মানুষই ভিনগ্রহী! by একরামুল হক শামীম

ভিনগ্রহীদের নিয়ে পৃথিবীর মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। ভিনগ্রহীরা দেখতে কেমন, আচার-ব্যবহার কেমন_ এসব বিষয় নানাভাবে উঠে এসেছে আমাদের সাহিত্য আর চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্র নির্মাতা রিডলি স্কটের 'এলিয়েন' চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে। ভিনগ্রহীদের নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি একদিকে যেমন নানা সমালোচনা তৈরি করে,

অন্যদিকে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র হিসেবে নাম করে নেয়। 'এলিয়েন'-এর সাফল্যের কারণেই পরবর্তীকালে এই সিরিজের আরও কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল সিক্যুয়াল 'এলিয়েনস', যা পরিচালনা করেছিলেন জেমস ক্যামেরুন। তবে এলিয়েন নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছিল আরও অনেক আগে। ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল ম্যারি ট্যাপন রাইটের উপন্যাস 'এলিয়েন'। 'এলিয়েন' শিরোনামের বেশ কিছু গানও বিভিন্ন অ্যালবামে স্থান পেয়েছে। এসব চলচ্চিত্র, বই আর গানের মাধ্যমে এলিয়েনদের চরিত্রের আলাদা রূপ পেয়েছে। মোটামুটিভাবে ধারণা করা হয়, এলিয়েন মানেই কিম্ভূতকিমাকার চেহারার, কপালে চোখের উপস্থিতি, ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবী জয় করতে আসা প্রাণী।
এতদিন পর্যন্ত মানুষ নিজেদের পৃথিবীর আদি বাসিন্দা হিসেবে জেনে আসছে। অন্যদিকে এলিয়েনের উপস্থিতি কেবল সাহিত্য আর চলচ্চিত্রে। অবশ্য মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত লোকগল্পেও এলিয়েনের আলাদা স্থান রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মাঝেমধ্যেই বলে থাকেন পৃথিবীর বাইরেও অন্যান্য গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণীর উপস্থিতি থাকতে পারে। এই বুদ্ধিমান প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রক্রিয়া বের করার জন্য গবেষণা করছেন কোনো কোনো বিজ্ঞানী। এলিয়েনদের নিয়ে নানামুখী আলোচনার ভিড়ে বর্তমান সময়ের সেরা পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, এলিয়েনরা পৃথিবীর মানুষের জন্য ভালো না-ও হতে পারে। এলিয়েনদের আগমনে ক্ষতি হতে পারে পৃথিবীর। অন্যদিকে জাতিসংঘের অফিস ফর আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স থেকে এলিয়েনদের জন্য শুভেচ্ছাদূত নির্বাচনের ব্যাপারটিও ভাবা হয়েছিল। এখন অবাক করা ব্যাপার হলো, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় বের হয়ে এসেছে মানুষ নিজেই এলিয়েন অর্থাৎ ভিনগ্রহী। যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, মানুষ অন্য কোনো গ্রহ থেকে এই পৃথিবীতে এসেছে। প্রায় ৩৮০ কোটি বছর আগে অন্য কোনো গ্রহ থেকে পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব ঘটে। গবেষকদের একজন জানিয়েছেন, কোনো একটি ধূমকেতু থেকে প্রথম কোনো ক্ষুদ্র প্রাণ বা ব্যাকটেরিয়া পৃথিবীতে এসেছিল। তা থেকেই ক্রমান্বয়ে মানুষের সৃষ্টি। এই গবেষণাপত্রের ফলে মানুষের সৃষ্টি আর বিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হলো। এখন দেখা যাক এই বিতর্ক কোথায় গিয়ে ঠেকে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ট্রোবায়োলজি সাময়িকীতে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এলিয়েনদের নিয়ে যারা এর আগে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন তারা হয়তো এই গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে চলচ্চিত্র নির্মাণের কথা ভাবতেও পারেন। তবে মানুষের অন্য গ্রহ থেকে আসা নিয়ে যে বিতর্কের সূচনা হলো তা নিশ্চিতভাবেই আরও অনেকদিন চলবে।
 

No comments

Powered by Blogger.