ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নিয়োগ-বাণিজ্য’- প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ১৯ শিক্ষক

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত সব প্রশাসনিক পদ থেকে আন্দোলনরত ১৯ শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতির কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১২ পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘নিয়োগ-বাণিজ্য’-এর অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকেরা। আন্দোলনে নেমে বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হয়েছেন তাঁরা। হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের ভেতরে অনুষ্ঠিত অবস্থান ধর্মঘট পালনকালে এক প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষকেরা এ ঘোষণা দেন। উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁদের পদত্যাগপত্র শিক্ষক সমিতির সভাপতি এম এয়াকুব আলীর কাছে জমা দিয়েছেন।
পদত্যাগকারী শিক্ষকেরা হলেন: খালেদা জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ মামুনুর রহমান, জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মাদ সেলিম, লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ মোহা. ওলিউল্লাহ, সহকারী প্রক্টর কামরুল ইসলাম ও মোহা. কামরুজ্জামান, কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক তপন কুমার জোয়ার্দার, বিএনসিসির প্রধান সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর হোসেন, রোভার স্কাউটের সম্পাদক রুহুল কে এম সালেহ, আইআইইআরের পরিচালক মাহবুবুর রহমান এবং বিভিন্ন হলের ১০ জন আবাসিক শিক্ষক।
পদত্যাগপত্রগুলো পাওয়ার কথা স্বীকার করে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এম এয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রশাসনের তিন কর্তাব্যক্তিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আজ না আসায় শিক্ষকেরা আপাতত আমার কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। পরে প্রশাসনের কাছে এগুলো হস্তান্তর করব।’
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেটের ২১৭তম সভায় চারজন শিক্ষকসহ ১১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন সরকার দলীয় সমর্থিত শিক্ষক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বিএনপি-সমর্থিত জিয়া পরিষদ, জামায়াত-সমর্থিত গ্রিন ফোরাম, শিক্ষক সমিতির সদস্যসহ কর্মকর্তারা। এরপর থেকে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকেরা।
এ কারণে প্রায় আড়াই মাস ধরে ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ আছে। স্থগিত হয়েছে চলতি সেশনের ভর্তি পরীক্ষা। ক্যাম্পাসে একের পর এক ভাঙচুর চলে। বোমা মেরে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেটের ২১৭তম সভায় চারজন শিক্ষকসহ ১১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলে সরকার দলীয় সমর্থিত শিক্ষক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বিএনপি-সমর্থিত জিয়া পরিষদ, জামায়াত-সমর্থিত গ্রিন ফোরাম, শিক্ষক সমিতির সদস্যসহ কর্মকর্তারা।
এ কারণে ৭২ দিন ধরে ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ আছে। স্থগিত হয়েছে চলতি সেশনের ভর্তি পরীক্ষা। ক্যাম্পাসে একের পর এক ভাঙচুর, বোমা মেরে গাড়ি পোড়ানোসহ, সড়কে চোরাগোপ্তা হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.