দুর্ঘটনা-ফুকুশিমার হুঁশিয়ারি by মশিউল আলম

ভূমিকম্প-সুনামির ধাক্কায় জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে, তার ফলে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া। জাপানের মানুষ বলছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুনামির চেয়েও ভয়ংকর।


তারা অভিযোগ করছে, ফুকুশিমা ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে তেজস্ক্রিয়তার আসল চিত্র সরকার তাদের সঠিকভাবে জানাচ্ছে না, অনেক কিছু গোপন করছে। আর কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা চলবে না—এমন দাবি জাপানিদের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। তারা কয়েক দিন আগে বিশাল মিছিল করেছে টোকিও শহরে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে আমাদের পাশের দেশ ভারতের নয়াদিল্লিসহ অনেক জায়গায়। পশ্চিমবঙ্গের হরিপুরে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। সেখানে আগেও জনসাধারণ প্রতিবাদ করেছে; কিন্তু এবার প্রতিবাদটা হয়েছে খুব জোরালো। হরিপুর এলাকার গ্রামের মানুষের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হলো বিবিসিতে। তারা বলছে, ‘আগে আমরা শুনেছি যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপজ্জনক। কিন্তু এখন জাপানের ঘটনায় দেখতে পেলাম, তা কত বেশি বিপজ্জনক। আমাদের পারমাণবিক বিদ্যুতের দরকার নেই।’ একই রকম প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে ভারতের হরিয়ানা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি রাজ্যে। সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে জার্মানির বার্লিন শহরে; সেখানে প্রায় দুই লাখ মানুষ মিছিলে অংশ নিয়ে স্লোগান তুলেছে, ‘ফুকুশিমা, চেরনোবিল: টু মাচ টু মাচ!’ হামবুর্গ, কোলন, মিউনিখ শহরেও বিশাল বিশাল প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। সেসব মিছিলের মানুষ দাবি তুলেছে, জার্মানির সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হোক। বড় বড় মিছিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, বুলগেরিয়া, হংকং, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশের বিভিন্ন শহরে।
রাশিয়ায় নিউক্লিয়ার ডট রু নামের একটি বিশেষজ্ঞ ওয়েবসাইটের পাঠকদের মধ্যে পরিচালিত জনমত জরিপের ফল বলছে, ৩৩ শতাংশ পাঠক মনে করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপজ্জনক। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস গত ১৮ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে এক জনমত জরিপ চালিয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৩ শতাংশ বলেছে, তারা তাদের দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে। কিন্তু বছর দুয়েক আগেই এ হার ছিল ৫৭ শতাংশ। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশই মনে করে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপজ্জনক, এটা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে তিনজন খুব বেশি উদ্বিগ্ন। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৯ শতাংশ মানুষ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে ছিল, কিন্তু ১৯৭৯ সালে পেনসিলভানিয়ার থ্রি মাইল আইল্যান্ডে এক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনার পর ওই হার কমে গিয়ে ৪৩ শতাংশে নেমেছিল। ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর ওই হার আরও কমে গিয়ে নেমেছিল ৩৪ শতাংশে। তবে তার পর থেকে হারটা বেড়ে চলেছিল। জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ ঘটে এবং তার ফলে বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি সমর্থন বেড়ে চলছিল। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কার্বন নিঃসরণ ঘটে না। অল্প কিছুকাল আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, আরও বেশি বেশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে চীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে আরও ১০০টি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে। হংকং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এতটা বাড়াতে চায় যে পাঁচ বছর পর দেশটির মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫০ শতাংশই যেন আসে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। রাশিয়ার প্রচুর পরিমাণ তেল-গ্যাস থাকা সত্ত্বেও নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ওপর তারাও জোর দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, অন্যান্য দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ইউরেনিয়াম সরবরাহের দিকেও রাশিয়া মনোযোগ বাড়িয়েছে। চীনের জন্য তারা ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বানিয়ে দেওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ভারতের প্রায় সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে দিচ্ছে তারাই। ইউক্রেন, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইরান—এসব দেশের সঙ্গেও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাসআতোমের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নের পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে বিশ্বব্যাপী এই নতুন আগ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউক্লিয়ার রেনেসাঁ’। জাপানের ফুকুশিমায় পারমাণবিক বিপর্যয় এই রেনেসাঁর ভিত্তি আমূল নড়িয়ে দিল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী প্রায় একই সঙ্গে নির্দেশ জারি করলেন, দেশের সব কটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হোক। একই ধরনের নির্দেশ দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সবচেয়ে ত্বরিত প্রতিক্রিয়া দেখা গেল জার্মানিতে; চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ঘোষণা দিলেন, দেশটির যেসব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৯৮০ সালে ও তার আগে নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো আগামী তিন মাসের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে। দেশটির মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২৩ শতাংশই আসে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এর আগে দেশটির সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ২০২১ সালের মধ্যে সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেবে। কিন্তু বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি ও বিকল্প বিদ্যুতের উৎসের সমস্যার কথা ভেবে সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করে স্থির করা হয়েছিল যে ১৭টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আরও ১২ বছর চালু রাখা হবে। কিন্তু ফুকুশিমার বিপর্যয়ের পর জার্মানির জনগণ সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে যেভাবে সোচ্চার হয়েছে, তাতে অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও তাঁর দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টিকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
ফুকুশিমা বিপর্যয়ের আঘাতে বিশ্ববাজারে ইউরেনিয়ামের দাম কমে গেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করে এমন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ধপ করে নেমে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্যালাডিন এনার্জি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে গেছে ৩১ শতাংশেরও বেশি।
বিশ্বজুড়ে ‘নিউক্লিয়ার রেনেসাঁ’র এই যখন অবস্থা, তখন আমাদের এই ছোট্ট কিন্তু অতিমাত্রায় জনবহুল দেশটিতে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ চলছে বেশ জোরেশোরে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রাসআতোমের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে, পাবনার রূপপুরে দুই রিঅ্যাক্টরবিশিষ্ট একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেটি নির্মিত হবে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার ব্যয় করে, ২০১৭ সাল নাগাদ সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। রাসআতোম সেটি নির্মাণ করবে, ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে, সেখানে ব্যয়িত জ্বালানি বর্জ্য নিষ্কাশন করে নিয়ে যাবে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনকারীদের প্রশিক্ষণ দেবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই আরও পরের দিকে কোনো একসময় রাশিয়া সফরে যাবেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশে প্রকট বিদ্যুৎ সংকট চলছে; দৈনিক বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার ফুরিয়ে আসছে। অদূর ভবিষ্যতে কয়লা তোলা হবে কি না হবে, তা-ও নিশ্চিত নয়। উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করে ডিজেল বা ফার্নেস অয়েলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, তাও আবার ছোট-বড় সব নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র মিলিয়ে মোট দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব কি না, সম্ভব হলেও আর্থিক বিচারে তা কতটা যুক্তিসংগত হবে—এসব বিবেচনা থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগের পেছনে যুক্তি নিশ্চয়ই আছে। আবার পাল্টা যুক্তিগুলোও দুর্বল নয়; ছোট্ট একটি দেশ, তার ওপর লোকসংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত। রাশিয়া বা আমেরিকার মতো বিস্তীর্ণ জনবিরল এলাকা এ দেশে নেই। ইউক্রেনের চেরনোবিলের মতো বা জাপানের ফুকুশিমার মতো বিপর্যয় ঘটলে আমাদের কী দশা হবে? শুধু তো ভূমিকম্প-সুনামি নয়, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে আরও নানা কারণেই। চেরনোবিলে দুর্ঘটনার জন্য কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রয়োজন হয়নি। সেখানে দুর্ঘটনার পর প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িঘর থেকে স্থানান্তর করতে হয়েছিল, ইউরোপজুড়ে কম বা বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছিল তেজস্ক্রিয়তা; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রাকৃতিক পরিবেশ। জাপানের সরকার ফুকুশিমার চারপাশের ২০ কিলোমিটার পরিধি থেকে লোকজনকে সরে যেতে বলেছে। কিন্তু গ্রিনপিসের কর্মীরা ফুকুশিমা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের গ্রামে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করে দেখেছে, নিরাপদ মাত্রার চেয়ে তা অনেক বেশি। টোকিও শহর ফুকুশিমা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে, সেখানেও তেজস্ক্রিয়তা মানবস্বাস্থ্যের পক্ষে সহনীয় মাত্রার চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি। ২৫টি দেশের দূতাবাস টোকিও থেকে সরিয়ে নেওয়ার খবর বেরিয়েছে। ফুকুশিমার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় চুল্লিটির ভেতরে এমন বিপর্যয় ঘটেছে যে তার ফলে ওই এলাকার সমুদ্রের পানি, মাটি-কাদা, এমনকি ভূগর্ভস্থ পানি মারাত্মকভাবে তেজস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে এই ছোট্ট বাংলাদেশে যদি সে রকম কিছু ঘটে, পুরো দেশ এবং তার ১৬ কোটি মানুষই কি মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে না? জাপানের পারমাণবিক প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি; তাদের কর্ম-সংস্কৃতি, ব্যবস্থাপনাগত ঐতিহ্য অনেক উন্নত, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতাও দীর্ঘ দিনের। এ রকম একটি দেশকেই যদি এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়, তাহলে আমরা, এই লোকে-গিজগিজ দেশে দুর্বল ব্যবস্থাপনা-সংস্কৃতি নিয়ে জীবন্ত মৃত্যুফাঁদের মতো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কী করে সামলাব? যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ লোকেরা এত দিন বলে আসছিল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঝুঁকি আছে, তবে ঝুঁকির তুলনায় লাভ বেশি; কিন্তু ফুকুশিমার এই মহাবিপর্যয় দেখে এখন তারা বলছে উল্টো কথা, লাভের তুলনায় ঝুঁকিই বেশি।
আমাদের দেশে জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত জানার চেষ্টা করা হয় না, এমনকি ওয়াকিবহাল বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয় না। রাজনৈতিক নেতা ও আমলারা মিলেই বড় বড় সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন; সেসব সিদ্ধান্ত কতটা দূরদর্শী বা যুক্তিসংগত, তা ভেবে দেখার প্রবণতাও লক্ষ করা যায় না। রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে রাশিয়ার সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করার আগে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা একান্তই জরুরি।
মশিউল আলম: সাংবাদিক
mashiul.alam@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.