পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বিরোধী দল: আশরাফ-৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪ দলের মানববন্ধন

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। ‘গণতন্ত্র হত্যার চক্রান্ত এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নস্যাতের ষড়যন্ত্র’ মোকাবিলায় এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার তিন বছর পার করে এই প্রথম ১৪ দলের পক্ষ থেকে রাজপথের কর্মসূচি দেওয়া হলো।


গতকাল রোববার ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ কথা জানান। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ১৪ দল আরও কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। অশুভ শক্তি এ বিচার বানচাল করতে দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তাই চক্রান্ত মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৪ দল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিরোধী দল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’
সৈয়দ আশরাফ বলেন, গতকালের বৈঠকে অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ায় সেনাবাহিনীকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত চলছে। সেনা আইনে দোষীদের বিচার করার ঘোষণা দিয়েছে সেনাবাহিনী। এ ঘোষণাকে ১৪ দল স্বাগত জানিয়েছে। এ ঘটনায় বেসামরিক কেউ জড়িত থাকলে প্রচলিত আইনে বিচার করা হবে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন শেয়ারবাজার বিপর্যয়, দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি, যানজটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ের বাইরে অন্য আলোচনা উচিত নয়। তা ছাড়া কীভাবে ১৪ দলকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা দরকার।
বৈঠকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভাগীয় শহরগুলোয় মহাসমাবেশ করারও সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আব্দুল জলিল, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আব্দুল মান্নান খান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, এনামুল হক, জাকির হোসেন, অসিত বরণ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

No comments

Powered by Blogger.