সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন-রমজানে বিদ্যুৎ-সংকট

রমজান মাস শুরু হয়েছে, একই সঙ্গে শুরু হয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ-সংকট। অবশ্য রমজান মাস শুরুর আগেই রাজধানীর বাইরে থেকে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে জনসাধারণের বিক্ষোভ ও বিদ্যুৎ কার্যালয় ভাঙচুরের খবর এসেছে।


রোববার রাতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটী শাসনগাঁওয়ের বাসিন্দারা বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়ক প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। রমজানের প্রথম দিনে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার কয়েকটি স্থানে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে, যার ফলে ওই মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
এসব দৃষ্টান্ত বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। সারা দেশেই বিদ্যুৎ-পরিস্থিতি কমবেশি একই রকম। সব এলাকার জনসাধারণ একই রকম হঠকারিতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে না বলে সৌভাগ্যজনকভাবে বৃহত্তর বিশৃঙ্খলা ঘটছে না। কিন্তু নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না, কখন কোন এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। রমজান মাসে বিশেষত ইফতার, তারাবি নামাজ ও সেহিরর সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না পেলে রোজাদার মানুষের ভোগান্তি হয়। কোন এলাকার মানুষ সেই ভোগান্তি নীরবে সহ্য করবে আর কোন এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে হঠকারী আচরণ করবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
বিদ্যুৎ কার্যালয়ে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ কখনোই বিদ্যুতের দাবি জানানোর পন্থা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে সবারই বিরত থাকা উচিত। আবার, জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের তৎপরতায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক না নড়ে, তাহলে সেটিও ভালো নয়। কর্তৃপক্ষের নির্বিকার আচরণের মধ্যেই থাকে জনসাধারণের বিক্ষুব্ধ হওয়ার ঝুঁকি।
এখন অজস্রবার আশ্বাসের পরও, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে অবস্থা, তাতে এই রমজানে প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ-পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রকৃত চাহিদার চেয়ে উৎপাদনের ঘাটতিই রয়েছে দেড় হাজার মেগাওয়াট। সরবরাহব্যবস্থায় নানা বিপত্তি, যান্ত্রিক ত্রুটি ইত্যাদি কারণে এই ঘাটতি আরও বেড়ে যেতে পারে। কর্তৃপক্ষগুলোর সূত্রে বলা হচ্ছে, বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে চলেছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না মূলত গ্যাসের স্বল্পতার কারণে। অদূর ভবিষ্যতে গ্যাসের স্বল্পতা দূর করে প্রাচুর্য আনা যাবে এমন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য বেশি প্রয়োজন সুব্যবস্থাপনা, নজরদারি ও জবাবদিহি। উৎপাদনকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও সঞ্চালন লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত নিয়মিত করা দরকার। বিদ্যুৎ চুরি, অপচয় ইত্যাদি বন্ধ করার কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে, সিস্টেম লস কমিয়ে আনতে হবে ন্যূনতম মাত্রায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ব্যবহারে মিতাচার নিশ্চিত করতে হবে। আর দীর্ঘ মেয়াদে অবশ্যই বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.