পবিত্র কোরআনের আলো-কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, এটা বদলে ফেলার অধিকার কারো নেই

১৪. ছুম্মা জাআ'লনা-কুম খালা-য়িফা ফিল আরদ্বি মিম বা'দিহিম লিনানযুরা কাইফা তা'মালূন। ১৫. ওয়াইযা- তুতলা- আ'লাইহিম আ-ইয়া-তুনা- বায়্যিনা-তিন ক্বা-লা ল্লাযীনা লা-ইয়ারজূনা লিক্বা-আনা'তি বিক্বুরআ-নি গাইরি হা-যা- আও বাদ্দিলহু; ক্বুল মা- ইয়াকূনু লী আন উবাদ্দিলাহূ মিন তিলক্বা-য়ি নাফছী; ইন আত্তাবিউ' ইল্লা- মা- ইঊহা- ইলাইয়্যা; ইন্নী আখা-ফু ইন আ'সাইতু রাব্বী আ'যা-বা ইয়াওমিন আ'যীম।


১৬. ক্বুল লাও শা-আ ল্লা-হু মা- তালাওতুহূ আ'লাইকুম ওয়ালা- আদ্রা-কুম বিহী; ফাক্বাদ লাবিছ্তু ফীকুম উ'মুরা ম্মিন ক্বাবলিহী; আফলা- তা'কি্বলূন। [সুরা : সূরা ইউনুস, আয়াত : ১৪-১৬]

অনুবাদ : ১৪. অতঃপর আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি, তোমরা কেমন কাজ কর তা দেখার জন্য।
১৫. যখন এদের সামনে আমার আয়াতগুলোকে প্রমাণস্বরূপ উপস্থাপন করা হয়, তখন যারা আমার সানি্নধ্য চায় না, তারা বলে এটা বাদ দিয়ে অন্য কোনো কোরআন নিয়ে এসো অথবা এটা বদলে ফেলো। (হে নবী) আপনি এদের বলে দিন, আমার এ অধিকার নেই যে নিজের পক্ষ থেকে এতে কোনো পরিবর্তন আনবো। আমি তো তা-ই অনুসরণ করি, যা আমার ওপর ওহিরূপে আসে। আমি যদি আমার প্রতিপালকের নাফরমানি করে বসি, তবে আমার সেই মহান দিবসের শাস্তির ভয় রয়েছে।
১৬. (হে নবী) আপনি বলে দিন, আল্লাহর ইচ্ছা না হলে তো আমি এ কোরআন তোমাদের কাছে পাঠ করতাম না এবং আল্লাহও তোমাদের এ সম্পর্কে অবগত করতেন না। আমি তো এর আগে একটা বয়স পর্যন্ত তোমাদের সঙ্গেই কাটিয়েছি। (তখন তো মনগড়াভাবে এসব কথা বলিনি) এর পরও কি তোমরা (বিষয়টা) বুঝতে পারছো না।

ব্যাখ্যা : ১৪ নম্বর আয়াতে আগের আয়াতের ধারাবাহিকতায় আরো একটি গুরুতর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে যে এর আগে পৃথিবীতে যারা অত্যাচারী জাতি ছিল, তাদের ধ্বংস করে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা অপর এক জাতিকে এদের স্থলাভিষিক্ত করে দিয়েছেন। আর এই স্থলাভিষিক্ত করার কাজটিও করা হয়েছে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য।
১৫ নম্বর আয়াতে কোরআন সম্পর্কে কাফিরদের আজেবাজে কথার উত্তর দেওয়া হয়েছে। আসলে কাফিররা বিশ্বাস করত না যে কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলের (সা.) কাছে ওহিরূপে এসেছে। এ জন্য তারা এ কোরআন বাদ দিয়ে অন্য কোনো কোরআন নিয়ে আসার কথা বলতো এবং এর মধ্যে নানারকম রদবদলের প্রস্তাব করতো। কারণ এর অনেক কিছুই পাপাচারী নাফরমানদের পছন্দ হতো না। অতএব রাসুল (সা.)-কে বলা হচ্ছে, আপনি বলে দিন, প্রথমত. কোরআন মজিদের কোনো অংশ বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা যাবে না। দ্বিতীয়ত. বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করার কাজটি সংগত বা অসংগত যাই হোক, সেটা আমার দ্বারা সম্ভব নয়। কারণ এটা আল্লাহর বাণী, আমি ওহির মাধ্যমে তা পেয়েছি। অতএব আমাকে আল্লাহর বাণীর হুবহু অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় আমি মহান শেষ বিচারের দিন আল্লাহর দরবারে কঠোর জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবো।
১৬ নম্বর আয়াতে অনুরূপভাবেই রাসুলকে (সা.) বলে দিতে বলা হচ্ছে, এ কোরআন আমার নিজের রচিত নয়; বরং আল্লহপ্রেরিত। তিনি ইচ্ছা না করলে এ কোরআন না আমি তোমাদের সামনে পড়তে পারতাম, আর না তোমরা এ সম্পর্কে জানতে পারতে। আল্লাহ তায়ালা এটা আমার প্রতি নাজিল করে তোমাদের পড়ে শোনানোর আদেশ করেছেন। তাই এতে কোনো প্রকার রদবদলের প্রশ্নই ওঠে না। এই আয়াতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা হলো_যারা কোরআন বদলে দেওয়ার কথা বলে, রাসুলের (সা.) নবুয়তে এবং কোরআন যে আল্লাহর কিতাব এতে বিশ্বাস করে না, অথচ এটাই ইসলামের প্রথম কথা। এখানে যা বলা হয়েছে এর অর্থ এ রকম যে, তোমরা তো কোরআন বদলে দেওয়ার দাবি করছো, অথচ এটা আমার নবুয়তের প্রতি অস্বীকৃতি। আমি তো আমার জীবনের একটা বড় অংশ তোমাদের মধ্যে কাটিয়েছি। তোমরা তো আমার সম্পর্কে সবকিছু জানো। নবুয়তপ্রাপ্তির আগে তোমরা আমাকে বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী বলে স্বীকার করতে। অথচ এখন নবুয়তের মতো মহান বিষয়ে তোমরা আমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করার চেষ্টা করছো। এটা তোমাদের নির্বুদ্ধিতার ফল, আসলে তোমরা তা বুঝতে পারছো না।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments

Powered by Blogger.