ বিষয়ে কোনো মহলেরই বিশেষ স্পর্শকাতরতা বা ঝোঁক দেখানো কাম্য নয়। সেনাবাহিনীর যদি আদৌ দরকার পড়ে, তাহলে ওই যুক্তি দেখিয়ে ইসি নীরব থাকতে পারবে না। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেটা তারা পারবে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসিকে তার প্রথম পরীক্ষায় উতরাতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.