দেশ-বিদেশে পছন্দের স্থানে ভ্রমণের তথ্য আকর্ষণীয় অফার- আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার by মোরসালিন মিজান

যেন শুধু খেয়ে পরে বাঁচার জন্য এই বাংলাদেশ। এখানে ট্যুরিজম নিয়ে ভাববার আছেটা কে? কবে পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ হয়েছে? হ্যাঁ, এ সংক্রান্ত একটি মন্ত্রণালয় আছে। রুটিন কর্ম সম্পাদন করছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। একই অবস্থা পর্যটন কর্পোরেশনের।


ফলে অগ্রগতির কথা বলতে গেলে সামান্যই। আশপাশের অনেক দেশ যখন এ সেক্টর থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে তখন নামমাত্র আছে বাংলাদেশ। বাঙালী নিজেরা যেমন দেশ-বিদেশ ঘুরে পয়সা নষ্ট করতে চান না, তেমনি উদ্যোগ নেই বিদেশীদের আকৃষ্ট করার। বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের এই হচ্ছে মোটামুটি চিত্র।
তবে এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন বেসরকারী উদ্যোক্তারা। না, দশ পাঁচজন নয়। এ তালিকাটি দীর্ঘ। ব্যবসায়ীরা বহু টাকা ইনভেস্ট করছেন। এঁদের বড় একটি অংশ আবার ভ্রমণপিয়াসী। সে সূত্রে পর্যটন ব্যবসায় এসেছেন। ব্যবসার পাশাপাশি পর্যটনকে জনপ্রিয় করতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। সেই সব উদ্যোগের একটি এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা থাকলেও এর মূল আয়োজক বেসরকারী উদ্যোক্তারা। গত বছর প্রথমবারের মতো তাঁরা এ মেলার আয়োজন করেন। শুক্রবার থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় আয়োজন।
এতে দেশী-বিদেশী মিলিয়ে শতাধিক স্টল স্থান পেয়েছে। দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পসরা সাজিয়েছে। বাইরের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ফিলিপিন্স, চীন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভিয়েতনাম। এয়ারলাইন্স, হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল শপ, ট্যুরিজম ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল আছে মেলায়। সামনে শীত। পর্যটনের জনপ্রিয় মৌসুম। এ মৌসুমে কার কি অফার আছে তা তুলে ধরা হচ্ছে এসব স্টলে। আকর্ষণীয় সব অফার ব্যাখ্যা করছেন স্মার্ট কর্মীরা।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে এশিয়ার দেশগুলোতে ভ্রমণের সকল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আঞ্চলিক পর্যটন শিল্পের মোটামুটি একটি চেহারা চাইলেই দেখে নেয়া যায় এখান থেকে। অনেক দর্শনার্থী মন দিয়ে সে কাজটিই করছেন। শনিবার মেলায় এসেছিলেন ইস্টার্ন প্লাজার তরুণ ব্যবসায়ী গাউসুল হক। শীতে স্ত্রীকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। জানান, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেই মেলায় আসা। যথেষ্ট তথ্য তিনি পেয়েছেন। তাই বেশ খুশি। তবে ভ্রমণ পিয়াসীরা যে স্টলে গিয়েছেন সে স্টল থেকেই কাগজপত্র নিয়েছেন হাত ভর্তি করে। বাসায় বসে সেগুলো যাচাই বাছাইয়ের কথা জানালেন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আলী আশরাফ। বললেন, আসন্ন শীতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ না হলে দেশের ভেতরেই পছন্দের একটি জায়গা থেকে ঘুরে আসব। সে জন্য দেশী- বিদেশী সব স্টলের অফার জেনে নিয়েছি। ফেয়ারের হেড অব মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পর্যটনের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করতেই এ আয়োজন। প্রতিদিন বহু ভ্রমণপিয়াসী এখানে আসছেন। অনেকে আসছেন সপরিবারে। সব মিলিয়ে অনেক ভাল সারা পাচ্ছি আমরা।
তবে এখানেই শেষ নয়, মেলা উপলক্ষে প্রতিদিনই এখানে আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন সেমিনারের। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সব মিলিয়ে চমৎকার একটি আয়োজন।
তবে এক জায়গায় এত তথ্য ও বিনোদন পাওয়ার সুযোগ আজই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারণ আজ রবিবার শেষ হচ্ছে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০১২।

No comments

Powered by Blogger.