সাকিবকে পেয়ে অভিভূত চট্টগ্রামবাসী

সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার, তার চেয়েও বড় পরিচয় বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। আগে অনেকবার চট্টগ্রাম এসেছেন, খেলার টানে। জাতীয় দলের হয়ে। এই প্রথম তিনি চট্টগ্রামে পা রাখলেন অতিথি হয়ে।


চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) আয়োজিত ক্রিকেট ট্রেনিং একাডেমি অনূর্ধ্ব-১৮ টোয়েন্টি টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে তাঁর এই আগমন। তাদের কিছু টিপস দিতে, যাতে ভবিষ্যতে তারা দেশের পতাকা বইতে পারে।
আর দেবেই না বা কেন? এই চট্টগ্রাম সাকিবকে তো কম দেয়নি। এর আগে আটটি টেস্ট ও ১১টি এক দিনের ম্যাচ খেলেছেন সাকিব চট্টগ্রাম জহুর আহম্মদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এই মাঠেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক ইনিংসে ৩৬ রান দিয়ে সাত উইকেট সাকিবের রেকর্ডবুকে এখন পর্যন্ত সেরা। শুধু তা-ই নয়, ২০০৮ সালের ওই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলে ১১৫ রানে নয় উইকেট সংগ্রহও সাকিবের টেস্টসেরা বোলিং।
তাইতো আমন্ত্রণ পেয়েই ছুটলেন। ‘সাকিব না করেননি। অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটারদের মোটিভেট করা জাতীয় ক্রিকেটারদের দায়িত্বও বটে’—বললেন সাকিবকে চট্টগ্রাম আনার অন্যতম উদ্যোক্তা চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি আলী আব্বাস।
সাকিবের চট্টগ্রাম আসার কথা শুনে গত বৃহস্পতিবার এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখে মানুষের ভিড় জমে গিয়েছিল। হুড়োহুড়ি ঠেলে সাকিবকে স্টেডিয়ামে ঢোকাতে-বের করতে আয়োজকদের গলদঘর্ম।
আর সাকিবও খ্যাতির এই বিড়ম্বনাটাকে ভালোভাবেই নিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘এখানে এসে ভালো লেগেছে। তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে খারাপ লাগেনি।’
এর আগে সাকিব চট্টগ্রাম এসে ওঠেন চট্টগ্রাম ক্লাবে। সেখানেই দুপুরের খাবার খেয়েছেন। চট্টগ্রামের আতিথ্য অতিথিদের মুগ্ধ না করে পারেই না। সেটা বেশ টের পেয়েছেন তিনি, যখন স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক তাঁর নামে হর্ষধ্বনি দিচ্ছে, তখন। রাশি রাশি ফুল ছিটিয়ে, বাদ্য বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে বরণ করে নিল ক্রিকেটের এই রাজপুত্রকে। তাঁর একটি অটোগ্রাফ, একটি ছবি তুলতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বুড়ো সংগঠকেরাও যেভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন, তা বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডারকে মুগ্ধ না করে পারেই না।
আর বক্তৃতাতেও ছিল সাকিব-বন্দনা। সিজেকেএসের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন ১০ মিনিট ধরে সাকিবের জয়গান গেয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারকে আমাদের মাঝে পেয়ে আমরা অভিভূত, মুগ্ধ। আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাই যে চট্টগ্রামবাসীর ডাকে তিনি সাড়া দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও আমরা তাঁকে এখানে চাইব।’

No comments

Powered by Blogger.