আইনপ্রণেতাদের সর্বাগ্রে সচেতন হতে হবে-নির্বিচার দেয়াললিখন-পোস্টার চলবে না

জাতীয় সংসদে একটা ভালো আইন পাস হয়েছে। এখন থেকে যেখানে-সেখানে দেয়াললিখন বা পোস্টার লাগানো চলবে না। নির্বাচনের সময় বা অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রচারের জন্য নির্ধারিত স্থানের বাইরে দেয়ালে লিখলে বা পোস্টার লাগালে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে এই বেআইনি কাজ হলে তাদের কর্মকর্তারা দায়ী হবেন। এতে কাজ হবে আশা করা যায়। কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা সতর্ক হবেন।


কিন্তু কোনো ব্যক্তির নামে যখন পোস্টার পড়ে বা দেয়ালে লেখা হয়, তখন কী হবে? কাকে দায়ী করা হবে? এখন তো রাজধানী ছেয়ে গেছে মেয়র, কাউন্সিলর পদে নির্বাচনপ্রত্যাশীদের নামে পোস্টার ও দেয়াললিখনে। তাঁদের আবার অনেকে আইনপ্রণেতাও, অর্থাৎ সাংসদ। তাঁদের বেলায় কী হবে? তাঁদের ধরতে গেলে তো তাঁরা বলবেন, কে বা কারা তাঁদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করে পোস্টার সেঁটে দিয়েছে! সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত গিয়ে তো খেই হারিয়ে ফেলবেন।
তাই ব্যক্তির বেলায় আইনের আরও সুনির্দিষ্ট বিধান থাকতে হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। পোস্টার আর দেয়াললিখনে শুধু যে নগরের সৌন্দর্যহানি হয়, তা-ই নয়; বাসাবাড়ির দেয়ালেরও ক্ষতি হয়। শাস্তির বিধানের পাশাপাশি দেয়ালমালিকদের ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা থাকা উচিত।
আইন আগেও হয়েছে। কিন্তু প্রয়োগ হয়নি। এবারও আইন করা হলো। প্রয়োগ করবে কে? অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, নির্বাচন কমিশন দড়িতে পোস্টার ঝোলানোর আইন করে তা সফলভাবে বাস্তবায়নও করেছে। নির্বাচনের সময় নিয়ম লঙ্ঘন কমই হয়েছে। এ থেকে আমরা বলতে পারি, আইন প্রয়োগে কর্তৃপক্ষ উঠেপড়ে লাগলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। দেশের সাধারণ মানুষ আইন মেনে, শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলতে চায়। কিন্তু যখন দেখে আইন ভাঙলেও সমাজের হোমড়াচোমড়াদের কিছু হয় না, তখনই শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে।
অবৈধভাবে পোস্টার লাগানো বা দেয়ালে লেখার দায়ে অভিযুক্ত দু-চারজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়ে সরকার যদি উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে হয়তো আইন কার্যকর করা সহজ হবে। নগরবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচবে। তাই মেয়র, কাউন্সিলর পদে নির্বাচনপ্রত্যাশীদের কাছে অনুরোধ, আপনারা দয়া করে দেয়ালে আর অবৈধভাবে লিখবেন না।

No comments

Powered by Blogger.