প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফর-২০ কোটি ডলার ঋণ অনুদান হিসেবে গণ্য করবে ভারত

বাংলাদেশকে দেওয়া ১০০ কোটি ডলার ঋণ-সুবিধার মধ্যে ২০ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে গণ্য করবে ভারত। এই ঘোষণা দিয়েছেন সফররত ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত ভারতের সব চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


গতকাল রোববার দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠককালে ভারতের অর্থমন্ত্রী এই আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে। ২০১০ সালের আগস্টে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। এই ঋণের আওতায় যোগাযোগ খাতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়।
গতকাল দুপুর ১২টার পরপরই গণভবনে যান প্রণব মুখার্জি। সোয়া ১২টায় বৈঠক শুরু হয়ে ২৫ মিনিটের মতো চলে। বৈঠক শেষ করে প্রণব মুখার্জিকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দোতলায় যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে তিনি দুপুরের খাবার খান। বেলা দুইটা ১০ মিনিটে তিনি গণভবন ত্যাগ করেন। এরপর সোনারগাঁও হোটেলে তিনি গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রণব মুখার্জি বলেন, ২০ কোটি ডলার ঋণ অনুদান হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি বাকি ৮০ কোটি ডলার ঋণের সুদের হারও কমবে। ১ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া এই ঋণের অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ মানবসম্পদ ও যন্ত্রাংশ ভারত থেকে নেওয়ার যে শর্ত ছিল, তা ইতিমধ্যে শিথিল করা হয়েছে। এই শর্ত প্রয়োজনে আরও শিথিল করা হতে পারে। এখন ২০ কোটি ডলার ব্যবহারে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প বাছাই করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক সম্পর্কে তাঁর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনাকে প্রণব মুখার্জি বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকালে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে করা ভারতের সব চুক্তি খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে বিলম্বের কথা উল্লেখ করে প্রণব মুখার্জি বলেন, কিছু বিষয় বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। তবে সব চুক্তিই বাস্তবায়িত হবে।
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী বলেন, যৌথ নদী কমিশনের অধীনে একটি উপকমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। কমিটি টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির অবসানে করণীয় সম্পর্কে সরকারকে সুপারিশ করবে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসসচিব জানান, প্রণব মুখার্জি শেখ হাসিনাকে এ-ও বলেছেন, হিমালয় থেকে উৎপন্ন সব নদীর পানির হিস্যা অববাহিকার দেশগুলো সমানভাবে পাবে। বৈঠকের অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রণব মুখার্জি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, আন্তনদী সংযোগ প্রকল্পের আওতাভুক্ত নদীগুলো হিমালয় অববাহিকা থেকে উৎপত্তি হয়নি বলে এই প্রকল্পের ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু নেই। এ ছাড়া তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন প্রটোকলের অনুসমর্থন দ্রুত করতে ভারত আন্তরিক। খুব শিগগিরই এসব বিষয়ে সুরাহা হবে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।
দুই নেতার মধ্যে আন্তবাণিজ্য নিয়ে কথা হয় বলে প্রেসসচিব জানান। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে প্রণব মুখার্জি বলেছেন, আন্তবাণিজ্য বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশের ৪৬টি পণ্য এরই মধ্যে ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, উপদেষ্টা মসিউর রহমান, গওহর রিজভী, মোদাচ্ছের আলী, বিশেষ দূত এম জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস প্রমুখ। ভারতের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সে দেশের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

No comments

Powered by Blogger.