ঝড়-বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যু

পঞ্চগড়, নোয়াখালী, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, জামালপুর, যশোরের কেশবপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার কালবৈশাখী ও বজ্রপাতে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বজ্রপাতেই মারা গেছে ১৪ জন।


কালবৈশাখীর সময় মাটির ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
পঞ্চগড়: জেলার বিভিন্ন স্থানে গতকাল বিকেলে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস ও শিলাবৃষ্টি হয়। ওই সময় বজ্রপাতে মারা গেছে বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের কুচিয়ামোড় গ্রামের মরিয়ম বেওয়া (৭০) ও মিজানুর (৭)। গুরুতর আহত গ্রামের মোজামেঞ্চলকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ঝড়ের সময় মাটির ঘরে চাপা পড়ে মারা গেছে বোদা উপজেলার মাঝগ্রামের সোলায়মানের চার মাসের মেয়ে সাদিয়া। গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির মা সাবিহা। তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৃষ্টিপাত ইরি, বোরো, ভুট্টা ও মরিচখেতের জন্য ভালো হয়েছে। তবে শিল পড়ায় আম, লিচু, গমসহ অন্যান্য ফসলের কিছুটা ক্ষতি হতে পারে।
নোয়াখালী: স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গতকাল সকাল আটটার দিকে সদর উপজেলার নোয়ান্নই উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী নাজমা আক্তার (১৪) তার ছোট ভাই মো. রাকিবকে (১২) নিয়ে রাজাপুর গ্রামের বাড়ির পাশের খেতে যায়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় নাজমার। আহত হয় রাকিব। দুপুর ১২টার দিকে আরেকটি বজ্রপাতে জেলার হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের রেহানিয়া গ্রামের শেকু মাস্টারের বসতঘরে মারা যান গৃহিণী পারভিন আক্তার (৩০)।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামে তরমুজখেতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় শিশু মো. সুমনের (১১)। সে ওই গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে।
এ ছাড়া গতকাল সকাল নয়টার দিকে সুবর্ণচরের চর মহিউদ্দিন গ্রামের বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন কাউছার মিয়ার স্ত্রী সিমু আক্তার (৩০)।
জামালপুর: সদর উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়। গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড ঝড়ে রশিদপুর এন ইউ ফাজিল মাদ্রাসা ভবন বিধ্বস্ত হয়। ধসে পড়ে শ্রীপুর ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমানের মাটির ঘরের দেয়াল। এতে দেয়াল চাপা পড়ে মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে মমিনুর রহমানের (১০) মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন স্ত্রী খালেদা খাতুন। এ ছাড়া কালবৈশাখী ঝড়ে রশিদপুর, শ্রীপুর, দিগপাইত ও বাঁশচড়া ইউনিয়নের তিন শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এবং খুঁটি উপড়ে পড়ায় চারটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুৎফুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে চারটি ইউনিয়নে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা: জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দকাটি গ্রামের বিলে কাজ করে বাড়ি ফেরার সময় গতকাল সকালে পৃথক বজ্রপাতে চিংড়িঘেরের দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রমিকেরা হলেন গোবিন্দকাটি গ্রামের ধনঞ্জয় সরকার (৩০) ও আশাশুনি উপজেলার মজগুরখালী গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডল (২৮)।
কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের সুরেন শীল (৬০) গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিল খুকশিয়ায় মাটি কাটতে যান। সেখানে বজ্রপাতে আহত হন তিনি। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রায় একই সময়ে উপজেলার ভরত ভায়না গ্রামের ধানখেতে বজ্রপাতে মারা যান কৃষক হারুণ মোল্লা (৪০)।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর): সরিষাবাড়ী পৌরসভার সাইঞ্চারপাড় গ্রামের রহিম বাদশার স্ত্রী আসমা বেগম (৩৮) বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়ের সময় রান্নাঘরে যাচ্ছিলেন। ওই সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ফরিদপুর: সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের খলিল মণ্ডলের হাট এলাকায় গতকাল সকাল নয়টার দিকে বজ্রপাতে মারা যান সবজি বিক্রেতা মো. জাহিদ আলী (৩০)। তাঁর বাড়ি ওই ইউনিয়নের হামেদ মুন্সির ডাঙ্গি গ্রামে।
রাজশাহী: বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে জেলার চারঘাট উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের সময় উপজেলার অনপুমপুর গ্রামের জমশেদ আলী ও আজিবর রহমানের টিনের তৈরি ছাপরা ঘরে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে। ভয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হলে তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন জমশেদের মেয়ে রিনা বেগম (৩০), তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে শিমুল ও আজিবরের মেয়ে সুফিয়া খাতুন (২০)। চারঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সুফিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদী: স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টির সময় পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের বালিয়া ফৌজি চটকল মিল গেটের সামনে খেলছিল চার শিশু। ওই সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ফৌজি চটকল মিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সুইটি আক্তারের (৭)। আহত হয় শিশু আরমান, ইসরান ও জুনাইদ মিয়া। জুনাইদের পুরো শরীরে ঝলসে গেছে।
বালাগঞ্জ (সিলেট): গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বালাগঞ্জ উপজেলার গোরাপুর হাওর থেকে বোরো ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা গেছেন কৃষক আবদুল বারী (৬০)। তিনি গোরাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা): ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার জামতলী গ্রামে গতকাল সকালে ফসলের মাঠে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে মারা গেছেন কৃষক লিটন মিয়া (৩৫)।

No comments

Powered by Blogger.