জাটকা সংরক্ষণ-জেলেদের কথাও ভাবুন

জাটকা ইলিশ রক্ষা পেলে পুষ্টি-অর্থ দুই-ই মেলে_ চলমান জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের এই প্রতিপাদ্যে দ্বিমতের অবকাশ নেই। কিন্তু জাতীয় মাছটির পোনা সত্যিই নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে কি-না সে প্রশ্নে নিঃসন্দেহ হওয়া কঠিন। কারণ, সংরক্ষণ সপ্তাহ চলাকালেই বাজারে জাটকা ওঠার আলোকচিত্র সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে।


তার মানে, জাটকা রক্ষায় সরকার ইলিশ উৎপাদন অঞ্চলে মার্চ-মে পর্যন্ত তিন মাসের যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে, তা বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোয় পরিণত হয়েছে? সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ক্রোড়পত্রে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে যে, গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। সন্দেহ নেই, জাটকা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা গেলে এই উৎপাদন আরও বাড়ত। দেশের ভেতরে ও বাইরে মাছটির যে বিপুল চাহিদা রয়েছে, তার কতখানিই-বা আমরা পূরণ করতে পারি? আমরা মনে করি, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাস জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা, অক্টোবরের গোড়ার দিকের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, সংরক্ষণ সপ্তাহ প্রভৃতির পাশাপাশি নদীদূষণ রোধেও উদ্যোগী হতে হবে। জোর দিতে হবে ইলিশের স্থায়ী অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে। ইলিশের বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদীতে যথেষ্ট প্রবাহ থাকাও জরুরি। কিন্তু একদিকে যেমন নদ-নদী প্রবাহ হারাচ্ছে, অন্যদিকে দূষণও বাড়ছে। দূষণ ও প্রবাহহীনতার কবল থেকে যদি এখনই নদী মুক্ত না হয়, কেবল জাটকা বা মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না। জেলেদের অধিকারের প্রশ্নেও চোখ বুজে থাকা উচিত হবে না। আমরা দেখেছি, মা ইলিশ কিংবা জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি অনেকক্ষেত্রে ইলিশনির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য নির্যাতনমূলক হয়ে দাঁড়ায়। কর্তৃপক্ষ দাবি করে থাকে যে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান এবং ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়। বাস্তবে বেশিরভাগ জেলেই এই কর্মসূচির সুফল পান না। যারা পান, তাদের জন্যও পর্যাপ্ত নয়। নীতিনির্ধারকরা এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখবেন বলে প্রত্যাশা। যে জনগোষ্ঠী হাজার বছর ধরে ইলিশ আহরণ করে আসছে, তাদের বঞ্চিত করে ইলিশ রক্ষা করা কঠিন।

No comments

Powered by Blogger.