ভর্তিযুদ্ধ হবে ব্যবসায় শিক্ষায়! by নিজাম সিদ্দিকী

এসএসসির ফল প্রকাশের পর এবার শুরু হচ্ছে ভর্তিযুদ্ধ। ১৩ মে কলেজ থেকে ভর্তির আবেদনপত্র ছাড়ার কথা রয়েছে। এবারে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে নামী কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় নামতে হবে শিক্ষার্থীদের। তবে চাপ বাড়বে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে। চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে এবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাস করায় এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।


সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক ও শ্রেণীকক্ষের সংকট থাকায় বাড়ানো যাচ্ছে না আসনসংখ্যা।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বোর্ডে এ বছর ৮৫ হাজার ৭৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৭ হাজার ৭২২ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে ১৩ হাজার ৭৪৬, মানবিক থেকে ১২ হাজার ৭৫৩ ও ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ৪১ হাজার ২২৩ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা মনে করি, সামগ্রিকভাবে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে ভর্তি সমস্যায় পড়তে হবে না। তবে ব্যবসায় শিক্ষায় কিছুটা চাপ পড়তে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে ছাত্রছাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ভর্তি হতে পারে। চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে কোনো কলেজে যদি আসনের বেশি ছাত্র ভর্তি হতে চায়, সে ক্ষেত্রে আমরা আসন বাড়িয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।’
এক হিসাবে জানা যায়, চট্টগ্রামে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৯০ হাজার আসন রয়েছে। সে হিসাবে ভর্তিসংকট হওয়ার কথা নয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হাতেগোনা কয়েকটি কলেজেই ভর্তি হতে চায় বলে সেসব কলেজে চাপ বাড়ছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচ হাজার ১২১ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিন হাজার ৮১৮ জন, মানবিক থেকে ৩৫ ও ব্যবসায় শিক্ষা থেকে এক হাজার ২৬৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সূত্রমতে, চট্টগ্রামে ২০টি সরকারি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে নগরে রয়েছে পাঁচটি সরকারি কলেজ। এগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, সরকারি বাণিজ্য কলেজ ও নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজ। পাঁচটি সরকারি কলেজে মোট আসনসংখ্যা পাঁচ হাজার ৩৫০টি। এর মধ্যে বিজ্ঞানে এক হাজার ৬৫০টি, মানবিকে এক হাজার ৬৫০টি ও ব্যবসায় শিক্ষায় দুই হাজার ১০০ আসন রয়েছে। এসব কলেজই বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে। সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের শিক্ষার্থী মো. আলী আরিফিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজেই ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে আমার।’ আরিফিন এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কিন্তু ভালো ফলাফল সত্ত্বেও বিজ্ঞান বিভাগের সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ শেখর দস্তিদার বলেন, ‘বিজ্ঞান বিভাগে আমাদের প্রতিবছরই চাপ থাকে। সবাই চায় এ কলেজে ভর্তি হতে। আমাদের পক্ষে সবার জন্য সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয় না। আমার মতে প্রতিটি কলেজেই যদি দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার তদারকির ব্যবস্থা থাকে তাহলে যেকোনো কলেজে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা সুফল পাবে।’ পাঁচটি সরকারি কলেজের মধ্যে শুধু চারটিতে রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ ও নাসিরাবাদ সরকারি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা চালু আছে। এসব কলেজে এবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তিচ্ছুদের চাপ বাড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের। আসন সংকটের কারণে এসব কলেজে সবার জায়গা হবে না।
হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল গোফরান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছে থাকলেও আসন বাড়ানোর কোনো উপায় নেই। ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। তা ছাড়া শ্রেণীকক্ষেরও সংকট রয়েছে।’ জানা যায়, চট্টগ্রাম কলেজে ৭০০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞানে ৪৫০ ও মানবিকে ৩০০টি আসন রয়েছে। এখানে বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ ও মানবিকে ৩ দশমিক ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজে এক হাজার ৩৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান, মানবিকে ও ব্যবসায় শিক্ষায় ৪৫০টি করে আসন রয়েছে। এ কলেজে বিজ্ঞানে জিপিএ-৫, মানবিকে ৩ দশমিক ২৫ ও ব্যবসায় শিক্ষায় ৪ দশমিক ২৫ পাওয়া ছাত্রদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। সরকারি বাণিজ্য কলেজে ৭৫০টি আসন রয়েছে। এখানে ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ৪ দশমিক ৬০ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হয়। সরকারি সিটি কলেজে এক হাজার ৬৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে দিবা শাখায় বিজ্ঞানে ৪৫০, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ৩০০টি করে আসন রয়েছে। বৈকালিক শাখায় বিজ্ঞান বিভাগ নেই। মানবিকে ও ব্যবসায় ৩০০টি করে আসন রয়েছে। সরকারি মহিলা কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩০০টি করে মোট ৯০০টি আসন রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.