তত্ত্বাবধায়কের দাবি নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আবারও নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়করূপী দানব আর মানুষ দেখতে চায় না। হরতালের নামে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, তাদের সঠিক পথে আনার উপায় জানা আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সহ্য করছি বলে দুর্বলতা মনে করবেন না।’


২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অন্য ১০টা গণতান্ত্রিক দেশ যেভাবে চলে, সেভাবেই দেশ চলবে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ছাড়া দেশের উন্নয়ন হয় না।
গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরের চত্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও সমুদ্রজয় উপলক্ষে দেওয়া বর্ণাঢ্য ছাত্র সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।
হরতালের দিনেও সারা দেশ থেকে ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী এসে সংবর্ধনায় যোগ দেন। বেলা দুইটার মধ্যেই গোটা চত্বর পরিপূর্ণ হয়ে যায়। একপর্যায়ে জায়গা না পেয়ে নেতা-কর্মীরা সম্মেলন কেন্দ্রের চারপাশে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান নেন।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে ছাত্রলীগের দলীয় সংগীত এবং দেশের গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। ‘দেশসেবার এক ব্রত নিয়ে জীবন করেছ সমর্পণ, নেত্রী তোমায় অভিনন্দন’—এই গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ।
পরে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। বদিউজ্জামান অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, সহ-অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ, জাতীয় দলের ফুটবলার জাহিদ হোসেন এমিলি এবং এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমরা যখন দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করছি, তখন তারা ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত। সহ্য করছি বলে এটা দুর্বলতা না। যারা এ ধরনের কাজ করবে, মানুষ পুড়িয়ে মারবে, জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে, তাদের কীভাবে সঠিক পথে আনা যায় তা আমাদের জানা আছে। তবে আমরা তা করতে চাই না। আমরা চাই, তারা সঠিক পথে চলুক। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।’
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার অনেক দুর্নীতি করেছে, লুটপাট করেছে। এদের দুর্নীতি দেশে-বিদেশে প্রমাণিত হয়েছে। দেশ তখন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের দেশে পরিণত হয়েছিল। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অপশাসনে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, ছাত্রসহ এমন কোনো মানুষ নেই যে নিগৃহীত হয়নি।
সমুদ্রজয় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সমুদ্র নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের সঙ্গে মামলার রায় হবে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে ভারতের সঙ্গে মামলায়ও জয়ী হব।’ তিনি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যে বারবার হরতাল দেওয়ায় পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করতে হয়েছে। পরীক্ষার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের বিরক্ত করা হলে পড়াশোনা থেকে তাদের মন উঠে যাবে। কার স্বার্থে হরতালের নামে ঘুমন্ত চালকসহ পাঁচজনকে হত্যা করা হলো?’
স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিচারণা করে আবেগতাড়িত শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর আমাকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর যখন দেশে ফিরি, তখন আর সরকার বাধা দিতে পারেনি।’ দেশে ফেরায় সহায়তার জন্য দেশবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরতে পেরেছি বলেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, রায়ও কার্যকর হবে।’
সিদ্দিকী নাজমুল আলমের পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও মুসা ইব্রাহীম।

No comments

Powered by Blogger.