প্রশ্নোত্তর by ষ মোঃ হাবিবুর রহমান

প্রশ্ন : এক ছোট বাচ্চার বয়স এক বছর আট মাস। সে অন্য খাবার মুখে নিতে চায় না। অনেকটা বুকের দুধের ওপরই নির্ভরশীল। আমার জানার বিষয় হলো, শিশুকে সর্বোচ্চ কতদিন বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে? উত্তর : শিশুকে বুকের দুধপান করানোর সময়সীমা হলো, জন্ম থেকে চান্দ্র মাস হিসেবে দু'বছর।


এরপর শিশুকে বুকের দুধপান করানো জায়েজ নয়। কোরআন, হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িগণের বর্ণনামতে এটাই প্রমাণিত ও অনুসরণীয়।
ষ জান্নাতুল মাওয়া প্রাপ্তি, হাসাননগর দাউদকান্দি, কমিল্লা
প্রশ্ন : আম্মার দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার শক্তি নেই। কিন্তু বসে নামাজ আদায় করতে পারেন। তার জন্য বসে ফরজ নামাজ আদায় করা শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর : হ্যাঁ, দাঁড়িয়ে আদায় করা সম্ভব না হলে ফরজ নামাজও বসে আদায় করা জায়েজ।
ষ মোহাম্মদ রফিকুল আনোয়ার, গলাচিপা বাউফল, পটুয়াখালী
প্রশ্ন : অনেক জায়গায় কাউকে ডেকে পাঠাতে হলে বলা হয়, তাকে গিয়ে আমার সালাম বলবে। এরূপ বললে তিনি বুঝতে পারেন যে, তাকে ডাকা হচ্ছে, তখন তিনি চলে আসেন। আবার কখনও কাউকে ডাকতে পাঠালেও সেও গিয়ে বলে, অমুক আপনাকে সালাম দিয়েছেন। সালামের এরূপ ব্যবহার জায়েজ আছে কি? এমতাবস্থায় সালামের জবাব দিতে হবে কি-না?
উত্তর : কাউকে ডাকার জন্য অমুক আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এভাবে বলা জায়েজ হলেও তা অনুচিত। কেননা সালাম শরিয়তের একটি বিশেষ পরিভাষা। এটা শরয়ী ক্ষেত্র ছাড়া যথেচ্ছ ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কাউকে ডাকার ক্ষেত্রে সালাম শব্দ ব্যবহার না করাই বাঞ্ছনীয়। এখানে যেহেতু সালাম দেওয়া বা পাঠানো উদ্দেশ্য থাকে না তাই এর জবাব দেওয়াও জরুরি নয়।
ষ শাহনাজ পারভীন, লালমাটিয়া, ঢাকা
প্রশ্ন : আমার দাদি খুব অসুস্থ। বসেও নামাজ পড়তে পারেন না। তিনি কীভাবে নামাজ পড়বেন?
উত্তর : এমতাবস্থায় আপনার দাদি শুয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে আদায় করবেন। তবে রুকুর তুলনায় সিজদার জন্য মাথা বেশি ঝোঁকাতে হবে। শোয়া অবস্থায় নামাজ পড়ার নিয়ম হলো_ ক. পা পশ্চিম দিকে, মাথা পূর্ব দিক দিয়ে চিত হয়ে শোয়া। সম্ভব হলে পিঠ ও মাথার নিচে বালিশ ইত্যাদি দিয়ে উঁচু করে নেওয়া_ যেন বুক ও মুখ পশ্চিমমুখী হয়ে থাকে। পা পশ্চিম দিকে সোজাও করা যাবে। সম্ভব হলে হাঁটু ভাঁজ করে রাখবে। ২. মাথা উত্তর দিকে এবং পা দক্ষিণ দিকে রেখে শুবে। এভাবে ডান কাতে শুয়ে বুক ও মুখ কেবলার দিক করে রাখবে। ৩. মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা উত্তর দিকে করে শুবে। এভাবে বাম কাত হয়ে শুয়ে মুখ ও বুক কেবলার দিকে রাখবে।
তবে উপরোলিল্গখিত পদ্ধতির কোনোটি সম্ভব না হলে যেভাবে শোয়া সম্ভব সেভাবে শুয়ে মাথা নেড়ে রুকু-সিজদা করবে। আর সব ক্ষেত্রেই সিজদার জন্য রুকুর চেয়ে মাথা কিছুটা বেশি সময় ঝোঁকাবে। মাথা নাড়ার ক্ষমতা থাকা পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে হবে।
ষ মারুফ ইসলাম, উত্তরা, ঢাকা
প্রশ্ন : আমার একটি দাঁত নষ্ট। ডাক্তারের পরামর্শে আমি দাঁতে সোনার ক্যাপ ব্যবহার করতে পারব কি?
উত্তর : হ্যাঁ, দাঁতে স্বর্ণের ক্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। এটি নাজায়েজ নয়।
ষ রুমা ইসলাম তন্বী, খিলগাঁও, ঢাকা
প্রশ্ন : আমি দুর্ঘটনায় হাত, পা-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা পেয়েছি। হাতের জখমে ব্যান্ডেজ রয়েছে, যা এক ঘণ্টা পরপর পরিবর্তন করতে হয়। আমি অজুর সময় ব্যান্ডেজের ওপরই পানি দিয়ে মুছে দেই। এখন জানতে চাই, ব্যান্ডেজ খোলার কারণে কি অজু ভেঙে যাবে?
উত্তর : ক্ষত ভালো হওয়ার আগে ব্যান্ডেজ খুলে গেলে বা খোলা হলে অজু বা মাসেহ কিছুই নষ্ট হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যান্ডেজ পরিবর্তনের পর পুনরায় মাসেহ করে নেওয়া উত্তম। হ্যাঁ, ক্ষত ভালো হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যান্ডেজ খুলে গেলে বা খোলা হলে পূর্বের মাসেহ নষ্ট হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতস্থান ধুয়ে নিলে পূর্বের অজু বহাল বলে গণ্য হবে।
ষ মুহাম্মদ রিয়াজুদ্দীন, পাগলা, নারায়ণগঞ্জ
প্রশ্ন : কবরের কাছে কোরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ আছে কি? তেলাওয়াত শেষে মৃতের জন্য হাত তুলে দোয়া করা জায়েজ হবে কি-না? দোয়ার সময় কোন দিকে ফিরে দোয়া করা উত্তম?
উত্তর : কবরের কাছে কোরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ। তেলাওয়াত শেষে কিবলামুখী হয়ে কবরকে পেছনে রেখে দু'হাত তুলে মৃতের জন্য দোয়া করাও জায়েজ।
ষ মোঃ আবু তাহের, মাইজদী, নোয়াখালী
প্রশ্ন : কেউ নামাজি ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে তার করণীয় কী? সে তাকে বাধা দেবে, না দেবে না? কোনটি উত্তম?
উত্তর : নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে হাতের ইশারা কিংবা তাসবিহ জোরে পড়ে সতর্ক করা জায়েজ আছে। তবে নামাজির জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়াই শ্রেয়। উলেল্গখ্য, নামাজির সামনে দিয়ে কারও অতিক্রম করার আশঙ্কা থাকলে সুতরা (কোনো বস্তু বা আবরণী) সামনে রাখা সুন্নত।
উত্তর দিয়েছেন
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
 

No comments

Powered by Blogger.