টিআরের বরাদ্দে পুকুর ভরাট by কল্যাণ ব্যানার্জি

সংস্কারের নামে টিআরের টাকা ও গম বরাদ্দ নিয়ে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পুকুর ভরাট চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী, পৌর এলাকায় পুকুর ভরাট করা যায় না। বিষয়টি জানার পরও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্র মুনজিতপুরে ১৯০০ সালের প্রথম দিকে সাতক্ষীরা বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় বিদ্যালয়ের ভেতরে খনন করা হয় একটি পুকুর। পুকুরের পানি আশপাশের মানুষও ব্যবহার করত। ১৯৭৬ সালের শেষের দিকে ছাত্রীদের নিরাপত্তার অজুহাতে বিদ্যালয়ের চারধারে প্রাচীর দিয়ে জনসাধারণের জন্য পুকুরটির ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে খুলনার কয়রা উপজেলার মদিনাবাড়ির ডুবসাঁতারু নওশের আলী ওই পুকুরে ২৪ ঘণ্টা ডুব দিয়ে থেকে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খাদ্য ও দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির জারি করা পরিপত্রের ৪ ধারার জ-এর ৪ নম্বরে বলা হয়েছে, পুকুর বা জলাশয় ভরাটের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। একইভাবে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এর ধারা ৫ ও ১২ (২) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৯৫-এর ধারা ৬ (ঙ) মতে, পৌর এলাকায় কোনো পুকুর কিংবা জলাধার ভরাট করা যাবে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সরকারি বিদ্যালয়ের পুকুরটিতে যথেষ্ট গভীরতা রয়েছে। আছে পাকা ঘাট। এর পরও ট্রলিতে করে মাটি এনে পুকুর ভরাট করা হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরতলির তালতলা এলাকার ঠিকাদার নূরুল হক পুকুর ভরাট করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে। ট্রলিচালক আরিফুর ইসলাম ও আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, দুই সপ্তাহ ধরে তাঁরা চারটি ট্রলিতে মাটি এনে বিদ্যালয়ের পুকুরটি ভরাট করে চলেছেন। এ পর্যন্ত তাঁরা ৫০ ট্রলির মতো মাটি ফেলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের মধ্যে যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। মাঠের জন্য যে জায়গা রয়েছে, তা ঠিকমতো ব্যবহার হয় না। অথচ মাঠ বড় করার অজুহাতে প্রধান শিক্ষিকাসহ কয়েকজন শিক্ষক পুকুরটি ভরাট করছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম জানান, পুকুরটি এখন ডোবায় পরিণত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাঠ বড় করার প্রয়োজন হওয়ায় তাঁরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে পুকুরটি ভরাট করছেন। এ জন্য সাংসদ এম এ জব্বার দুই বারে ৫০ হাজার টাকা ও দুই টন গম দিয়েছেন।
সাংসদ এম এ জব্বার জানান, তিনি পুকুর ভরাটের জন্য টিআরের গম কিংবা টাকা দিতে পারেন না। পুকুর সংস্কারের জন্য টাকা ও গম দিয়েছেন। আইন না মেনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি পুকুর ভরাট করে, এ ব্যাপারে প্রকল্প কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.