ত্রুটিপূর্ণ নকশার ৭ হাজার বাড়ি নিয়ে বেকায়দায় রাজউক by হামিম উল কবির

অনুমোদনপ্রাপ্ত তবে  ত্রুটিপূর্ণ নকশার সাত হাজার বাড়ি নিয়ে বেকায়দায় রাজউক। গত তিন-চার বছর এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ বাড়ি বানানোর প্রবণতা বেশি বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ ধরনের বাড়ির সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার। নখ-দন্তহীনের মতো রাজউক শুধু শনাক্তই করে যাচ্ছে, কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে সংস্থাটি।

ত্রুটিপূর্ণ এসব বাড়ি ভেঙে ফেলার জন্য রাজউক নোটিশ দিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চূড়ান্ত নোটিশও দেয়া হয়েছে। কিন্তু রাজউকে কেউ পাত্তা দিতে চাচ্ছে না। রাজউক থেকে এক ধরনের নকশা অনুমোদন করিয়ে নেয়া হয়; কিন্তু বাড়ি নির্মাণ হয় অন্য নকশা অনুসরণ করে। এ সমস্যা অনেক দিনের হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর প্রবণতা বেড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, রাজউক এ ধরনের সাত হাজার বাড়ি শনাক্ত করেছে। মালিকদের নোটিশ দেয়া হয়েছে বাড়িগুলো ভাঙার জন্য। তবে তিনি বলেন, রাজউকে জনবলের অভাব রয়েছে। এসব কারণে আমরা প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারি না। ভাঙার যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে। ফলে বাড়িগুলো ভাঙা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে রাজউক চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, প্রভাবশালীরাই সবচেয়ে বেশি এ ধরনের বাড়ি নির্মাণ করছেন। তারা এত বেশি বেপরোয়া যে ১০ তলার অনুমোদন নিয়ে ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। তাদের সহযোগিতা করে থাকে রাজউকেরই কিছু লোক। অভিযোগ রয়েছে, ‘রাজউকের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব লোকদের সহযোগিতা করে থাকে টাকার বিনিময়ে। তারা অনেক সময় রাজউককে সত্য তথ্যটিও জানান না। জানালেও তথ্য এমনভাবে পরিবেশন করা হয়  যাতে মনে হয় কোনো সমস্যা নেই।

জানা গেছে, ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন করা নকশা অনুসরণ না করার তথ্য বেশি পাওয়া যায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। তারাই রাজউকে আবেদন করছে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। কিন্তু রাজউক ভবনগুলোর বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবস্থা নেয় না।

লক্ষ করা গেছে, রাজউক বাধ্য হয়ে কোনো ভবন ভাঙতে গেলেও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর লোকেরা উচ্চ আদালতে চলে যাচ্ছেন। আদালতে রিট করা হলে রাজউক আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সে বাড়ির ধারে কাছেও যায় না। এ ব্যাপারে রাজউকের একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার বক্তব্য, এসব নকশা বিচ্যুত বাড়িঘর নিয়ে উভয় সঙ্কটে আছে রাজউক। তিনি জানান, রাজউক মানুষের বসবাস আছে এমন বাড়িতে যাচ্ছে না। তারা শুধু নির্মাণাধীন বাড়িগুলো যেন ত্রুটিহীনভাবে নির্মিত হয় সেদিকে নজর দিয়েছে। তবে রাজউকের সে পরিকল্পনাও নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতার কারণে সফল হচ্ছে না। নির্মাণাধীন বাড়িতে রাজউক পরিদর্শক গিয়ে টাকা নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
       


No comments

Powered by Blogger.