ট্রেনের সময়সূচী ভেঙ্গে পড়েছে, সদরঘাটে মানুষের ঢল by রাজন ভট্টাচার্য

ভেঙ্গে পড়েছে ট্রেনের সময়সূচী। দুই থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি বিলম্বে ছেড়ে গেছে অধিকাংশ ট্রেন। ঠাঁই নেই লঞ্চে। সদরঘাটে মানুষের ঢল। নৌমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শুক্রবার সদরঘাট থেকে একের পর এক লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে।


তবুও নৌপথে যে কোন সমস্যা সমাধানে নিজের মোবাইল নম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। লঞ্চে টিকেট কালোবাজারি ও বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ মিলেছে। বাস টার্মিনালগুলোতে সকাল ও বিকেলে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় বাড়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয় ঘরমুখো মানুষ। হাজারো বিড়ম্বনা নিয়েই ছুটছে সবাই। শত-কষ্ট আর যন্ত্রণার পরও ঈদ মোবারক জানিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি ঘাটে যাত্রীদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আছে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ। ঘাটের দুই পাড়েই বিভিন্ন পরিবহন থেকে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। স্পীডবোটেও গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কঠোর থাকলেও কাজের কাজ তেমন কিছুই হচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ঘাটের পরিস্থিতি অনেকটা সহনীয়। যাত্রী দুর্ভোগও কম। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবহন মালিক সিমিতির দাবি অনুযায়ী ঘাটের নিয়মিত পরিবহনগুলোতে স্টিকার সরবরাহ করা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী পরিবহনের জন্য ঘাট এলাকায় বাড়তি গাড়ি এসে যোগ হয়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। বাড়ে দুর্ভোগ। তাই দুর্ভোগ এড়াতে নিয়মিত পরিবহনগুলোতে স্টিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়া নদী পরাপারে স্পীডবোটের ভাড়া ১৩০ টাকা হলেও মাঝপথে যাত্রীদের জিম্মি করে ১৫০-২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। স্পীডবোট মাঝপথে যাওয়ার পরও বলা হয়, বাড়তি ভাড়া না দিলে যাবে না। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এই অরাজকতা সামলাতে শিবচর থানার টিএনও বৃহস্পতিবার বাধা দিলে তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও টাঙ্গাইল দুই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যেন যাত্রী ভোগান্তি ছাড়ছেই না। গত তিন দিন ধরে যানজট লেগেই আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয়। তবে এর মূল কারণ মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল, পণ্যবাহী পরিবহন ও লক্কড় ঝক্কড় বাস চলাচল। যদিও এসব কিছু চলার কথা ছিল না। এছাড়া বাড়তি উপদ্রব হলো সড়ক দুর্ঘটনা ও রাস্তা অবরোধ। শুক্রবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমকিরা বেতন বোনাসের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করলে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পাওয়া গেছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এ অবস্থা চলে। গাড়ি নষ্ট হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার কুটুম্বপুর থেকে সোনারগাঁওয়ের মোগড়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, একটি গাড়ি মহাসড়কে আড়াআড়িভাবে নষ্ট হওয়াই যানজটের মূল কারণ। যানজট এড়াতে মহাসড়কগুলোতে পর্যাপ্ত রেকার রাখার পরামর্শ দিয়েছিল পরিবহন মালিকরা। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে সে রকম কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। যে কারণে শুক্রবার ভোর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মহাসড়কে ধীরগতিতে চলে যানবাহন। কখনও বসে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

রাতভর দুর্ভোগ উত্তরবঙ্গের মানুষের
যানজটের কারণে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মহাসড়কে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে উত্তরবঙ্গের মানুষের। লক্কড় মার্কা গাড়ি ও ট্রাকে করে যাত্রী পরিবহন, ওভারটেকিং, মাঝপথে গাড়ি বিকল হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় উত্তরবঙ্গের পথে। নিদারুণ বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষকে। ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত যেতে সময় লেগেছে ৭-৮ ঘণ্টা। সাভারের বিকেএসপি থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সরু সড়কে বৃষ্টির মধ্যে কোথাও কোথাও গাড়িগুলো মাঝখান দিয়েই চলেছে। এছাড়া ট্রাক এবং লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলোতে যাত্রী পরিবহন এবং কিছু বাসের এলোমেলো যাতায়াত এবং মাঝপথে বিকল হয়ে পড়া গাড়ি যানজটের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ এবার গাবতলী ও চন্দ্রা ছাড়া কোথাও পুলিশ দেখা যায়নি। সকালে নবীনগর, বাইপাইল, বারইপাড়া এবং জিরাবো এলাকায় যানজট দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাম-দর করে যাত্রী উঠাচ্ছে। এছাড়া এলাকায় সড়কের পাশে বাজারগুলোতে ভিড় থাকায় নির্বিঘœ যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় কমেছে। শুক্রবার স্টেশনের চিত্র ছিল অনেকটা অন্যান্য দিনের মতোই। স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি মানুষের আনাগোনা থাকলেও উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়েনি। তবে ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠেছে স্টেশনজুড়ে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েন দূরপাল্লার অসংখ্য যাত্রী।
শুক্রবার সকাল ৯টায় রেলপথমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্টেশন পরিদর্শনে আসেন। মন্ত্রী প্লাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের খোঁজ-খবর নেন। মন্ত্রীকে পেয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক যাত্রী। তখন রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যাত্রীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমরা চেষ্টায় কোন ত্রুটি রাখিনি। এত বড় কর্মযজ্ঞে কিছুটা সমস্যা হতেই পারে। তবে এবারের সমস্যা অন্যান্য বারের তুলনায় খুবই নগণ্য। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, কেবল উত্তরবঙ্গের কয়েকটি ট্রেন ছাড়া অন্য সব ট্রেন ঠিক সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের ট্রেন সিডিউলে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। মন্ত্রী উপস্থিত যাত্রীদের ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে স্টেশন ত্যাগ করেন।
শুক্রবারও ট্রেনের সময়সূচী ঠিক রাখা সম্ভব হয়নি। এক কথায় ট্রেনের সিডিউল ভেঙ্গে পড়ে সকাল থেকেই। এক যাত্রী বলেন, ভোর ৬টা থেকে সুন্দরবন ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। ৬টা ২০ মিনিটে আসার কথা ছিল। এখন দুপুর ১১টা বাজে। কখন এসে যে পৌঁছায়, তার কোন সঠিক সময়ও স্টেশন থেকে জানাচ্ছে না। সন্তান ও পরিবার নিয়ে স্টেশনে সীমাহীন দুর্ভোগে আছি। এভাবেই ভোগান্তির কথা জানান রাজশাহীর যাত্রী নাদিয়া আহমেদ। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আসার কথা। কিন্তু দুপুর ১২টা পর্যন্ত ট্রেনটি স্টেশনে আসেনি। বাস্তবতা হলো সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশিরভাগ ট্রেন দুই থেকে ৬ ঘণ্টা বিলম্বে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। শুক্রবার যাত্রীদের অনেকে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ করেন।

সায়েদাবাদ গাবতলী মহাখালী
মহাখালী বাস টার্মিনালে সব রুটের যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেখভালের জন্য ভিজিলেন্স টিম থাকার কথা থাকলেও তাদের তৎপরতা নেই। শুক্রবার সকালের দিকে সেখানে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনালে ভিড় কমতে থাকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি বাস কাউন্টারে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। দূরত্ব বিবেচনায় ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেয়ার অভিযোগ করেন ঘরমুখো মানুষ। সিরাজগঞ্জ রুটের অভি এন্টারপ্রাইজ, এসআই, রাজীব, সিরাজগঞ্জ স্পেশাল, স্টারলিট ক্লাসিক ভাড়া নিচ্ছে ৩০০ টাকা। কিন্তু এ রুটের নিয়মিত ভাড়া ২২০ টাকা। উত্তরবঙ্গগামী টিআর ট্রাভেলস, এসআর ট্রাভেলস, আরবি, পিংকি পরিবহন, একতা, শাহ ফতেহ আলী দূরত্ব অনুযায়ী তাদের নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি আদায় করছে। টাঙ্গাইলের নিরালা পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে ৩০০ টাকা। তাদের নিয়মিত ভাড়া ২০০ টাকা। কিশোরগঞ্জের অনন্যা পরিবহন ১৭০ টাকার স্থলে নিচ্ছে ২৫০ টাকা। নেত্রকোনার শাহজালাল পরিবহনের ভাড়া ২২০ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত। টার্মিনালে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও র‌্যাবের ভিজিলেন্স টিম থাকার কথা থাকলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তেমন কোন ভিড় চোখে পড়েনি। তবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। মহাখালীতে যাত্রী ভোগান্তি কমেছে। সময়মতো বেশিরভাগ বাস ছেড়ে যায়। তবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীদের কেউ কেউ।

সদরঘাটে বাড়তি ভাড়া আর বাড়তি যাত্রী

বাড়তি ভাড়া আদায় আর বাড়তি যাত্রী নিয়ে শুক্রবার সদরঘাট থেকে ছেড়ে গেছে বেশিরভাগ লঞ্চ। কেউ কেউ টিকেট কালোবাজারির অভিযোগও করেছেন। নদীপথে বাড়ি যেতে ভোর থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। একেকটি লঞ্চ এলেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। লঞ্চ টার্মিনাল সূত্রে জানা গেছে, ভোর ছয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬৭টি লঞ্চ এসেছে। এর মধ্যে ১৩টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে আবার গন্তব্যের উদ্দেশে চলে গেছে। প্রত্যেকটি লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। মুন্সীগজ্ঞ, চাঁদপুর শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, মাদারীপুর, ও বরগুনাগামী লঞ্চগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ এসব রুটে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওনা করেছেন ঢাকার মানুষ। এদিকে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রোভার স্কাউট সমন্বয়ে সেবামূলক সংগঠন গঠন করা হয়েছে। সকালে এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সদরঘাট টার্মিনালে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, দুই ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের সেবার মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই সংগঠনের উদ্বোধন করা হচ্ছে। সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধ করার ব্যাপারে কাজ করবে।
নৌমন্ত্রী লঞ্চ মালিকদের উদ্দেশে বলেন, অধিক মুনাফার চিন্তা না করে যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার দিকে নজর দিয়ে লঞ্চ চালাবেন। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করবেন না। মন্ত্রী এ সময় বলেন, সরকারের নির্ধারিত ভাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে না যেতে বার বার বারণ করা হচ্ছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা যেমন বলছেন, সব ঠিক। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন হচ্ছে না। তেমনি বাড়ি ফেরা মানুষের মনেও কোন ভয় নেই।

মোবাইল নম্বর দিলেন নৌমন্ত্রী
নৌ-সেক্টরে কোন অভিযোগ থাকলে আমাকে জানাবেন। একথা বলেই নিজের মোবাইল নম্বরের ডিজিট বলতে থাকেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। শুক্রবার সকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এক অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিতেই এলাকাজুড়ে অরাজকতার শেষ ছিল না। তিন-চারগুণ যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে লঞ্চ ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।
নিজের মোবাইল নম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কোন যাত্রীর যদি কোন অভিযোগ থাকে, তাহলে যেন সরাসরি ০১৭১১৬৩৮১৯৮ নম্বরে আমাকে ফোন করে।
নম্বর প্রকাশের পর নৌমন্ত্রী দাবি করেন, মানুষ আগের তুলনায় অনেক সচেতন হয়েছেন। তাঁরা আর ছাদে যেতে চান না! শুক্রবার সকালে সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ৩৩টি লঞ্চের অধিকাংশের ছাদেই বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে দেখা যায়। মন্ত্রী ঘাটে আসার পরও ছাদ বোঝাই করে যাত্রী নিয়ে সদরঘাট ছেড়ে যায় লঞ্চ কালাম খান-১, সুন্দরবন-৬ ও ৮, আঁচল-৫ ও ৬, দ্বীপরাজ-৪ এবং রাজহংস। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শাজাহান খান বলেন, ছাদে যাত্রী ওঠা নিষেধ। তবে যাত্রীর চাপ থাকলে অনেক সময় অনেক কিছু সামাল দেয়া যায় না।

No comments

Powered by Blogger.