করাচির মাদ্রাসা থেকে শিকল পরানো অর্ধশতাধিক ব্যক্তি উদ্ধার

পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচির একটি মাদ্রাসার ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে (বেজমেন্ট) শিকল পরানো অবস্থায় শিশুসহ ৫০ জনেরও বেশি লোককে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৫ জন শিক্ষার্থী। গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার পাওয়া শিশুদের অভিযোগ, মাদক চিকিৎসার কথা বলে তাদের মাদ্রাসায় নেওয়া হলেও তালেবানের দলে ভেড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।


মধ্য করাচির সোহরাব গোথ এলাকায় অবস্থিত জামিয়া মসজিদ জাকারিয়া কনদালি নামে এ মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের অভিযানের খবর পেয়েই মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক কারি দাউদ পালিয়ে যান।
পুলিশ কর্মকর্তা মুখতিয়ার খাসখালি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অন্তত ১৮ জনের বয়স ২০ বা তার চেয়েও কম। এদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। বাকিদের বয়স চলি্লশের মধ্যে। পুলিশের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাও আনোয়ার বললেন, মাদ্রাসা কর্মকর্তাদের দাবি, শিকল পরানো লোকজনের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। মাদ্রাসায় মাদকাসক্তি নিরাময়ের একটি শাখা রয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছিল। মাদ্রাসার সামনে লাগানো একটি সাইনবোর্ডেও মাদকাসক্তদের চিকিৎসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বন্দিদের তাদের পরিবারই চিকিৎসার জন্য মাদ্রাসায় রেখে যায়। তবে তাদের বেড়ি পরিয়ে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক ও অবৈধ।
স্থানীয় টেলিভিশন সামা-এর ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মুক্তির পর শিশুরা আনন্দে নেচে উঠেছে। তারা জানায়, মাদ্রাসার লোকজন তাদের প্রায়ই মারধর করত। নিয়মিত খাবারও দেওয়া হতো না। তালেবানের দলে যোগ দেওয়ার চাপও ছিল বলে অভিযোগ করে তারা। এক শিক্ষার্থী জানায়, তালেবান সদস্যরা প্রায়ই মাদ্রাসায় আসত। মাদ্রাসার অধিকাংশ শিশুই করাচির। অল্প কয়েকটি শিশু পেশোয়ার থেকে এসেছে।
খাসখালি বললেন, এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে মাদ্রাসাটি জড়িত কি না, তারও তদন্ত হবে। সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র শারফুদ্দিন মেমোন বলেন, 'জঙ্গিবাদসহ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।' প্রসঙ্গত, করাচি সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী।
সম্প্রতি স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেল মাদ্রাসার শিকল পরানো ব্যক্তিদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর পুলিশ এ অভিযান চালাল।
পাকিস্তানের মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও জঙ্গিদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি হিসাব অনুসারে, দেশটিতে মাদ্রাসার সংখ্যা ১৫ হাজার ১৪৮টি। মাদ্রাসাগুলোতে অন্তত ২০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তবে কর্মকর্তাদের ধারণা, নিবন্ধন হয়নি এমন আরো কয়েক হাজার মাদ্রাসা রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার খরচ তুলনামূলক কম। ফলে বহু দরিদ্র পাকিস্তানির জন্য সন্তানকে শিক্ষিত করে তোলার একমাত্র ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয় এসব মাদ্রাসা। সূত্র : এএফপি, ডন।

No comments

Powered by Blogger.