তুরস্ক-সরকার-সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে টানাপোড়েন

কয়েক দশক ধরেই তুরস্কের সেনাবাহিনীর বড় কর্মকর্তারা দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভীতি আর শ্রদ্ধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি জনগণের মনে তাঁদের সেই অবস্থান নড়ে গেছে। গত মাসে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সেই ভয় আর শ্রদ্ধা এখন দয়া আর অবজ্ঞায় পর্যবসিত হয়েছে।


ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির সরকারকে উত্খাতের পরিকল্পনা করার অভিযোগে এসব সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রায় ৫০ জন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছে ২০ জনের বিরুদ্ধে, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন অ্যাডমিরালও রয়েছেন। আরও রয়েছেন নৌ, বিমান ও বিশেষ বাহিনীর সাবেক প্রধানেরা। তাঁদের এই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার নাম ছিল ‘স্লেজহ্যামার’ (বড় হাতুড়ি)। গত মাসে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।
পরিকল্পনার মধ্যে ছিল মসজিদে বোমা হামলা চালানো, গ্রিসের জঙ্গিবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা এবং অভ্যুত্থানে বাধাদানকারীদের একটি স্টেডিয়ামে নিয়ে জড়ো করা। এই পরিকল্পনার মূল হোতা হিসেবে সেতিন দোগান নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলের নাম উঠে এসেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দোগান তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছেন, এটা একটি সামরিক মহড়ার পরিকল্পনার চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা খুব একটা নেই বলেই মনে করেন অন্যরা। কারণ, স্লেজহ্যামারে ক্ষমতাসীন সরকারকে উত্খাত করার পর একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের এবং যাঁদের নিয়ে সরকার গঠন করা হবে, তাঁদের নামও উল্লেখ করা ছিল।
তুরস্কের চিফ অব জেনারেল স্টাফ ইলকার বাসবাগ অবশ্য প্রধানমন্ত্রী তাইরিপ এরদোগানের সঙ্গে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের বহর দেখে মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে খুব একটা আশা নেই। গ্রেপ্তার অভিযানের পরপরই তাঁরা দুজন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল বৈঠক করেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের সন্তুষ্ট হওয়ার খুব একটা কারণ নেই। এরদোগানের সমঝোতায় আসার মনোভাবে দেশটির শক্তিশালী ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীটি হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তুরস্কে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা এখন তেমন একটা নেই। কারণ, ১৯৮০ সালে যখন ওই সময়ের জেনারেলরা ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তখনকার তুরস্কের সঙ্গে এখনকার তুরস্কের অনেক অমিল। ঠান্ডা মাথার সেনা কর্মকর্তাদের অনেকের মতো জেনারেল বাসবাগও জানেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি জনপ্রিয় সরকারকে উত্খাত করা হলে তা সেনাবাহিনীর জনপ্রিয়তাকেও নষ্ট করবে। (ইকোনমিস্ট অবলম্বনে)

No comments

Powered by Blogger.