ঘরে ঘরে জ্বর-প্রতিকার ও প্রতিরোধ প্রয়োজন

ঢাকায় ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও সংখ্যা বৃদ্ধি দেখে বোঝা যায়, দ্রুত বিস্তৃতি ঘটতে পারে এই রোগের। চিকিৎসকদের মন্তব্য, বিভিন্ন ভাইরাল ফ্লুতে তারা আক্রান্ত হচ্ছে। এই মৌসুমের স্বাভাবিক জ্বর ডেঙ্গুও বাদ যায়নি।


আশার কথা, এবার গত বছরের তুলনায় এখনো সংখ্যার দিক থেকে কম আছে ডেঙ্গুরোগী। কিন্তু তার পরও জুলাই মাসের পরিসংখ্যানটি আশ্বস্ত করার মতো নয়। ওই মাসে ঢাকায় এই রোগীর সংখ্যা ১২২ জন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এই সংখ্যা মূলত হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের। এর বাইরে যে বিপুলসংখ্যক রোগী রয়ে গেছে, তা সহজেই অনুমেয়। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হলে তিন থেকে পাঁচ দিন ভোগা স্বাভাবিক। কিন্তু এবারের জ্বরে আক্রান্ত হলে টানা আট দিন পর্যন্ত ভুগতে হচ্ছে। এই জ্বরে কেউ আক্রান্ত হলে অন্তত সাত-আট দিন পর্যন্ত লেগে যায় আরোগ্য লাভ করতে। ফলে রোগীর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যায়। ভাইরাল ফ্লু যেহেতু বাতাসেও ছড়ায়, তাই সহজেই অনুমান করা যায়, এর বিস্তৃতি ঘটতে পারে রাজধানীর বাইরেও।
সব ভাইরাল ফ্লু প্রতিরোধ করা একটু কষ্টকর বৈকি। কিন্তু ম্যালেরিয়ার মতো ডেঙ্গুকেও জয় করা যায়। ডেঙ্গু রোগগ্রস্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। জলাবদ্ধতা থেকেই সাধারণত মশার জন্ম হয়। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ফুলের টব, খালি চৌবাচ্চা, নারিকেলের মালা, পেয়ালা কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য দ্রব্য যখন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকে, তখন সেখানে মশা বংশ বিস্তারে এগিয়ে আসে। ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদ পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।
আক্রান্তদের প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্তত তিন দিন অপেক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়। কিন্তু মানুষের কাছে ঠিকমতো সেই আহ্বান পৌঁছায় না। ফলে গাফিলতির পাশাপাশি অধৈর্য হওয়ার উদাহরণও পাওয়া যায়। এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রচারমাধ্যমের এগিয়ে আসা উচিত।
কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে এই রোগের বিস্তার ঘটতে থাকলেও সরকারি কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন চ্যানেলগুলো জনসচেতনতামূলক উল্লেখযোগ্য কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করেনি। ফলে প্রতিরোধ-প্রক্রিয়ায় কী ভূমিকা নিতে হবে, তা সাধারণ মানুষ এখনো সেভাবে জানছে না।

No comments

Powered by Blogger.