ব দ লে যা ও ব দ লে দা ও মি ছি ল-এখনই যা করতে হবে by আবুল খায়ের

বদলে যাও বদলে দাও মিছিল’-এ নির্বাচিত চারটি ইস্যু নিয়ে অব্যাহত আলোচনা হচ্ছে। আজ নৌ-দুর্ঘটনার বিষয়ে বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগের নিয়মিত লেখক আবুল খায়ের ও সাজ্জাদ হোসাইন-এর সমাধানমূলক অভিমতসহ আরও তিনজন লেখকের নির্বাচিত মন্তব্য ছাপা হলো।


গ্রীষ্মকাল আসছে। এ সময়ে প্রকৃতির চলমান নিয়মেই কালবৈশাখী আঘাত হানে সর্বত্র। বিশেষ করে, নৌপথের যাত্রীরা অকস্মাৎ ঝড়ের মুখে পড়ে লঞ্চডুবিতে প্রাণ হারায়। এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত নৌ-দুর্ঘটনা বন্ধে একজন উদ্বিগ্ন নাগরিকের ভাবনা তুলে ধরছি:
প্রতিটি যাত্রীবাহী নৌযানে ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী ও মালামাল বহন করা থেকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। যেহেতু যাত্রী এবং মালিক কর্তৃপক্ষ কেউ কারও কথা শোনে না, তাই একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মেরিন টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে পরিদর্শন দল গঠন করতে হবে। ওই পরিদর্শন দল কর্তৃক ‘ছাড়পত্র’ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নৌযানগুলো ঘাট ছাড়বে। পরিদর্শন দল বৈরী আবহাওয়ায় কোনো অবস্থাতেই ‘ছাড়পত্র’ দেবে না।
প্রত্যেক যাত্রীর জন্য সমসংখ্যক ‘বয়া’ ও ‘লাইফ জ্যাকেট’-এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। শিশু-নারী ও বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আবহাওয়ার সতর্কীকরণ সংকেত প্রদানের জন্য উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি নৌযানগুলোতে সংযোজন করা অত্যাবশ্যক, যা নৌযানটির ‘সারেং’ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে। প্রয়োজনে যেন সারেং তাৎক্ষণিক নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে ‘নোঙর’ করতে সক্ষম হন।
নৌযানগুলোর সারেং-সুকানি-মাস্টার (ইঞ্জিনচালক)-সহ পরিচালনা টিমকে আধুনিকায়ন করতে বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য মেরিন রাডার সংযোজনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি দুর্ঘটনার চিত্র উদ্ঘাটনের জন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র সংযোজন করা অত্যন্ত জরুরি। নদীর উভয় তীরে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর অন্তর ‘ফ্লাড লাইট’ প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে রাতের বেলায় নির্বিঘ্নে নৌযানগুলো চলাচল করতে পারে।
আকস্মিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য বিমানের মতো নিয়ন্ত্রণকক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের আদলে দুর্যোগের দুঃসাহসী বীর আবুল খায়েরের তত্ত্বাবধানে পৃথক একটি প্রশিক্ষিত ও দক্ষ ‘উদ্ধারকারী দল’ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুতগতিসম্পন্ন উদ্ধারকারী যান সদা প্রস্তুত রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর ‘কোস্ট গার্ড’কে প্রাথমিকভাবে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। হাইওয়ে পুলিশের মতো নৌ-রুটেও অনুরূপ টহল পুলিশের ব্যবস্থা করা আবশ্যক। আইন অমান্যকারী নৌযানগুলোর মালিক-চালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আইন যেন গোড়াতেই দুর্বল হয়ে না পড়ে। কেননা বড় বড় সর্বনাশের উৎস এখানেই গড়ে ওঠে। ব্যাপক গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গণমাধ্যম, বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যাপক প্রচারণা চালাতে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বোপরি অভিভাবক প্রতিষ্ঠান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান করতে হবে। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকলে নৌ-দুর্ঘটনার সমস্যার সমাধান মিলবেই।
আবুল খায়ের: বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগের লেখক
abulkhair1956@gmail.com

যোগ দিন ফেসবুক পেজে : www.facebook.com/bjbdmichil
জনমত জরিপের ফলাফল
বদলে যাও বদলে দাও মিছিলের ওয়েবসাইটে নতুন তিনটি জনমত শুরু হয়েছে চলতি সপ্তাহে। আপনিও অংশ নিন জরিপে।

সড়ক দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হলে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সাহায্য দেওয়া উচিত বলেমনে করেন কি?

 হ্যাঁ ৮৬%  না ৬%
 মন্তব্য নেই ১৮%
১৮ এপ্রিল, ২০১২ পর্যন্ত
আপনি কি মনে করেন সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক শিক্ষা ইভ টিজিং কমিয়েআনতে পারে?
 হ্যাঁ ৮৪%  না ৭%
 মন্তব্য নেই ৯%
১৮ এপ্রিল, ২০১২ পর্যন্ত
বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেল ভারতে দেখাচ্ছে না। এটা কি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ ৮৫%  না ৭%
 মন্তব্য নেই ৮%
১৮ এপ্রিল, ২০১২ পর্যন্ত
www.bodlejaobodledao.com

No comments

Powered by Blogger.