২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-বিচার চলছে ঢিমেতালে by আশরাফ-উল-আলম

ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার আরো এক বছর পার হচ্ছে ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের ওই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ- হুজি নামের একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘ আট বছর হয়ে গেলেও এই লোমহর্ষক ঘটনার বিচার শেষ হয়নি।


এত দিন পরে মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়েছে, এমন দাবি সরকারের। এরপর এ বছর মামলার বিচারও শুরু হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। তবে বিচারের অগ্রগতি সামান্যই। বর্তমান আমলে বিচার শেষ করার আশা মহাজোট সরকারের। কিন্তু আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। তবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কেঁৗসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওই নারকীয় হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন শতাধিক। তদন্তে জানা গেছে, ওই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। তাঁকে উদ্দেশ্য করেই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও আহত হন। একটি কানের শ্রবণশক্তি হারান তিনি।
মোট তিন দফা তদন্ত হয়েছে গ্রেনেড হামলার। প্রথমে হয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে, কিন্তু কোনো প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। বরং ওই সরকারের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তারা মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ওই তদন্তে গ্রেনেডের উৎস ও গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার পেছনে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করা হয়নি অভিযোগে বর্তমান সরকারের আমলে আবার তদন্ত হয়।
২০০৯ সালে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর গত বছর ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিচার শুরু হতে কেটে যায় আরো আট মাস। অভিযোগপত্র দেওয়া হয় দুটি। একটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। আরেকটি বিস্ফোরক মামলা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুটি মামলাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল ৬১ জনের। পরে মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল থেকে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও দায়রা আদালতে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর অধিকতর তদন্ত হয়। অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর গত ১৯ মার্চ দুটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
সম্পূরক অভিযোগপত্র : গত বছর ৩ জুলাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলায় অধিকতর তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। উভয় মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। রয়েছে জঙ্গি সদস্যরাও।
নতুন করে ৩০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করায় এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২। ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া প্রথম চার্জশিটে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
অন্য অভিযুক্তরা : সম্পূরক চার্জশিটে অন্য যাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাঁরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বকস, ডিএমপির তৎকালীন উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, সাবেক উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, হুজির বর্তমান আমির মাওলানা শেখ ফরিদ, হুজির নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হান্নান ওরফে সাবি্বর, মাওলানা আবদুর রউফ, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার (বরখাস্ত), বিএনপির ঢাকা মহানগর শাখার নেতা ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুর রহমান, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, সিআইডির সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ ওরফে পরিবহন হানিফ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, বাবু ওরফে রাতুল বাবু, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন প্রমুখ।
সিআইডির সাবেক এসপি রুহুল আমিন জোট সরকারের আমলে এ মামলার তদন্ত তদারকি করতেন। সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান ও সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেন। একত্রে সেগুলো তদন্ত হয়। ঘটনার চার বছর পর ২০০৮ সালের ১১ জুন জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিআইডি। প্রথম চার্জশিটভুক্ত ২২ আসামির মধ্যে বর্তমানে সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ১৪ জন কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, ইকবাল (ঝিনাইদহ), মাওলানা আবু বকর (বরিশাল), খলিলুর রহমান (মাগুরা), জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর (দোহার, ঢাকা), মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার (গোপালগঞ্জ)। এ ছাড়া হুজির সদস্য আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মোত্তাকিন ভারতের তিহার কারাগারে আটক রয়েছে।
সেই ভয়াবহ দিনে আরো নিহত হন কুমিল্লার মেঘনা থানার হানিফ, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার আব্বাস উদ্দিন, চাঁদপুরের মতলবের আতিকুল্লাহ, ঢাকার সিপাহীবাগের রফিকুল ইসলাম, মাদারীপুরের রাজৈরের লিটন মুন্সী, কুষ্টিয়ার খোকসার মাহবুব আলম, জামালপুরের মেলান্দহের আমিনুল হক, মাদারীপুরের কালকিনির নাসির সরদার, পটুয়াখালীর দশমিনার মামুন মৃধা, হাজারীবাগের রোজিয়া, ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদীর হাছিনা মমতাজ, বরিশালের মুলাদীর মোস্তাক আহমেদ সেন্টু ওরফে কালা সেন্টু, ঢাকার আগামসি লেনের বেলাল হোসেন ও চাঁদপুরের হাইমচরের কুদ্দুস পাটওয়ারী। অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বিচারের অগ্রগতি : এ বছর ১৯ মার্চ তারেক, হারিছ, মুজাহিদসহ জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতা এবং বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতা-কর্মীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৯ মার্চ আবার বিচার শুরু হওয়ার পর গত চার মাসে বাদীসহ মাত্র দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। আরেকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, আরো ৬০ জনের মতো সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে বিচারকাজের যে গতি এই গতিতে চলতে থাকলে ৬০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণে আরো কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। এ জন্য বর্তমান সরকারের আমলে বিচারকাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
কেন এই ধীরগতি : ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১-এর বিশেষ এজলাসে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার চলছে। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আবু আবদুল্লাহ ভুঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, এ মামলায় যারা আসামি তারা সারা দেশে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি। কাজেই দেশের অন্যান্য আদালতেও আসামিদের নেওয়া হয়। ফলে ২১ আগস্ট হামলার বিচারিক ট্রাইব্যুনালের পক্ষে টানা বিচারকাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। জানা গেছে, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ তাঁর সহযোগীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত। সেখানকার মামলায়ও তাঁদের হাজির করা হয়। লুৎফুজ্জামান বাবর চট্টগ্রামের দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত। আবদুস সালাম পিন্টু নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বোমা হামলা মামলার আসামি।
বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আবু আবদুল্লাহ ভুঁইয়া আরো বলেন, এ ছাড়া আসামি পক্ষেরও মামলার বিচার বিলম্বিত করার একটা প্রবণতা রয়েছে। এখনো ৬০ জনের বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্য নিতে হবে। সে কারণে সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না কবে বিচার শেষ হবে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের চেষ্টা রয়েছে দ্রুত বিচারকাজ শেষ করার।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কেঁৗসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এ অবস্থা কটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ঈদের পরে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন বিচারকাজ চলবে। ফলে মামলা নিষ্পত্তি দ্রুত হবে।
পলাতক আসামি মো. হানিফের রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার বলেন, এভাবে বিচারকাজ চললে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। এ কারণে যেসব আসামির বিরুদ্ধে অন্য জেলায় মামলা রয়েছে, সেসব জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে মামলার তারিখ ধার্য করতে হবে। না হলে বিচারকাজের সময় নিয়ে সংশয় থেকে যাবে।
কর্মসূচি এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সপ্তম বছর পূর্তি উপলক্ষে ওই দিন সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন দলীয় নেতারা। এ ছাড়া গ্রেনেড হামলার ক্ষণ বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হবে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায়। গ্রেনেড হামলার বছর পূর্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান তাঁর বাণীতে ২১ আগস্টকে জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় আখ্যায়িত করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে বিপন্ন করার জন্য প্রতিক্রিয়াশীল চক্র এখনো সক্রিয়। তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ও ঐক্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, শান্তি ও উন্নয়নের ধারাকে স্তব্ধ করা। হত্যা, ষড়যন্ত্র, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির রাজত্বকে চিরস্থায়ী করা। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব মন্তব্য করে তিনি বলেন, কিন্তু তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার হত্যাকারীদের রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। একটি শান্তিপূর্ণ নিরাপদ স্বদেশ ও সন্ত্রাসমুক্ত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে ২১ আগস্টের শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

No comments

Powered by Blogger.