শিক্ষার্থীদের আবেগ-অনুভূতি আমলে নিন- মেডিকেলে ভর্তি-জটিলতা

মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয়টিও এখন উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। এর আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে উপাচার্য নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতারও সমাধান এসেছে আদালতের মাধ্যমে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মেডিকেলে ভর্তি অনুষ্ঠিত হবে।


আদালতের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কারও আপত্তি থাকতে পারে না। আদালত ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সময় নিয়ে। চলতি বছর মেডিকেলে ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দুই মাস বা এক বছর আগে নিলে হয়তো শিক্ষার্থীদের এতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হতো না।
অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা এক দিনে তৈরি হয়নি। বহু দিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা এখন প্রায় বিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলা যায়। ২০০৪ সালের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যে এক হাজার ২১৩ জনের নিয়োগ দিয়েছিলেন, হাইকোর্ট তা বাতিল করে দেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে কিছু কর্মকর্তার নিয়োগ বহাল রাখেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নতুন ৭৫ জন কর্মকর্তার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও আদালত অকার্যকর ঘোষণা করেছেন।
সরকার ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে মেডিকেলে শিক্ষার্থী ভর্তির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি রয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর আগ মুহূর্তে কেন নেওয়া হলো? অন্যদিকে সরকার কোচিং বন্ধের যে দোহাই দিয়েছে, তাও ধোপে টেকে না। ভর্তি-ইচ্ছুকরা অনেক আগে থেকেই কোচিং শুরু করেছেন। শেষ মুহূর্তে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ হয়নি।
যেকোনো নতুন পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। সৃজনশীল প্রশ্নপত্র চালুর সময় প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও বোঝানো হয়েছিল। মেডিকেলে ভর্তির ব্যাপারেও পর্যাপ্ত সময় দিয়ে সেটি করলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এড়ানো যেত বলেই আমরা মনে করি।

No comments

Powered by Blogger.