মুক্তিযোদ্ধা রফিক হত্যা মামলার তদন্তে গতি নেই by সাহাদাত হোসেন পরশ

য়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম দুলাল হত্যা মামলার তদন্ত রহস্যজনক কারণে থমকে আছে। দীর্ঘদিন পরও চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর হত্যা হিসেবে রফিক হত্যা মামলাটি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলে। ২০১০ সালের ১৭ জুন রফিককে হত্যার পর ১৯ জুন ১৬ জনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় একটি মামলা করা


হয়। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সমকালকে জানান, রফিকের কললিস্টের সূত্র ধরে মোস্ট ওয়ানটেড এক ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে মামলার তদন্তে বড় ধরনের গতি আসবে। ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় থমকে
আছে মামলার তদন্ত কার্যক্রম।
ময়মনসিংহের এএসপি সফিউল্লাহ সমকালকে বলেন, আন্তরিকতার সঙ্গে রফিক হত্যা মামলার তদন্ত কাজ এগিয়ে চলছে। কললিস্টের সূত্র ধরে একজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে খোঁজা হচ্ছে।
রফিকুল ইসলামের শ্যালক মোঃ আল মামুন অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিন পরও মামলাটির তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে না। আসামিদের সবাই গ্রেফতার না হওয়ায় স্বজনরা হুমকিতে রয়েছেন। কয়েকজন আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাদের গ্রেফতার করছে না। এক নম্বর আসামি আবুল হোসেন দিপুকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি। ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধা রফিক হত্যার বিচার দাবি করেন নিহতের স্বজনরা। প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ময়নাতদন্ত নিয়ে নাটক : হত্যার দেড় বছর পর মুক্তিযোদ্ধা রফিকের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ময়নাতদন্ত পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড রফিকের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিমত দেন। আদালতের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষক ডা. আনোয়ার হোসেন, জুবায়ের ও হাবিবুজ্জামানের মেডিকেল বোর্ড ওই রিপোর্ট প্রদান করেন। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধা রফিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.