নিরক্ষরমুক্ত চা বাগান-দুর্গম পথের প্রথম পদক্ষেপ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার এক উদ্যমী তরুণের প্রচেষ্টায় একটি চা বাগানে কর্মরত সব শ্রমিক ও তাদের পরিবার স্বাক্ষরজ্ঞান লাভ করেছে_ সমকালের উন্নয়ন উদ্যোগ পাতায় প্রকাশিত এই খবর উৎসাহব্যঞ্জক সন্দেহ নেই। অক্ষর চেনার সামান্য সদিচ্ছা দশক দশক ধরে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার এই জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ এবং মানবিক জীবনপ্রাপ্তির দুর্গম পথে প্রথম পদক্ষেপ হয়ে থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।


আর দশটা 'প্রকল্প' যেভাবে কোনোরকমে 'সম্পন্ন' করা হয়; এ ক্ষেত্রে তার পুনরাবৃত্তি কেউ চাইবে না। সবকিছু পড়তে ও হিসাব করতেও তাদের সক্ষম করে তোলার যে প্রত্যয় সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি ব্যক্ত করেছে, তাও যথার্থই বাস্তবায়িত হবে বলে প্রত্যাশা। কাজটি কঠিন, সন্দেহ নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক হলে তা অসম্ভব হতে পারে না। কারণ, অন্য অনেক খাতের কর্মীদের মতো চা শ্রমিকরা ভাসমান নয়। সাধারণত একই চা বাগানে তারা বংশপরম্পরায় কাজ করে থাকে। স্থায়ী ও সংঘবদ্ধ একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ। আমরা আশা করি, সেই আলোই তাদের জীবন ও পেশার অন্যান্য অন্ধকার দূর করতে সহায়ক হবে। সিরাজনগর চা বাগান কর্তৃপক্ষও এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারে। তাতে করে তাদের উৎপাদনে ব্যাহত নয়, বরং সুশৃঙ্খল হবে। শিক্ষিত একদল কর্মী বাহিনী বাগানের জন্য সম্পদই বিবেচিত হওয়া উচিত। বংশপরম্পরায় তারা যেভাবে বাগানের শ্রীবৃদ্ধি করে আসছে, তার প্রতিদানও দিতে হবে। ঔপনিবেশিক আমলের শোষণোন্মুখ মানসিকতা বদলানোর বিকল্প নেই। সিরাজনগর চা বাগানের এই নজির অন্যত্রও স্থাপিত হোক। সে কাজে অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও এগিয়ে আসতে পারে। সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। নিরক্ষরমুক্ত জাতি গঠনের স্বপ্ন চা শ্রমিকদের বাদ দিয়ে পূরণ হবে কীভাবে? সবাই আন্তরিক হলে দুর্গম পথটি পারি দেওয়া কঠিন নয়।

No comments

Powered by Blogger.