প্রশাসনকে হতে হবে পক্ষপাতমুক্ত-নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন

গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবির সঙ্গে কেউ দ্বিমত করবে না। এ ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি জরুরি তা হলো, দুটি বিষয়ই আইনশৃঙ্খলার জন্য সার্বক্ষণিক হুমকি। কেবল নির্বাচনের আগে নয়, সব সময়ই অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় কথা, নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজটি কে করবে? পুলিশ প্রশাসন এত দিন কী করেছে? সরিষায় ভূত থাকার যে আপ্তবাক্যটি প্রচলিত, সেটি নারায়ণগঞ্জের জন্য একটু বেশি মাত্রায় প্রযোজ্য বললে অত্যুক্তি হবে না। স্থানীয় আওয়ামী লীগের গৃহবিবাদের নানা কেচ্ছাকাহিনি সম্পর্কে দেশবাসী অবগত আছে। বৃহস্পতিবার নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে অনতিবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন ঢেলে সাজানো।
আমরা যদি নারায়ণগঞ্জের শান্তির জন্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করতে সচেষ্ট হই, তাহলে দেখা যাবে যে এর মূলে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। অধুনা বিলুপ্ত পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সেলিনা হায়াত আইভী কদিন আগে টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ডিসি ওসমান পরিবারের ভ্রাতৃত্রয়ের কথায় ওঠেন-বসেন।’ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে তিনি সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি নবগঠিত করপোরেশনভুক্ত তিন থানার ওসির বদলি চেয়েছেন। এর আগে ক্ষমতাসীন দলীয় সাংসদ সারাহ হোসেন কবরী জেলা ডিসির উপস্থিতিতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অনাস্থাও জ্ঞাপন করেছেন। ওই আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দলীয় বিবেচনায় পার পেয়ে যান। এটি দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ সুপার বুধবারের সভায় বলেছেন, ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা পুলিশের নজরদারিতে আছে। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় তৈরি করা হবে নিরাপত্তাবলয়।’ এই উক্তি দৃশ্যত পরিহাসমূলক। কারণ পুলিশ সুপারের কাছে যদি সন্ত্রাসীদের তালিকাই থেকে থাকে, তিনি এত দিন তাদের গ্রেপ্তার করেননি কেন?
আমরা মনে করি, নারায়ণগঞ্জের আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—প্রশাসনসংশ্লিষ্ট এমন কর্মকর্তাদের বদলি করা জরুরি। ৩০ অক্টোবরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসনকে পক্ষপাতমুক্ত থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন কীভাবে এবং কত দ্রুত সেটা করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

No comments

Powered by Blogger.