আবার হরতাল-বিকল্পই উত্তম

বিএনপি এবং তাদের মিত্র দল জামায়াতে ইসলামী ৫ জুন রোববার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছিল। এরপর আগামীকাল ১২ জুন রোববার সকাল ৬টা থেকে পরদিন সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ৩৬ ঘণ্টা হরতাল আহ্বান করেছে তারা। উভয় কর্মসূচির অভিন্ন ইস্যু_ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ।


প্রথম হরতালটি শিথিল-ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছিল। দ্বিতীয়টি কেমনভাবে পালন করা হবে, সেটা অজানা। তবে এ ধরনের কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থন যে আদৌ নেই, সেটা স্পষ্ট। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ থেকে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী থেকে গৃহবধূ সবাই এ ধরনের কর্মনাশা কর্মসূচিতে ত্যক্ত-বিরক্ত। সর্বোপরি যে ইস্যুতে হরতাল আহ্বান করা হয়েছে, তারই-বা যৌক্তিকতা কোথায়? সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরবর্তী দুটি সাধারণ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আদালতের পরামর্শ রয়েছে। আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। জাতীয় সংসদ সংবিধান পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য যে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, তার রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এখন মূল ইস্যু হচ্ছে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য করণীয় নির্ধারণ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করা। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা মেয়াদপূর্তির কারণে বিদায় নেবেন এবং নতুন একটি কমিশন গঠন করতে হবে। এ কমিশন গঠনের কাজে সরকার ও বিরোধী পক্ষের সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিকল্প কী হতে পারে, সেটাও আলোচনার বিষয় এবং জাতীয় সংসদেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে যে কোনো ফর্মুলা যে কেউ পেশ করলে তা বিবেচনা করা হবে। যে কোনো দায়িত্বশীল বিরোধী দলেরই উচিত এ সুযোগ গ্রহণ করা। এর পরিবর্তে এক সপ্তাহের ব্যবধানে হরতাল আহ্বান সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিএনপি বলছে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শোচনীয়। হরতাল-অবরোধ এমনকি ঢিলেঢালাভাবে পালিত হলেও অর্থনীতির ক্ষতি করে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ায়। রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য যদি জনকল্যাণ হয়ে থাকে তাহলে এমন কর্মসূচি কেন প্রদান করা হচ্ছে, যাতে কেবল দেশ ও দশেরই অকল্যাণ? আমরা আশা করব, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেবে। সরকারের বিরোধিতার জন্য অনেক বিকল্প রয়েছে। তারা সভা-সমাবেশ-মিছিল করতে পারে। সর্বোপরি রয়েছে জাতীয় সংসদ। বাজেট অধিবেশন চলবে টানা দুই মাসেরও বেশি। পূর্ববর্তী অধিবেশনে সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী একটি দিন উপস্থিত হয়েছিলেন এবং এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি এবং তার দলীয় সদস্যরা বাজেট অধিবেশনে প্রতিদিন হাজির হয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা এলে রাজপথের আন্দোলনকে জনসাধারণ যৌক্তিক মনে করবে। গণমাধ্যমও এখন বিরোধী পক্ষের বক্তব্য যথাযথ গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করে থাকে। বলা যায়, বিরোধীরা সুযোগ কিছুটা বেশিই পেয়ে থাকে। আমরা আশা করব, বিএনপি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে এবং সর্বনাশা পথ থেকে সরে আসবে।
 

No comments

Powered by Blogger.