পথে পথে জনতার ঢল, বাদ্যের তালে তালে খালেদাকে স্বাগত by শরীফুল ইসলাম

রাজধানী ঢাকা থেকে বগুড়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য দলের নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার ঢল নামে। পথে পথে তাঁকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হয়। রাস্তার দু’পাশে ব্যানার,


ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করে হাজার হাজার নেতাকর্মী বাদ্যের তালে তালে নেচে-গেয়ে প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানায়। এ সময় খালেদা জিয়াও হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে শুরু করে বগুড়ার সার্কিট হাউস পর্যন্ত তিন শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়। আজ বিকেলে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-ই শহীদ ময়দানে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন খালেদা জিয়া। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে বিশাল শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
এদিকে গতকাল শনিবার বিকেল চারটায় গুলশানের বাসভবন থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। তাঁর গাড়িবহর খিলক্ষেত পৌঁছলে সেখানে উপস্থিত সহস্রাধিক নেতাকর্মীসহ খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে সেগানে সেগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় খালেদা জিয়া চলন্ত গাড়ি থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে হাউস বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলালের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিশাল মাধ্যমে শোডাউনের মাধ্যমে দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানায়। এরপর টঙ্গী হয়ে গাড়িবহর গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিএনপি নেতা হাসানউদ্দিন সরকার, ফজলুল হক মিলন, অধ্যাপক আঃ মান্নান তাঁদের অনুসারীদের নিয়ে শোডাউন করেন। পথে পথে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর নিরাপত্তা কর্মীদের সহযোগিতায় জনতার ভিড় ঠেলে গাড়ি সামনে এগিয়ে চলে। চন্দ্রা মোড় ও কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, নাটিয়াপাড়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী, নগর জালফৈ এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান ও সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফার নেতৃত্বে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানানো হয়।
গাড়িবহর এলেঙ্গা পৌঁছার পর আবার দলীয় নেতাকর্মীদের জটলার মুখে পড়ে তাঁর গাড়িবহর। প্রিয় নেত্রীকে এক নজর দেখার জন্য চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তারা। কেউ কেউ খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িতে ফুল ছিটিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। যমুনা সেতুর দুই তীরে ব্যাপক শোডাউন করে বিএনপি-জামায়াত ও ১৮ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে সেøাগান দিয়ে প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানান। জামায়াত নেতাকর্মীরা মতিউর রহমান নিজামী, সদ্য আটক নেতা মাওলানা আঃ সুবহানসহ দলের কারাবন্দী নেতাদের ছবি প্রদর্শন করে তাঁদের মুক্তির দাবি করেন। এরপর সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় হয়ে গাড়িবহর হাটিকুমরুল পৌঁছলে হাজার হাজার নেতাকর্মী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। এরপর রায়গঞ্জ হয়ে বগুড়ার চান্দাইকোনা, শেরপুর, শাহজাহানপুর, বনানী সাতমাথা দিয়ে সরাসরি সার্কিট হাউসে আসে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। সাতমাথা থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসক জনতা বিভিন্ন ধরনের সেøাগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে বিভিন্ন বয়সের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী হাতে ধানের শীষ বহন করে নেচে-গেয়ে খালেদা জিয়ার বগুড়ায় আগমনকে স্বাগত জানান। এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াসহ জোট নেতাদের অভ্যর্থনা জানান।
রাত সাড়ে ৯টায় সার্কিট হাউসে পৌঁছে কিছুক্ষণ বিশ্রাম ও ডিনার সেরে তিনি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাতে খালেদা জিয়াসহ ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা সার্কিট হাউসেই অবস্থান করেন। সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, সাদেক হোসেন খোকাসহ ১৮ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন।
আজ রবিবার বেলা ১১টায় বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন খালেদা জিয়া ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। দিনাজপুরে আগে থেকে অবস্থান করা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাবেন। বিকেল চারটায় দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-ই শহীদ ময়দানে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন খালেদা জিয়াসহ জোটের শীর্ষ নেতারা। এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন জেলা সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু। সভা পরিচালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক মুকুর চৌধুরী। দিনাজপুর সফরকালে খালেদা জিয়া তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করবেন বলেও দলের একটি সূত্র জানায়।
উল্লেখ্য, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচী ঘোষণা করে গত ২৮ আগস্ট। এর অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার এটি প্রথম জনসভা। দিনাজপুরের জনসভা শেষে চলতি মাসের ২৯ তারিখে তার রাজবাড়ীতে, ৬ অক্টোবর হবিগঞ্জে ও ৯ অক্টোবর বরিশালের জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

No comments

Powered by Blogger.