আবার সালমান: এক থা টাইগার

চারদিকে হইচই। প্রশ্নের উত্তাপে বলিউড মুখর—এক থা টাইগার কি বলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি হতে পারবে? সালমান খানের সবচেয়ে ব্যবসাসফল বডিগার্ড-এর প্রথম দিনের রেকর্ড (২১ কোটি রুপি) কি ভাঙতে পারবে? এই ছবি কি ২০০ কোটির দলে নাম লেখাবে?


উত্তর সময়ই বলবে। তবে এখন পর্যন্ত সব তথ্য-উপাত্ত এক করে বলা যায়, কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। সালমান খান বরাবরই ঈদের নায়ক। ওয়ান্টেড (২০০৯), দাবাং (২০১০), বডিগার্ড (২০১১) প্রতিটি ছবিই ব্লকবাস্টার হিট। এবারের ঈদেও বলিউডের বাজেট (এক থা টাইগার-এর বাজেট) ৭৫ কোটি রুপি! শুধু এক থা টাইগার সালমানের ছবি মুক্তি পাচ্ছে বলেই অন্য সব প্রযোজক তাঁদের ছবির মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দিয়েছেন। নিন্দুকেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ৭৫ কোটি রুপি ঘরে তুলে আনতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে প্রযোজনা সংস্থার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সনির কাছে একমাত্র স্যাটেলাইট স্বত্ব বিক্রি করেই প্রযোজক যশ রাজ ফিল্মস ঘরে তুলেছে রেকর্ড ৭৫ কোটি রুপি! হোম ভিডিও, অডিও, বহির্বিশ্ব স্বত্ব তো বাকি আছেই। সব মিলিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায়, এক থা টাইগার হতে যাচ্ছে সালমানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি। ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি হিসেবে থ্রি ইডিয়টস-এর রেকর্ড ভাঙাও কষ্টকর হবে না, যদি ছবিটি দর্শকদের ভালো লেগে যায়। এমনিতেই প্রযোজক যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে সালমান প্রথমবারের মতো কাজ করলেন। দীর্ঘদিন পর ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে সালমানের জুটি, হিট গান, শুক্রবারের পরিবর্তে বুধবার (১৫ আগস্ট) ছবি মুক্তি, মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি, সবকিছুই এক থা টাইগার-এর পক্ষে।
ছবির পরিচালক কবির খান এর আগে কাবুল এক্সপ্রেস, নিউইয়র্ক নির্মাণ করে আমজনতা-সমালোচক উভয় পক্ষেরই হাততালি কুড়িয়েছিলেন। সালমান তাঁর ছবিতে কাজ করায় সমালোচকেরা বেশ খুশি। কারণ, সালমানের সর্বশেষ চার ব্লকবাস্টার হিট— ওয়ান্টেড, দাবাং, রেডি, বডিগার্ড—সব কটি ছবিকেই বলা হয়েছিল বুদ্ধিহীন মূর্খ দর্শকদের ছবি। সেই তুলনায় স্পাই-থ্রিলার ছবি এক থা টাইগার ব্যতিক্রম হবে আশা করা যাচ্ছে। এ ছবিতে সালমান ‘র’ (রিসার্চ অ্যানালাইসিস উইং)-এর স্পাই এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ডাবলিনের এক বিজ্ঞানী, যিনি কি না পাকিস্তানে মিসাইল প্রযুক্তির গোপন তথ্য পাচার করছেন, তাঁকে ধরার জন্য টাইগার সালমানের মিশন এবং বিজ্ঞানীর কেয়ারটেকার, ব্যালে ড্যান্সার শিক্ষক ক্যাটরিনার সঙ্গে প্রেম—এই নিয়েই এক থা টাইগার। তুরস্ক, আয়ারল্যান্ড, ইরাক, কিউবার পাশাপাশি ভারতের হাই-সিকিউরিটি জোনেও শুটিং করেছেন পরিচালক। ছবির পাণ্ডুলিপি পড়ে সরকার সংসদ এলাকা, সরকারি কোয়ার্টার্স, স্পেশাল এজেন্টদের বাসভবনে শুটিং করার অনুমতি দিয়েছে। যদিও এই ছবির মুক্তি নিয়ে পুরো বলিউড দিন গুনলেও খুশি হতে পারেনি ‘র’-এর সাবেক এজেন্ট রবীন্দ্র কৌশিকের পরিবার। কৌশিক একসময় পাকিস্তানে ধরা পড়েছিলেন। সেখানে জেলহাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। কৌশিকের পরিবারের ধারণা, ছবিতে সালমানের চরিত্রটি কৌশিকের বাস্তব কাহিনি নিয়েই নির্মিত হয়েছে এবং তাদের অনুমতি না নিয়ে ছবিটি মুক্তি পেলে প্রযোজকের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেবে। ওদিকে ভারতে এ ছবির প্রথম প্রোমো মুক্তির দিন লাখ লাখ ইউটিউব ব্যবহারকারীর চাপে যশ রাজ ফিল্মসের অ্যাকাউন্ট ক্র্যাশ করলেও পাকিস্তান সরকার খুশি হতে পারেনি। তারা তৎক্ষণাৎ বাজেয়াপ্ত করে দিয়েছে এক থা টাইগার-সংশ্লিষ্ট সবকিছু। আইএসআইকে বাজেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এ ছবিতে—তাদের ধারণা।
নায়িকা ক্যাটরিনা কাইফ ছবির শুটিং দুবার ডাবিং করেছেন। প্রথমবার ছবিটি দেখে সালমান মনে করেন, ক্যাটরিনার ডাবিং যথার্থ হয়নি। চটজলদি ক্যাটরিনা নিজ উদ্যোগে পুরো ছবি দ্বিতীয়বার ডাবিং করেন। ক্যাটরিনার মতে, সালমান রোমান্টিক চরিত্রে কখনো স্বচ্ছন্দ নয়। অ্যাকশন চরিত্রেই তাঁকে বেশি মানায়। এক থা টাইগার হবে সালমানের অভিনয় ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ ছবি। সালমানের বাবা, বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খানও ছবিটি দেখে মন্তব্য করেছেন, এক থা টাইগার একই সঙ্গে যুক্তিযুক্ত, বিনোদনমূলক ছবি। সালমানের এ ধরনের ছবিতেই অভিনয় করা উচিত।
এ ছবিতে স্টান্ট পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন হলিউডের র‌্যাম্বো (১৯৮২), রাশ আওয়ার সিরিজের স্টান্ট পরিচালক কনর‌্যাড প্যালমিসানো; যাঁকে জ্যাকি চ্যান এবং জেট লির জনকও বলা হয়। কনর‌্যাডের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়েই সালমান এ ছবির শুটিংয়ের সময় পুরোপুরি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের ব্যথাটা বেড়ে ওঠে। যার কারণে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। সালমান কৌতুক করে বলেন, ‘এ ছবিতে আমার কাজ করারই কথা ছিল না। ক্যাটরিনাই প্রযোজকদের কাছে আমার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। যশ রাজরা বড় তারকাদের পয়সা দিতে চান না। আমি ভালো পয়সা পেয়েছি। নায়িকা হিসেবে ক্যাটরিনাকে পেয়েছি। তার চেয়েও বড় কথা, মনের মতো একটি স্ক্রিপ্ট পেয়েছি, যে স্ক্রিপ্টে আমি নিজের স্টাইল না বদলে নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছি। এত দিন টাইগারকে সবাই ভয় পেত। এবার হয়তো টাইগার হবে সবার অনেক কাছের, প্রিয় মানুষ। সেই চেষ্টাই করেছি এ ছবিতে। ১০০ কোটি ২০০ কোটি বুঝি না, ছবিটি যদি সবার ভালো লাগে, তবেই আমি খুশি।’
 রুম্মান রশীদ খান
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, জি নিউজ, আইবিএন লাইভ, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, ফিল্মিক্যাফে, ডিজিটাল স্পাই রেডিফ, বলিউড হাঙ্গামা ডট কম অবলম্বনে

No comments

Powered by Blogger.