ঘোষণা আছে কিন্তু কাজের দেখা নেই-উড়ালসেতু কবে উড়বে?

যানজটে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। জনপরিবহনেও চলছে সংকট ও বিশৃঙ্খলা। এর মধ্যে মাঝেমধ্যে এক পশলা বৃষ্টির মতো সরকারের আশ্বাসবাণী শোনা যায়। বলা হয় উড়ালসেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পাতালরেল, উড়ালরেল বা দ্রুতগতির বাসের কথা।


কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতি দেখা যায় না। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাব মিটারের ভাড়ায় যেতে চায় না। যদিও সরকার বারবার বলছে, এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম মানা হবে না। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
নগর পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নে গত রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ও সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যে কয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে নগরে যানজট লক্ষণীয়ভাবে কমে আসবে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) আওতায় অন্তর্ভুক্ত ‘ম্যাস র্যা পিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬’ বাস্তবায়ন, উত্তরা থেকে ফার্মগেট হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল রেলপথ, ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়ালসড়কের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রভৃতি। উড়াল রেলপথ প্রকল্পের কাজ ২০১৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এই পথে ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে রেল চলবে এবং ঘণ্টায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।
প্রতিটি পরিকল্পনাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার না দিলে সবই বৃথা হয়ে যাবে। কারণ, এসব সড়ক নির্মাণের সময় যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কাজের জন্য সৃষ্ট অসুবিধা মানুষ সাময়িক বলেই মেনে নিয়েছে। কিন্তু যদি দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা না হয়, তাহলে প্রলম্বিত সড়ক দুর্ভোগে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে।
একদিকে যানজট, অন্যদিকে জনপরিবহনে সংকট। পুরোনো বাস উঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। আবার নতুন বাসও পর্যাপ্ত সংখ্যায় রাস্তায় নামানো যায়নি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে যেতে চায় না, অথচ ভাড়ার হার বাড়ানো হয়েছে। মালিকের জমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কোনো আধুনিক শহরে ভাড়ায় যেতে না চাওয়ার মতো ঘটনা বিরল। বাংলাদেশে তা চলছে নির্বিচারে।
বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সম্ভবত ঢাকাই একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে সড়কের মোড়ে লাল বাতি জ্বললে গাড়ি চলে আর সবুজ বাতিতে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি থামায়! এসব অনিয়ম ও দুর্ভোগের শেষ কোথায়, তা জানার অধিকার নিশ্চয়ই জনগণের আছে।

No comments

Powered by Blogger.