বিকল্প অর্থনীতির খোঁজ by অলিউর রহমান ফিরোজ

পরিকল্পিত এবং সঙ্গতির সঙ্গে অর্থের জোগান নিশ্চিত না হওয়ায় দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে দুর্দশা বিরাজ করছে। একদিকে দেশের ব্যাংকে সাধারণ মানুষের যে অর্থ সঞ্চিত ছিল তা সরকার ঋণ নিতে গিয়ে সাধারণ উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ঋণে ভাটা পড়ায় অর্থনীতি আর গতিশীলতা পায়নি।


দেশের মৌলিক কিছু চাহিদার প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে সরকার অর্থনীতি ক্ষেত্রে দেউলিয়া হয়ে পড়ার কারণেই সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। তারল্য সংকট, বিদ্যুতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, আমদানি ব্যয় মেটানো, বিনিয়োগে ঘাটতি, ভর্তুকির পরিমাণ দ্বিগুণসহ নানা কারণে অর্থনীতিতে সরকার স্বস্তিতে নেই। তাই বিভিন্নমুখী ঋণের জালে সরকারকে বন্দি হতে হচ্ছে। তা একদিকে মূল্যস্টম্ফীতি বাড়িয়ে দেবে, অন্যদিকে দেশের মানুষের গায়ে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপাবে। তাই সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে রাজনৈতিক মতাদর্শে এককাতারে দাঁড়িয়ে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ করার আর কোনো বিকল্প নেই। দেশের নাজুক অর্থনীতি চাঙ্গা করা যেমন প্রয়োজন আবার তার জন্য ক্ষতি কতটা সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সরকার আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ সংগ্রহ করবে। বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক ঋণদান সংস্থার বাইরে সার্বভৌম বন্ড ছেড়ে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। বৈদেশিক লেনদেন এবং রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেই সরকারকে এ পথের দিকে ধাবিত হতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে বিষয়টি দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য কতটা অনুকূল হবে তা আরও বিশদভাবে ভাবার সময় এসেছে। বিষয়টি যতটা সহজ ভাবা হয়েছিল তা কিন্তু নয়। একদিকে সুবিধা পেলেও সরকার অন্যদিকে মূল্যস্টম্ফীতির জালে পড়তে হবে দেশের মানুষকে। এতে টাকার মান কমে গিয়ে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাবে। বন্ডের ওপর সুদ পরিশোধে সরকারকে বড় ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। একদিকে সরকারকে ঋণের টাকা শোধ করতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মূল্যস্টম্ফীতি এবং অতিরিক্ত কর দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য মোটেই সন্তোষজনক নয়। রাষ্ট্র সার্বিক বিষয়ে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে নাজুক অর্থনীতি চাঙ্গা করবে, সেটাই আমাদের কামনা।
ৎ মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ
 

No comments

Powered by Blogger.