এভারেস্ট: মুহিতের উত্তর দক্ষিণ বিজয় by তৌহিদা শিরোপা কাঠমান্ডু

পরপর দুবার এভারেস্ট জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন বাংলাদেশি তরুণ এম এ মুহিত। তাঁর কাছে দুবারের অনুভূতিও দুই রকম। কেননা তিনি দুইবার দুই পথে এভারেস্ট অভিযানে গেছেন। প্রথমবার তিব্বত অংশে উত্তর দিক (নর্থ ফেস) দিয়ে ২০১১ সালের ২১ মে তিনি এভারেস্ট জয় করেছিলেন।


আর এবার ১৯ মে নেপাল অংশে দক্ষিণ দিক (সাউথ ফেস) দিয়ে। এবার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম নারী নিশাত মজুমদার।
‘দুইবার দুই দিক দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, তিব্বতের চেয়ে নেপাল অংশ দিয়ে এভারেস্ট অভিযান অনেক কষ্টসাধ্য, বিপৎসংকুল এবং ভয়ংকর। নেপালের বেসক্যাম্প থেকে ক্যাম্প-১-এর পথটাও বাঁকে বাঁকে বিপদসংকুল। কুম্বু হিমবাহ অঞ্চলের পথ তো ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হয়। সামিট করতে যাওয়ার আগে দেখেছি একরকম পথ, ফেরার সময় বরফ গলে, তুষার ধসে সেই পথ আর নেই। তাই তো এবারের জয়ের আনন্দটা প্রথমবারের থেকে কোনো অংশে কম নয়।’ বলেন মুহিত।
আসলে কিছু সুবিধা-অসুবিধা দুই দিকেরই আছে। তিব্বত অংশ হিমালয়ের উত্তর দিকে। আর নেপাল দক্ষিণ দিকে। ফলে বঙ্গোপসাগরের মৌসুমি জলবায়ু হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বৃষ্টি পড়ে। আর দক্ষিণ দিক নেপালে, তাই গাছপালা আছে। পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাওয়া যায়। ঠিক এর বিপরীত অবস্থা তিব্বতে। প্রচণ্ড রুক্ষ, শুষ্ক এর আবহাওয়া। অক্সিজেনের স্বল্পতা এখানে। আর এভারেস্টের যত ওপরের দিকে ওঠা হয় ততই অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দিতে থাকে। তিব্বতের যেহেতু সমতলেই অক্সিজেন কম, ফলে এদিক দিয়ে আরও কম অক্সিজেনযুক্ত স্থানের দিকে গেলে শারীরিক কোনো অসুবিধা হয় না। যা নেপাল অংশে হয়। বেশি অক্সিজেনযুক্ত এলাকা থেকে দ্রুত কম অক্সিজেনযুক্ত জায়গার দিকে গেলে শরীরে অসুবিধা হয়। তিব্বতের বেসক্যাম্প ৫২০০ মিটার উচ্চতায়। এখানে গাড়িতে যাওয়া যায়। কিন্তু নেপালে লুকলা থেকে বেসক্যাম্প পর্যন্ত যেতে সাত দিন হাঁটতে হয়েছিল। এতে চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে অবশ্য শরীর খাপ খেয়ে যায়। দুই দিকের অভিযান আসলেই পুরোপুরি ভিন্ন। তবে এভারেস্ট জয়ের স্বাদ একই রকম।’

No comments

Powered by Blogger.