প্রথম বড় মামলার রায়-কম্বোডীয় যুদ্ধাপরাধী ডুকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কম্বোডিয়ায় গণহত্যার দায়ে খেমাররুজ নেতা কাইং গুয়েক ইয়েভ ওরফে ডুকের আপিল আবেদন খারিজ করে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত কম্বোডিয়ার যুদ্ধাপরাধ আদালত গতকাল শুক্রবার এই সাজা দেন।


সত্তরের দশকে এস-২১ বন্দিশিবির নামে পরিচিত কারাগারের প্রধান ডুকই (৬৯) হলেন এই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত প্রথম শীর্ষ খেমাররুজ নেতা। তিনি ১৮ বছর ধরে কারাগারে বন্দী আছেন।
ডুককে ২০১০ সালে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।
গতকাল আপিল বিভাগের বিচারকেরা বলেন, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ডুককে আগে দেওয়া দণ্ড তাঁর অপরাধের তুলনায় লঘু ছিল। ডুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এস-২১ কারাগারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি অন্তত ১৫ হাজার বন্দীকে রাজধানী নমপেনের বাইরের একটি বধ্যভূমিতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন।
আপিলে ডুকের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছিলেন তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করছিলেন মাত্র। অন্যদিকে সরকারি কৌঁসুলিরা আরও বেশি সাজার দাবিতে আপিল করেন।
গতকাল শুনানি শেষে আদালত ডুককে আজীবন কারাবাসের দণ্ড দেন। আপিল বিভাগের সভাপতি কং স্রিম বলেন, ‘ডুক যে অপরাধ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে মানুষের ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধের একটি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করতেই আদালত এই সাজা দিয়েছেন।’
রায় ঘোষণার সময় ডুক নির্বিকার ছিলেন। আদালত থেকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়ার আগে সে দেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী বিচারকদের সঙ্গে গতানুগতিক করমর্দন করেন তিনি।
আদালতের এই চূড়ান্ত রায়ে কম্বোডিয়ায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনেরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
কিম হুয়ে নামের একজন কৃষক বলেন, ‘আমি খুব খুশি। এই ভেবে ভালো লাগছে যে, শেষমেশ আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।’ খেমাররুজদের শাসন চলাকালে কিমের স্বামীসহ ১৯ স্বজনকে হত্যা করা হয়।
কম্বোডিয়ায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত মাওবাদী খেমাররুজ দল ক্ষমতায় থাকাকালে অনাহার ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন কারণে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এএফপি ও রয়টার্স।

No comments

Powered by Blogger.