রাজনীতি-গণতন্ত্রই শেষ কথা by নুরুল ইসলাম বিএসসি

যে যত কথাই বলুক সরকার পরিবর্তনে একটা সাংবিধানিক পন্থা আছে, ভোটই হলো সরকার পরিবর্তনের একমাত্র উপায়। বিএনপি গ্রামগঞ্জে নিজেদের অবস্থান শক্ত না করে, ভোটারদের কাছে না গিয়ে, ঢাকা এসে গাড়ি ভাংচুর করে, অফিস আদালত দখল করতে চাইলে, সরকার এতই দুর্বল নয় যে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না


আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিখছি, সরকারের ভালো কাজগুলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি, সরকারি দলের এমপিরা টক শোর নামে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করতে সরকারেরই সমালোচনা করেন, সরকারের জনপ্রিয়তাকে নিচের দিকে নামানোর চেষ্টা করছেন। অনেকে আছেন পত্রিকা পড়েন না বা পত্রিকা পড়তেও জানেন না। আবার কেউ কেউ আছেন খবরটা পড়েন, সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় পড়েন না। এরা কিন্তু টক শোগুলো দেখেন ও শোনেন। ফলে সরকারের ভালো কাজগুলোর বদলে ভুলত্রুটিগুলো মানুষ জানছে বেশি। টক শোতে আবার এমন এমপি বা ব্যক্তিদের ডাকা হয়, যারা সরকারে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন। সরকারের পক্ষে যারা কথা বলেন বা অতি কথনে যারা বাজিমাত করার চেষ্টা করেন না এদের ডাকা হয় না।
টক শো এখন খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। যত বেশি সরকারের সমালোচনা হয়, টক শোর শ্রোতাও তত বৃদ্ধি পায়। সরকারে থেকে সরকারের সমালোচকরা বাহবা কুড়ান; কিন্তু একবারের জন্যও এরা কি ভাবেন, এ সরকার ক্ষমতায় আবার আসতে ব্যর্থ হলে এদেরইবা অবস্থা কী হবে? জামায়াত, বিএনপি, হিযবুত তাহ্রীরের ব্যক্তিরা যতই ভালো কথা বলুক এদের গায়ের চামড়া আস্ত রাখবে কি? মাঝে মধ্যে মনে প্রশ্ন জাগে, হিযবুতের সঙ্গে এদের সম্পর্ক হয়নি তো? এরা এদের ক্ষমতায় আনার জন্য এত উঠেপড়ে লাগলেন কেন? একটি সরকার সব কাজ এক সঙ্গে সমাধান করতে পারে না। আবার সব কাজ শতভাগ শুদ্ধ করেও করা যায় না। অন্যদিকে এ সরকারের কাজ ভালো কি মন্দ সবই খারাপ বলে বিএনপি গণ্য করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এ দেশের আপামর জনতার ছিল, নির্বাচনী ওয়াদাও ছিল। যারা ভোটার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঘোষণা দেখেই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, জামায়াতিরা কি এ কাজটিকে ভালো কাজ বলবে? নিশ্চয়ই নয়।
পুরো বিশ্ব এখন মন্দাকবলিত। বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতির বাইরের কোনো দেশ নয়। মন্দার কবলে বাংলাদেশ পড়বে এটাই স্বাভাবিক। রেমিট্যান্স প্রবাহ কম, দেশের বাইরে যারা চাকরি করতেন এদের ফেরত আসা স্বাভাবিক। এটাকে এ সরকারের মন্দ কাজ বলে চালিয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
দ্রব্যমূল্যের কথায় আসি। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে তাকালেই পরিষ্কার হবে যে, দ্রব্যমূল্য বাংলাদেশে এখনও সহনীয় পর্যায়ে আছে। সরকার চালে ভর্তুকি দিয়ে মোটা ভাত যাতে সবার সাধ্যের ভেতরে থাকে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গিয়ে উন্নয়ন খাতের টাকা ভর্তুকিতে দিয়েছে। চালের দাম কম রাখাতে কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে জেনেও সরকার সাধারণ মানুষের দিকে লক্ষ্য রেখে চাল সস্তায় পাওয়ার ব্যবস্থা করেছে, এটাও কি সরকারের দোষ? দোষ খুঁজতে গেলে, পদে পদে দোষ খোঁজা যায়। চারদিকে তাকালে, দোষের চেয়ে গুণের পাল্লা ভারী হবে। বিএনপি-জামায়াত জোট রোডমার্চ করল, সরকার কোনো বাধা দেয়নি। কিন্তু ফজরের নামাজের পরপরই রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর, মানুষ হত্যা, এটা কোন আন্দোলনের মধ্যে পড়ে? জানমাল রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব, ওই দায়িত্ব পালন করতে গেলেই সরকার মন্দ।
আগামী মার্চে বিএনপি 'চল চল ঢাকা চল' স্লোগান নিয়ে এগোচ্ছে। দেশের মানুষ বোকা নয়, ঢাকায় এসে এরা কী করতে চায়, কোন অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করতে চায় সবাই বুঝে ও জানে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আদলে ঢাকা দখল করাই এর মূল উদ্দেশ্য। সরকার নিজ অবস্থান ঠিক রাখার জন্য পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দোষের হবে কেন? যে যত কথাই বলুক সরকার পরিবর্তনে একটা সাংবিধানিক পন্থা আছে, ভোটই হলো সরকার পরিবর্তনের একমাত্র উপায়। বিএনপি গ্রামগঞ্জে নিজেদের অবস্থান শক্ত না করে, ভোটারদের কাছে না গিয়ে, ঢাকা এসে গাড়ি ভাংচুর করে, অফিস-আদালত দখল করতে চাইলে, সরকার এতই দুর্বল নয় যে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এটা বোকামি ও জেনেশুনে দেশে অরাজক অবস্থা সৃষ্টি এবং সরকারকে কাজ করতে না দেওয়ার একটা ষড়যন্ত্রের অংশ। এ সরকারকে যারা উৎখাত করতে চায় তারা কোনো দিন সফল হবে না, উৎখাত শব্দটি গণতান্ত্রিক শব্দ নয়, মানুষই শেষ কথা, গণতন্ত্রই মূল কথা।

নুরুল ইসলাম বিএসসি : সংসদ সদস্য
 

No comments

Powered by Blogger.