সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার

হাজার হাজার বছর ধরে সৌদি আরব তথা আরব উপদ্বীপের জনগণ বিশ্বের ভৌগোলিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালে উপদ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলের জনগণ দক্ষিণ এশিয়া, ভূমধ্যসাগরীয়


অঞ্চল এবং মিসরে সুদূরপ্রসারী বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের অপরদিকে বাইজানটাইন ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যের মাধ্যম বা সংযোগকারী হিসাবে কাজ করেছে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির সঙ্গে শত শত বছর ধরে যোগাযোগ ও লেনদেন আরব উপদ্বীপের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
সপ্তম শতাব্দীতে এ অঞ্চলে ইসলামের আবির্ভাব এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নতুন আঙ্গিকে রূপ দেয়। ফলে ইসলামী ভাবধারা ও শিক্ষার সাথে এক চমৎকার সমন্বয়ে তা আরও শক্তিশালী হয়। এক শতকের মধ্যে ইসলাম পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পূর্বে ভারত উপমহাদেশ ও চীন পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। মক্কাকেন্দ্রিক ইসলামী জ্ঞান, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার ক্ষেত্রে মানব ইতিহাসে অতুলনীয় উৎকর্ষতা সাধন করে। প্রায় ১৫০০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা ইসলামের পবিত্র স্থান মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারাসহ আরদুল কুরআন বলে খ্যাত সৌদি আরব সফর করে আরব উপদ্বীপের সাংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
১৯৩২ সালে আধুনিক রাষ্ট্র হিসাবে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর এর প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আযীয বিন আব্দুর রহমান আল সউদ আরব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে হিফাযত এবং চিরস্থায়ী করার দিকে মনোনিবেশ করেন। তাঁর নিষ্ঠা ও প্রচেষ্টাকে তাঁর সন্তানগণ অব্যাহত রাখেন। যদিও সৌদি আরব দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিগত পঞ্চাশের দশক থেকে অদ্যাবধি প্রভূত অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আধুনিকায়ন সত্ত্বেও সৌদি আরব সার্থকভাবে তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালন করেছে ও একে আরও শক্তিশালী করেছে। এর মধ্য দিয়ে সৌদি সংস্কৃতির স্থিতি এবং তা সংরক্ষণে সৌদি জনগণের দৃঢ় সংকল্প ও আকাক্সক্ষার বহির্প্রকাশ ঘটেছে। আজ একুশ শতকের চাকচিক্যপূর্ণ আধুনিক সৌদি সমাজে অবস্থান করেও সমসাময়িক কালের সৌদি লেখকরা অনুপ্রেরণার জন্য পিছনে ফিরে তাকায়। জনপ্রিয় শিল্পীরা তাদের আধুনিক গানে প্রাচীন তাল ও বাদ্যযন্ত্র খোঁজে। চিত্রকররা অঙ্কন করে ঐতিহ্যবাহী মনোরম দৃশ্য।
১৯৭০-এর দশকে উন্নয়নের ত্বরানিক ধারায় সৌদি নেতৃবৃন্দ জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। ১৯৭৪ সালে যুব কল্যাণে সংক্রান্ত জেনারেল প্রেসিডেন্সি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রধান কাজ ছিল জাতীয় সংস্কৃতি ও শিল্পকলা সম্পর্কে যুব সমাজের মধ্যে পরিচয় ঘটানো ও এর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করা।
১৯৭৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাদুঘর ও প্রাচীন নিদর্শন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে রিয়াদের জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে জাতীয় ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কিত হাজার হাজার উপকরণ, যা পরিদর্শন করার জন্য সৌদি নাগরিক বিশেষ করে তরুণরা প্রতিদিন এ সব জাদুঘরে ভিড় জমায়।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যাপারে সৌদি আরবের আগ্রহ সারাদেশে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্নমুখী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। সংস্কৃতির উন্নয়নে প্রথম কাজটি হচ্ছে জাতির জন্য উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। তাই পারিবারিকভাবে ইসলামী ও আরব মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত সৌদি তরুণরা মাদরাসায় এসে সাহিত্য ও শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়। স্কুলের পাঠ্যক্রম ও বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৌদি তরুণদের মধ্যে তাদের অতীতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ এবং ভালবাসা জাগ্রত করে। যুব কল্যাণ সংক্রান্ত জেনারেল প্রেসিডেন্সি তরুণদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সাহিত্য ও নাট্য ক্লাব, লোকসঙ্গীতের ক্লাস, লাইব্রেরি ওয়ার্ক, চারু ও কারু কলা এবং বিজ্ঞান প্রকল্প। যুব কল্যাণ সংক্রান্ত জেনারেল প্রেসিডেন্সি প্রতি নিয়ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এগুলোর মধ্যে থাকে কবিতা প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, ক্যালিওগ্রাফী ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এ সংস্থার আঞ্চলিক অফিসসমূহ এবং রিয়াদস্থ সদর দফতর নিয়মিতভাবে প্রদর্শনী সাহিত্য পাঠ ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে। এই সংস্থা আন্তর্জাতিক সাহিত্য শিল্প ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সৌদিদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে।
শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত আরেকটি সংগঠনের নাম সৌদি এরাবিয়ান সোসাইটি ফর কালচার অ্যান্ড আর্টস। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন যুব কল্যাণ সংক্রান্ত জেনারেল সেক্রেটারিয়েটের অধিভুক্ত হয়। এর ছয়টি বিভাগ রয়েছে। যথা- সংস্কৃতি, নাটক, গান, কণ্ঠশিল্প, লোকসঙ্গীত, শিল্পকর্ম, তথ্য ও প্রকাশনা। সংস্থার কাজের মধ্যে রয়েছে সম্ভাবনাময় সৌদি শিল্পীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের উপযোগী ক্ষেত্র সৃষ্টি করা। এছাড়াও এ সংস্থা একটি পাঠাগার, একটি তথ্যকেন্দ্র এবং রাজধানী রিয়াদে দেশের প্রথম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
বাদশাহ ফয়সাল ফাউন্ডেশন দেশের মধ্যে এবং বিদেশে আরব ও ইসলামী সংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে। রিয়াদভিত্তিক এই সংস্থা সাহিত্য, বিজ্ঞান ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ব্যক্তি বিশেষকে বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করে।
* এ ছাড়াও রিয়াদের বাদশাহ ফাহাদ পাঠাগারে আরবী ও ইসলামী সাহিত্যের ও শিল্পের দুর্লভ পাণ্ডুলিপির বৃহত্তম সংগ্রহ রয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

জুনাদারিয়া উৎসব
রিয়াদের কাছে জুনাদারিয়ায় ১৯৮৫ সালে প্রথম সৌদি ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়। বাদশাহর পৃষ্ঠপোষকতায় ন্যাশনাল গার্ডের আয়োজিত এই উৎসব এখন প্রতিবছরই অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য অনুসন্ধান ও সংরক্ষণের ব্যাপারে সৌদি আরবের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। ১৫ দিন ব্যাপী বার্ষিক উৎসব অতীতের দিকে ফিরে তাকাতে সৌদিদের সুযোগ করে দেয়। একটি ঐতিহ্যবাহী উটের দৌড়ের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উৎসবের সময় লোকসঙ্গীত শিল্পীরা আর্ধা ও অন্যান্য জাতীয় নৃত্য পরিবেশন করে। সারাদেশ থেকে আগত শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ও গানবাদ্য পরিবেশন করে। সারাদেশের সাহিত্যিকরা কাব্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। জাতীয় উৎসবের গুরুত্ব বিবেচনা করে জুনাদারিয়ায় একটি স্থায়ী ‘কৃষ্টি পল্লী’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ইসলামী পুরাতত্ত্ব
ইতিহাস সংরক্ষণ সৌদি আরবের সংস্কৃতির একটি অত্যাবশ্যকীয় দিক। দেশের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণ করে জাদুঘর ও প্রাচীন নিদর্শন বিভাগ। এই বিভাগ প্রাগৈতিহাসিক এবং ঐতিহাসিক স্থানসমূহ খনন, নিদর্শনসমূহের ক্যাটালগ তৈরি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। রিয়াদের ‘বাদশাহ সউদ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও গুরুত্বপূর্ণ পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন খনন করে। দেশের ভূতত্ত্ববিদরা যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণ করেছেন তার অন্যতম হচ্ছে দিরাইয়ার আল সউদ পরিবারের পৈত্রিক নিবাস। এটা সৌদি আরবের প্রথম রাজধানী।
ইসলামের জন্মভূমি হিসাবে সৌদি আরবে ইসলামী পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়। পবিত্র মক্কা ভূমি ইসলামী সংস্কৃতির গর্বিত ধারক বাহক হওয়ার কারণে একে পবিত্র রাজধানী হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পৃথিবীর প্রথম ঘর মক্কা মুকাররমার মসজিদুল হারাম এবং মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববী ছাড়াও সারাদেশে বিপুলসংখ্যক প্রাচীন মসজিদ রয়েছে। বিশেষ করে মহানবীর (সা.) ওফাতের পর প্রথম যুগের খলিফারা যে সব মসজিদ নির্মাণ করেছেন সেগুলো অত্যন্ত যতেœর সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জনগণের কল্যাণে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সৌদি আরব যে অঙ্গীকারাবদ্ধ তার আরেকটি প্রমাণ রিয়াদের প্রাচীন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন ‘কছর আল হাকাম’ এর পুনরুদ্ধার। এগুলো পরিদর্শন করে আজও বিশ্ববাসী ইসলামের ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাচ্ছে। নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে, বর্তমান বিশ্বে সৌদি আরবেই সবচেয়ে বেশি ইসলামী সংস্কৃতি, শিক্ষা বিস্তার ও সংরক্ষণ করে।

স্থাপত্যের সংহতি
সমসাময়িক কালের সৌদি স্থপতিরা ভবনের নকশা করার সময় বেশ গুরুত্ব সহকারে ইসলামী ঐতিহ্যের ধারাটি ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবেশ, ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্পদের বিষয় চিন্তা করেই সাধারণত ভবনের নকশা ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। তখন নির্মাণের সুবিধা অনুযায়ী সাধারণত পাথর, লাল ইটা ও লোহিত সাগর থেকে সংগৃহীত প্রবাল ব্যবহার করা হয়। সৌদি স্থপতিরা সৌদি আরবের স্থাপত্য সংহত এবং সংরক্ষণ করেন এবং চিরাচরিত ভবন নকশায় নতুনত্ব সংযোগ করেন। নতুন কাঠামোর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য শিল্পের প্রয়োগ নতুন ও পুরাতন ঐতিহ্যের সম্মিলন ঘটায়। যাতে ঐ সব ভবনের মাধ্যমেই ইসলামী ঐতিহ্য আধুনিক নান্দনিকতায় ফুটে ওঠে নয়নাভিরাম এক দৃশ্যের মাধ্যমে।

পুরুষের পোশাক
সৌদি আরবের পোশাক অতীতের ইসলামী আদর্শ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়। যা আজও চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিবেশে জনগণের ইমান ও মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটাতে সহায়ক হয়। তাই সৌদি জনগণ আজও পোশাক ও আচরণের শালীনতা সম্পর্কিত ইসলামী আদর্শ নির্দেশিত পরিবেশে ঢিলাঢালা স্বাচ্ছন্দ্য পোশাকের ওপর গুরুত্বারোপ করে। স্মরণাতীত কাল থেকে পুরুষরা পরে তোব, হাঁটু পর্যন্ত দীর্ঘ উল বা সুতার একটি কুর্তা। মাথায় পরে হালকা সুতায় নিপুণ হাতে তৈরি করা রুমাল ও একে আটকিয়ে রাখার জন্য পরা হয় ঘুতরা বা ইকাল। এটা পুরুষরাই পরিধান করে। তবে ঈদ উৎসব ও সরকারী অনুষ্ঠানে বিবাহের উৎসবে আলাদা ধরনের পোশাক পরা হয়।

মহিলাদের পোশাক ও অলঙ্কার
মহিলাদের পোশাকেও ইসলামী শিক্ষা ও ঐতিহ্য পুরোপুরিভাবে বিদ্যমান। তারা আবায়া নামক কালো কাপড় দ্বারা সমস্ত শরীর ঢেকে রাখে। সাথে সাথে মাথায় হিজাব ও নিকাব ব্যবহার করে। মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক আঞ্চলিক ও উপজাতীয় প্রথা অনুযায়ী লেস থাকে। মুদ্রা ও ধাতব সুতা দিয়ে এ সব লেস তৈরি করা হয়। হাজার বছর ধরে আরবীয় পোশাকের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হচ্ছে অলঙ্কার। রৌপ্য বা খাদ মিশানো স্বর্ণ দিয়ে গহনা, ব্রেসলেট, আংটি, হার এবং মাথার অলঙ্কার ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে আধুনিক পোশাকের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় যা বয়স ও ঋতু অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

খাদ্য ও পানীয়
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সৌদি আরবের খাদ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত। যে কোন প্রকারের মাদকদ্রব্য ও শূকর খাওয়া নিষিদ্ধ। তাদের প্রধান খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- রুটি ও কাবসা নামীয় ভাত। তা ছাড়াও গোযী ও মিন্দিরও ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। মেহমান আগমনের সাথে সাথেই খেজুরসহ কফি প্রদান করা তাদের সামাজিক রীতি। পাশাপাশি পুদিনা পাতা (না’না পাতা) মিশ্রিত আরবীয় চায়ের কথা সহজে ভোলা যায় না। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে, বন্ধুদের আড্ডায় বিভিন্ন প্রকার হাল্কা খাবারের ব্যাপক আয়োজন থাকে।

ক্যালিওগ্রাফি
ইসলামের শুরু থেকেই আরবী ক্যালিওগ্রাফির সূচনা। ঐতিহাসিকদের মতে ক্যালিওগ্রাফির প্রাথমিক বিষয় হচ্ছে পবিত্র কুরআন। একটি ইসলামী শিল্প কর্ম হিসাবে সৌদি আরবে ক্যালিওগ্রাফি খুবই সম্মানিত কাজ। সৌদি জাদুঘরে দুর্লভ সব ক্যালিওগ্রাফি সংগ্রহ ও প্রদর্শন করা হয়। অন্যান্য সংস্থা ও ক্যালিওগ্রাফির আয়োজন করে, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে এবং নতুন নতুন ক্যালিওগ্রাফিস্ট তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এখন ধাতব, সিরামিক, গ্লাস, বস্ত্র, চিত্রকর্ম ও স্থাপত্যে ক্যালিওগ্রাফির ব্যাপক প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। মসজিদের অভ্যন্তরীণ দেয়ালসমূহও ক্যালিওগ্রাফির সাহায্যে কুরআনের আয়াত উৎকীর্ণ করে সাজানো হয়। সরকারী ও বেসরকারী অফিস এমনকি বাড়ি-ঘর ও রাস্তায় এখন ক্যালিওগ্রাফির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে সৌদি আরবের প্রধান ক্যালিওগ্রাফারগণ হলেন- আব্দুল্লাহ আল শাইখ, আব্দুল আযীয আশুর, রাইদাহ আশুর, মুহাম্মাদ ফারি, মুহাম্মাদ আল গামিদী, ফাহাদ আল হাযিলান, আব্দুল্লাহ হাম্মাস, উইসুফ জাহা, জামান জাসিম, আব্দুর রহমান আল মাগরিবী, আব্দুল্লাহ আল মারজুক, মুনীরা মুছলী, কামাল আল মুআলিম, ত্বহা আল ছব্বান, মুহাম্মাদ আল ছকআবী, বাসিম আল শারকী, আব্দুর রহমান আল সুলাইমান ও হাশিম সুলতান।

সাংস্কৃতিক রাজধানী
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে ২০০০ ইং সালের জন্য যথার্থভাবেই সমগ্র আরব বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানীরূপে বাছাই করা হয়েছিল। এ উপলক্ষে রিয়াদে সারা বছরই সেমিনার সম্মেলন এবং নানা ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময়ে সৌদি আরব ও আরববিশ্বের বহু জ্ঞানীগুণী, আলিম-উলামা এবং সাহিত্যিকগণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
সমসাময়িক কালে রিয়াদের দিকে তাকালে সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে, পুরাতন এবং নতুনের সংমিশ্রণে এই নগরী দ্রুত গড়ে উঠেছে। যার লোকসংখ্যা বর্তমানে ৫৪৩১৮৯৩ জন। এই নগরীর প্রায় ১০০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে যে পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে তার গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। রিয়াদের অনেক জাদুঘর, পাঠাগার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অবস্থানের ফলে সৌদি আরবের উত্তরাধিকার এবং মূল্যবোধকে রক্ষা এবং সম্প্রসারণ করে চলেছে এই নগরী। বলা বাহুল্য, চলতি শতাব্দীতে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও আধুনিকীকরণ, বহুমুখীকরণ এবং সম্প্রসারণের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তা করা হচ্ছে এবং আজও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। আল্লাহ উহাকে হিফাজত করুন।

* আজ ৮২তম সৌদি জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত

No comments

Powered by Blogger.