স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের সুযোগ পাচ্ছে স্কটল্যান্ড

ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার প্রশ্নে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে স্কটল্যান্ড সরকার। ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ২০১৪ সালে স্বাধীনতার ব্যাপারে গণভোট আয়োজনের সম্মতি পাচ্ছে তারা। গতকাল সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যামন্ডের মধ্যে এ-সংক্রান্ত এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল।


এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেনের ৩০০ বছরের যুক্তরাজ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইংল্যান্ড, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস_এই চারটি প্রশাসনিক এলাকা নিয়েই গ্রেট ব্রিটেন। ১৬০৩ সাল থেকে স্কটল্যান্ড ব্রিটিশ সম্রাটের শাসনে পরিচালিত হচ্ছে। ১৭০৭ সাল থেকে স্কটল্যান্ড ও লন্ডন একই পার্লামেন্টের অধীনে আসে। ১৯৯৯ সালে এক গণভোটের পর স্কটল্যান্ডকে পৃথক পার্লামেন্ট গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বছর অ্যালেক্স স্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) স্কটল্যান্ডের ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসার পরপরই ৫০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবি তোলে দলটি। পররাষ্ট্র, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত আলাদা নীতির দাবিতে স্বাধীনতা দাবি করছে তারা। যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে স্কটল্যান্ড অর্থনৈতিক ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাবে বলে যুক্তি দিচ্ছে ব্রিটেন। তবে উত্তর সাগরে দুই হাজার ব্যারেল তেলের মজুদের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা রয়েছে।
ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জোট সরকার স্কটল্যান্ডকে আলাদা করে দেওয়ার যুক্তি সমর্থন করছে না। তবে তারা স্কটল্যান্ডকে নিজের ভাগ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে চায়। এ কারণেই ২০১৪ সালে স্বাধীনতার প্রশ্নে স্কটল্যান্ডকে গণভোট আয়োজনের অনুমতি দিতে যাচ্ছে তারা। বিরোধী লেবার পার্টি অবশ্য স্কটল্যান্ডের পৃথক হয়ে যাওয়ার যুক্তির ঘোর বিরোধিতা করছে।
গতকালের বৈঠকে ক্যামেরনের বক্তব্যের খসড়া আগেই প্রকাশ করে দেওয়া হয়। সেখানে ক্যামেরনের ভাষ্য ছিল, 'স্কটল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক সরকার আইনগত, স্বচ্ছ ও নিষ্পত্তিমূলক একটি গণভোট আয়োজনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। পৃথক স্কটল্যান্ড, নাকি ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাজ্য_এই প্রশ্নের জবাব পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। আমি যুক্তরাজ্যের পক্ষে খুবই ইতিবাচক যুক্তি তুলে ধরব। তবে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়ভার এখন স্কটল্যান্ডের নাগরিকদের।'
স্কটল্যান্ডে অবশ্য স্বাধীনতার পক্ষে এখনো জোরালো জনমত গড়ে ওঠেনি। জনমত জরিপগুলোতে স্বাধীনতার পক্ষে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট পড়ছে। বাকিরা যুক্তরাজ্য ব্যবস্থায় থাকার পক্ষে মত দিচ্ছে। গতকালের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে স্কটিশ সরকার প্রধান অ্যালেক্স স্যামন্ড বলেন, 'ক্যামেরন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে বিরাট এক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আরো পক্ষপাতহীন ও সমৃদ্ধ স্কটল্যান্ড গড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ২০১৪ সালে আমি 'হ্যাঁ' ভোটই আশা করব।' ১৩১৪ সালে স্কটিশ বাহিনীর হাতে ব্রিটিশ বাহিনীর পরাজয়ের ব্যানোকবার্ন যুদ্ধের ৭০০ বছর পূর্তি হচ্ছে ২০১৪ সালে। গণভোটের ওপর এর প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে স্কটিশ জাতিয়তাবাদীরা। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

No comments

Powered by Blogger.