এক মহিমান্বিত মাস by আলী হাসান তৈয়ব

কোরআন কারিমে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে_ সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া অর্জন। তাকওয়া মনের ওই অবস্থাকে বলে যার কারণে পাপের প্রতি প্রচণ্ড বিরাগ ও পুণ্যের প্রতি প্রবল অনুরাগ সৃষ্টি হয়। যেহেতু পশুসুলভ প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ সাধারণত দুর্বল ও কমজোর হয়ে পড়ে, তাই রমজানের রোজার মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খোদাভীতির অবস্থা তৈরি হয়ে যায়।


এ ছাড়া রমজানুল মোবারকে কোরআনুল কারিমের তিলাওয়াত বেড়ে যায়, রোজায় অভুক্ত থাকার প্রভাবে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও কল্যাণকামিতার মানসিকতা প্রবল হয়, রোজা ও নিছক উপবাসের মধ্যে ব্যবধান তৈরির মানসে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পুরুষদের জন্য জামাতের সঙ্গে আদায়ের এবং মহিলাদের জন্য মুস্তাহাব ওয়াক্তে উত্তমরূপে আদায় করার প্রতিও সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। যদি জিকির-ফিকির ও আল্লাহর ইয়াদ এবং তাসবিহে ফাতেমি, ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ ও কোরআন তেলাওয়াতের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু, কবর, জীবন ও পরকালের অবশ্যম্ভাবী অবস্থাদির মুরাকাবা-ধ্যানও করা হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা। কারণ, রমজানের আমলের প্রতিদান অনেক বেশি। হাদিস শরিফের বর্ণনানুযায়ী, রমজান মাসে নফলের সওয়াব অন্য মাসের ফরজের সমান এবং রমজানে ফরজের সওয়াব অন্য মাসের তুলনায় ৭০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
সিনাই পর্বতে তাওরাত আনতে গিয়ে হজরত মুসা (আ.) ৪০ দিন পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত ছিলেন। সায়ির পর্বতে হজরত ঈসার (আ.) ওপর যখন ইনজিল নাজিল হয়, তার আগে তিনিও ৪০ দিন পর্যন্ত রোজা অবস্থায় কাটান।
অনুরূপভাবে পবিত্র কোরআন নাজিলের প্রাক্কালে হজরত রাসূলে কারিম (সা.) হেরায় নির্জন গুহায় পুরো এক মাস বিশেষভাবে ইবাদতে লিপ্ত থাকেন। অবশেষে সেখানেই সূরা আলাকের শুরুর আয়াতগুলো নাজিল হয়। সরদারে কায়েনাতের এ ঘটনাটিও সংঘটিত হয়েছে রমজান মাসে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে_ 'রমজান হলো সেই মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য পথনির্দেশ, আর অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য নিধানকারী।' (সূরা বাকারা : ১১৫)
মাহে রমজানের যে রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, সেই রাত 'শবেকদর' নামে অভিহিত। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে_ 'নিশ্চয় একে (কোরআন শরিফ) নাজিল করেছি শবেকদরে।' (সূরা কদর :০১)
সুতরাং পবিত্র এ মাসটি ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাটানো অর্থাৎ রোজা রাখা এবং কোনো ইবাদতগাহে একাকী নির্জনে থাকা তথা ইতিকাফ করা এবং ওহি নাজিলের রাত বা লাইলাতুল কদরে নির্ঘুম থেকে ইবাদত-বন্দেগি করা ও সিজদায় অবনত থাকা সব মুসলমানের কর্তব্য, যাতে আমরা নিজেদের ওপর ওই হালত ও অবস্থা সৃষ্টি করতে পারি এই সময়ে যে হালত প্রকাশিত হয়েছিল মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর (সা.) ওপর। যেন আল্লাহতায়ালা প্রদত্ত নিয়ামত ও হিদায়াত থেকে আমরা পূর্ণরূপে লাভবান হতে পারি এবং হিদায়াত ও নিয়ামতের কথা স্মরণ করে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করি।
alihasantaib@gmail.com
 

No comments

Powered by Blogger.