ডিম, মুরগি ও কিছু সবজি ক্রেতার ভোগান্তি বাড়াচ্ছে

শীতের সবজিই বেশ কিছুদিন ধরে টিকিয়ে রেখেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। সবজির দাম কম ছিল বলে থলেভর্তি বাজার নিয়ে বাসায় ফিরতে পেরেছিলেন ক্রেতারা। এখনো সবজির দাম হাতের নাগালে। তবে কিছু সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে।


তবে গত কয়েক দিনে ক্রেতাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মুরগি ও ডিম। এগুলোর দাম বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। জানুয়ারির শেষ দিকে আদা-রসুন সাধারণ মানুষকে ভোগালেও কমে এসেছে এই পণ্য দুটির দাম।
এদিকে সরকারি নির্দেশ তোয়াক্কা না করে বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। চিনি, ডাল ও চালের দামে তেমন হেরফের নেই। বেড়েছে গুঁড়ো দুধ ও শিশুখাদ্যের দাম।
তরিতরকারি: গতকাল সোমবার রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন ১৫-২৫, মুলা ১৫-২০, পেঁপে ১৫-২৫, শিম ২৫-৩০, গাজর ১৫-২০, আলু ১০-১২ ও শসা ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের প্রতিটি লাউ মিলছে ৩০-৩৫ টাকায়। এই সবজিগুলোর দামে খুব বেশি হেরফের হয়নি।
তবে দুই সপ্তাহ আগেও যে করলা বিক্রি হয়েছে ৩০-৩৫ টাকায়, সেই করলা এখন ক্রেতাকে কিনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দামে, ৬০-৬৫ টাকায়। কাঁচকলার দামও হালিপ্রতি পাঁচ টাকা বেড়ে হয়েছে ২০ টাকা।
ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে এখন বাজার ভর্তি, দামও ক্রেতার কিছুটা সাধ্যের মধ্যে। প্রতিটি কপি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়। অবশ্য বড় আকারের কপি কিনতে ২৫ টাকাও গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে। জানুয়ারিতে মরিচের কেজিই ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এখন ১০০ গ্রাম কিনতে খরচ হচ্ছে ১০ টাকা।
কমেছে আদা-রসুনের দাম: জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাইকারি ও খুচরা দুই বাজারেই বেড়েছিল আদা-রসুনের দাম। তবে মূল্যবৃদ্ধির তেজিভাব কিছুটা কমেছে। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে গতকাল প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬০ টাকায়, যা ১০ দিন আগেও ছিল ৭০-৮০ টাকা। আর রসুন বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬০ টাকায়। এর দাম কমেছে পাঁচ টাকা।
খুচরা বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজার শ্যামবাজারেও কমেছে আদা-রসুনের দাম। গতকাল সেখানে চীনা আদা বিক্রি হয়েছে ৩৫-৩৬ টাকায়। দেশি রসুন ৩৫ ও চীনা রসুন ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কম দামে। দেশি পেঁয়াজ ১৮ ও ভারতীয় পেঁয়াজ ২০ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১২-১৩ ও ভারতীয় পেঁয়াজ ১৭-১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি: জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৩৫ টাকা। তবে গতকাল এই মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকায়। গত এক সপ্তাহে মুরগির দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা। পাকিস্তানি মুরগির দামও বেড়েছে। ছোট আকারের (৫০০-৬০০ গ্রাম) ওজনের এই মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়। আর মাঝারি আকারের (৭০০ গ্রাম) দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১৮০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতারা জানান, কাপ্তান বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাঁরা মুরগি পাচ্ছেন না। সে কারণে বেশি দামে কিনতে ও বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের।
বাড়ছে ডিমের দামও। এক হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৪ টাকায়।
বৃদ্ধির তালিকায় গুঁড়ো দুধ ও শিশুখাদ্য: গত মাসে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ৫০০ গ্রামের ডিপ্লোমা গুঁড়ো দুধ ২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ৪০০, ২০০ ও ১০০ গ্রাম ওজনের ডিপ্লোমা দুধের দাম বাড়েনি। ৫০০ ও ৪০০ গ্রাম ওজনের ডানো দুধ বিক্রি হচ্ছে ২৯৮ ও ২৪৮ টাকায়। ৪০০ গ্রাম ওজনের রেড কাউ বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই, ১৯৮ টাকায়।
শিশুখাদ্যের দামও বেড়েছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের ল্যাকটোজেনের (১) দাম ৩৭০ থেকে বেড়ে ৪১০ টাকা হয়েছে। আর একই পরিমাণ ল্যাকটোজেনের (২ ও ৩) দর ৩৬৫ থেকে বেড়ে ৪০০ টাকা হয়েছে।
অন্যান্য পণ্য: বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১৮-১২০ টাকা লিটার। এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৩০-১৩৫ ও পাঁচ লিটারের তেল ৬৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির কেজি এখন ৫৮-৬০ টাকা। মসুর ডাল ছোট দানা ৯০-৯৫ এবং বড় দানা বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়।

No comments

Powered by Blogger.